কেঁচো সার উৎপাদনে সফল ইহান ভার্মি কম্পোস্ট

কেঁচো সার উৎপাদনে সফল ইহান ভার্মি কম্পোস্ট।
জৈব বস্তুকে বিশেষ প্রজাতির কেঁচোর সাহায্যে খুব অল্প সময়ে জমিতে ব্যবহার উপযোগী জৈব সার তৈরির প্রক্রিয়াকে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার বলা হয়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাষাবাদে জনপ্রিয় ও প্রয়োজনীয় উপাদান হয়ে উঠেছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট। ইতিমধ্যে ভার্মি কম্পোস্টের উদ্যোক্তারা বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন এবং অনেকেই নতুনভাবে এই সার উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
পরিবেশবান্ধব এ সার উৎপাদনে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয় গোবর, এছাড়াও ধান বা গমের খড়, মুগ/কলাই/গমের খোসা, তুষ অথবা রান্নার কাজে ব্যবহৃত কিছু নির্দিষ্ট কিছু সবজির খোসা দিয়ে খুব সহজেই বাড়ির আঙিনায় এ সার উৎপাদন করে অল্প সময়েই লাভবান হচ্ছেন উদ্যোক্তারা।ফরিদপুরের ছেলে ইহান এমনি একজন উদ্যোক্তা। ইহান ভার্মি কম্পোস্টের মালিক জনাব ইহান প্রথমে মাত্র ৪ টি রিং স্লাপ দিয়ে শুরু করেছিলেন সার উৎপাদন, যা বর্তমানে চাহিদার প্রেক্ষিতে পরিসর বৃদ্ধির মাধ্যমে ৩০ বাই ৩০ ফিট একটি হাউজ এবং ১০ টি রিং স্লাপে রূপান্তরিত হয়েছে। জনাব ইহান জানান, বর্তমান কৃষক, মাছচাষী এবং বাগানী ভাই-বোনদের ভার্মি কম্পোস্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশী। তিনি আরও জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের ছাদ বাগানীদের কাছেই সবচেয়ে বেশী বিক্রি করছেন তার উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট এবং খুব শিঘ্রই উৎপাদনের পরিসর বাড়াতে দু’টি বড় বড় হাউজ উদ্বোধন করবেন তিনি। তিনি ইন্ডিয়া থেকে ভার্মি কম্পোস্ট ও বায়োফ্ৰক মাছ চাষের উপর ট্রেনিং এবং বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে হাঁস মুরগি, গরু-ছাগল পালন, কৃষি শিক্ষা ও গবাদি পশু চিকিৎসায় ট্রেনিং নিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০২২ সালে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের পশুপাখি মেলায় হাঁস-মুরগি ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ খামারি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও ২০২৩ সালে ইহান ভার্মি কম্পোস্ট জেলার শ্রেষ্ঠ গুণগত মানের সার উৎপাদনকারী হিসেবে নির্বাচিত হন।
কেঁচো সার কেন ব্যাবহার করবেন?
- এটি সম্পূর্ন জৈব সার
- এটি গাছের অত্যাবশ্যকীয় ১৭ টি খাদ্য উপাদানের ৯/১৪ : উপাদান কেঁচো সারে বিদ্যমান।
- উল্লেখিত পুষ্টি উপাদান ছাড়া ও গাছের প্রয়োজনীয় বেশ
- কয়েকটি হরমন, এনজাইম পাওয়া যায়, যা গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ফলের বর্ণ, স্বাদ ও অন্যান্য গুনগত মান উন্নয়নে সহায়তা করে।
- কেচোঁ সার ব্যাবহারে জমিতে অনু জৈবিক প্রক্রিয়া তরান্বিত হয়।
- কেঁচো সার বীজের অংকুরোগমে সহায়ক।
- গাছ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।
- শিকর পচাঁ রোগ হতে রক্ষা করে।
- গাছের জন্য সুষম খাদ্য দিতে সক্ষম।
- সেচ ব্যায় সাশ্রয় করে।
- মাটিতে জৈব পদার্থের উপস্থিতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।
- মাটির হিউমাস গঠনে সহায়তা করে।


নাম: মো: নাফিজুর রহমান নিরব স্হায়ী ঠিকানা, মাদারীপুর সদর।বর্তমান ঠিকানা: খাসকান্দি,কানাইপুর, ফরিদপুর।পেশা : শিক্ষার্থী (এবছর এসএসসি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে) তার বাগানের বয়স: আড়াই থেকে ৩ বছর। বাগানের ধরন : আঙিনা ও ছোট ছাদ তার বাগানে যেসব গাছ আছে তার মধ্যে ক্যাকটাস, অর্কিড, জলজ, ফুুল, কাটা মুকুট, বাগান বিলাস, দেশি বিভিন্ন ফুল গাছ,এছাড়া শোভা বর্ধণকারী অর্নামেন্টাল বিভিন্ন গাছের সংগ্রহ আছে। বাগান নিয়ে তেমন সমস্যা হয়না, পরিবার খুবই সাহায্য করে এব্যাপারে । বিগত একটা সময় তার বাগানে একটা সমস্যা হয়েছিল,, কে বা কারা যেনো বাগানের সব গাছ কেটে নষ্ট করে দিয়েছিল!!
ভাড়া বাসায় করোনা কালীন সময়ে ছোট বাগান দিয়ে শুরু। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন একটুকরো সুখের বাগান। তার বাগানের সবচেয়ে বড় সফলতা ফুলকুড়ি আসর আয়োজিত বাগান তৈরী প্রতিযোগিতা ২০২০এ বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন। যা তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। বাড়ির ছাদ হোক বা বেলকনি অথবা বাড়ির আঙিনায় একটি হলেও গাছ লাগান। শিক্ষার মতো সবুজের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো। তিনি এই পর্যন্ত ৪৫+ জেলাতে নিজের বাগানের গাছ পৌছাতে পেরেছে এবং ফরিদপুরের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৫০-৩০০ জনকে নিজের বাগানের গাছ পৌছাতে দিয়েছে। মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, লালমনিরহাট,ভৈরব, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, লালমনিরহাট, কুষ্টিয়া, পাবনা, বরগুনা, গাজীপুর, রাজবাড়ি, শরিয়তপুর এসব জেলাতে তার বাগানের গাছ পৌছে গেছে। নিরবের বাগান করা দেখে এলাকার লোক এবং বন্ধু, পরিবারের সদস্যরা অনুপ্রাণিত হয়ে বাগান করছে।
নাম: জাওয়াদ আবীরমূল বাড়ি মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ। পড়ালেখার সূত্রে ফরিদপুরে থাকছেন তিনি। H.S.C ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে উত্তির্ণ হয়েছেন বর্তমানে তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজে অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র (নিউ) বাংলা বিষয় নিয়ে পড়ছেন। গত ২০১৫ সালে পরিবারসহ ফরিদপুরে আসা। তাই বাগানে বড় ছোট সব গাছই ছিলো। হঠাৎ করে তার বাবা ঢাকা চলে যান কর্মসূত্রে, ভাইও ভিন্ন স্থানে এজন্য তার মা বাড়িতে চলে যায়। যেহেতু মেসে থাকেন তিনি তাই বাগান করাটা একটু চ্যালেন্জ তার জন্য। তার বাসার বাড়িওয়ালা আন্টি এগুলো একদমই পছন্দ করে না, তাই বড় গাছ আর রাখা হয়না। অল্প হলেও আলহামদুলিল্লাহ তিনি শখ মেটানোর পাশাপাশি বিক্রিও হচ্ছে, তিনি গাছ সংগ্রহ করে এবং পরিচর্যা করেন। তবে সবগাছই এক্সট্রা রাখে এতে করে তার বাগান করার শখটাও মিটে যায়।বাড়িওয়ালা রাখতেই দিতে চায় না, অনেক বুঝিয়ে রেখেছেন তিনি তারপরও মাঝেমাঝেই সেটা নিয়ে কথা শুনতে হয় তাকে। হয়তো খুব শীঘ্রই এখান থেকে শিফট হতে হবে তাকে তার নতুন ঠিকানায়। তিনি জানান তিনি নতুন নতুন বাগানি তৈরি করেছে ফরিদপুর শহরে মিনিমাম ৩০/৪০ জনকে। তার পরিকল্পনা নতুন নতুন বাগানি তৈরি করা, তাই রিজনেবল প্রাইসে শিক্ষার্থীদেরকে গাছ দেয় এটা অব্যাহত থাকবে, তাছাড়া ইচ্ছা আছে ভার্টিক্যাল নার্সারি বা ডিজিটাল নার্সারি করার। কারন ফ্লাটবাসায় চাইলেই বড় গাছ রোপন করা সম্ভব না। ২০১৬ সাল থেকে কাজ শুরু করে তিলে তিলে সাজিয়েছেন এই ছাদ বাগান । এই বাগান করার সময় তাকে তার সসহপাঠী , বন্ধুবান্ধব সহ সকলেই এ কাজে তাকে সহায়তা করেছেন। তিনি যেখানে যে প্রজাতির গাছ পেয়েছেন তাই সংগ্রহ করেছেন। বিভিন্নস্থানের বন-জঙ্গল থেকে তুলে এনেছে অনেক গাছ। অনেকেই এই এসব কাজ দেখে প্রথমে হেসেছেন। কিন্তু তিনি থেমে থাকেনি। সে তার নিজের করেই কাজ চালিয়ে গেছে। আমরা চাইলে প্রত্যেকেই আমাদের ছাদগুলোকে এভাবে সাজাতে পারি। তাতে প্রাকৃতিকভাবে যেমন আমরা হবো সবল, তেমন অর্থনৈতিকভাবে তৈরি করতে পারি সফলতা। আমার চাইলে আমাদের নিজের বাড়িতে ছোট ছোট করে বাগান তৈরি করতে পারি।



সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার ফরিদপুরবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা। মরক্কোর কাসাব্লাংকা শহরে হয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। মরক্কোর প্রাচীন শহর কাসাব্লাংকায় অবস্থিত দ্বিতীয় হাসান ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয় ৩৫তম নাট্যোৎসব। এতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, মরক্কো, তিউনিসিয়া ও সৌদি আরবের শিল্পীদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের শিল্পীরা।
১৮৯৭ সালে নির্মিত পানি শোধনাগার।ফলকে লেখা আছে DHANMONI CHOWDHRANIS FILTER লেখাটি আজও অক্ষত রয়েছে। ভাবা যায় ১৮৯৭ সালে ফরিদপুর পৌর এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য পানি শোধনাগার ছিলো এবং পাশেই পাম্প হাউজ ছিলো।এটির অবস্থান জুবিলী ট্যাংক এর দক্ষিন প্রান্তে বিদ্যুৎ অফিসের দেয়াল সংলগ্ন। অম্বিকা মেমোরিয়াল হলের পুরাতন ভবন সংলগ্ন কিছু পরিত্যক্ত পানির চৌবাচ্চা (ট্যাংকি) ছিলো যা অনেক আগেই ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিলো নতুন অম্বিকা মেমোরিয়াল হল নির্মাণকালে।তবে কালের সাক্ষি হয়ে টিকে আছে পরিত্যাক্ত এই শোধনাগার দুটি।
রানি ভিক্টোরিয়ার ৫০ বর্ষ পূর্তিকালে জুবিলী ট্যাংক খনন করা হয়েছিলো, ধারণা করা হচ্ছে ৬০ বর্ষ পূর্তিতে এই শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছিলো তবে ফলকে যার নাম উল্লেখ রয়েছে তার সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। হতে পারে তিনি অর্থ দিয়ে নির্মাণ কাজে সহায়তা করেছিলো অথবা জমি দান করেছিলো অথবা বিশেষ কোনো ব্যক্তি।আমাদের এই অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে কেউ যদি কোনো তথ্য দিয়ে আমাদের সহায়তা করতে চান তাহলে আনন্দিত হবো।ফরিদপুরকে দেখুন, ফরিদপুরকে জানুন। ১৮৯৭ সালের ২২ জুন ইংল্যান্ডের রাণী ভিক্টোরিয়ার রাজত্বের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তার রাজত্বের হীরক জয়ন্তি ( Diamond Jubilee) পালন করার সময়ে এই পুকুরটি খনন করা হয় বলে এটার নাম দেয়া হয় জুবলি ট্যান্ক। তখন বৃটিশের রাজত্ব ছিল।এই পুকুরের পানি পরিশোধন করে অভার হেড ট্যাঙ্কে তুলে শহরে খাবার পানি সরবরাহ করা হতো। রাজেন্দ্র কলেজের পাশে নতুন ট্যান্ক করার আগে ১৯৬৫ সাল পর্য্যন্ত তা চালু ছিল। (তথ্য: মোহাম্মদ ইদ্রিস)















Recent Comments