রায় সাহেব ঈশানচন্দ্র  সরকার এর জমিদার বাড়ি

Page Visited: 128
97 Views

জমিদার রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকার এর বাড়ি

জমিদার রায় সাহেব ঈশানচন্দ্র সরকার এর বিশাল জমিদারিত্ব ও গৌরবময় ইতিহাস আমাদের অনেকেরই অজানা, দেশো বছরের পুরোনো ইতিহাস রয়েছে এই জমিদার বাড়ির। রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকার ১৮৪০ সালে জন্মগ্রহন করেন ঈশানচন্দ্র রায় এর পিতার নাম ছিলো কৃষ্ণকুমার এবং  মাতার নাম ছিলো নবদুর্গা

রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকার ১৮৭০ সালের  কৃষকদের নিয়ে সংঘটিত পাবনা বিদ্রোহের অন্যতম সক্রিয় নেতা ছিলেন  এবং এই কারণেই সকলের মাঝে তিনি “বিদ্রোহী রাজা” বলে পরিচিত হন।  তিনি অত্যন্ত মাতৃভক্ত ছিলেন। রায় সাহেব এর জমিদারিত্ব ছিলো বিস্তৃত ঢাকা জেলার দোহার থেকে শুরু করে গোয়ালন্দ হয়ে পাবনা জুড়ে এই জলা ভূমির জমিদারি। ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর গ্রামে এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি অবস্তিত। তাঁর নাম অনুসারেই ঈশান গোপালপুর গ্রাম এবং ইউনিয়ন করা হয়েছে। 

ফরিদপুর শহরের ৫মাইল পম্চিমে ভুবনেশ্বর নদের তীর অবস্থিত একটি গ্রাম নাম  গোপালপুর , তবে বর্তমানে সেই ভুবনেশ্বর নদের চিহ্ন তেমনটা নেই। পদ্মার কড়াল গ্রাস গ্রামটিতে আঘাত হানলেও গ্রামটি টিকে আছে আজও। ঈশান চন্দ্র সরকারের নাম অনুসারেই পরবর্তীতে গোপালপুর গ্রামটি ঈশান গোপালপুর নামে নামকরণ করা হয়।

এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে দেরশো বছরের পুরোনো দূর্গামন্দির,সুরম্য অট্টালিকা,সানবাধানো পুকুরঘাট, খিরদভবন,শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, শিব মন্দির,দোলমঞ্চ, মাতৃমন্দির, সহ বেশ কিছু সমাধিসৌধ বা মঠ। প্রত্যেকটি স্থাপনার রয়েছে নান্দনিক স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব সমাহার। নান্দনিকভাবে কারুকার্য করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাড়িটির প্রতিটি ভবন যা যে কাউকেই মুগ্ধ করবেই।

ঈশানচন্দ্র সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রেও ব্যাপক অবদান রেখেছেন তার প্রতিষ্ঠিত উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান যা আজও বিদ্যমান জমিদার রায় সাহেব ১৮৮৫ সালে তিনি ফরিদপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে “ঈশান ইনস্টিটিউশন”  নামে একটি ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি নিজের পাঁচ একর জমি দান করেন। ১৮৯৭ সালের ২১শে জুন বাংলার ছোটলাট বাহাদুর ঈশান ইনস্টিটিউশন পরিদর্শন করেন । বিদ্যালয়টির সাফল্য দেখে ছোটলাট বাহাদুর ঈশান চন্দ্র সরকারকে সম্মান সূচক একখানা প্রশংসা পত্র প্রদান করেন।  ঠিক পাশেই  ১৯০৭ সালে নারী শিক্ষার প্রসারের জন্য ঈশান চন্দ্র সরকার ঈশান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন যা আজও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছে। এছাড়া ১৯৭৬ সালে রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকার এর পৌপুত্র, খগেন্দ্রনাথ সরকার (লক্ষন বাবু) ঈশান চন্দ্র সরকারের নামে ঈশান গোপালপুরে ঈশান ইনস্টিটিউশন নামে উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা ফরিদপুরের মধ্যে অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

তিনি ফরিদপুরের উন্নয়নের জন্য ব্যাপক জনহিতকর কাজ করেছেন  ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে তার নামেই রয়েছে ঈশান মেমোরিয়াল হল, তারার মেলা ইশান মেমোরিয়াল স্কুলটি তার নামে নাম করন করা । এছাড়াও ফরিদপুর সদর হাসপাতালে শরৎকামিনী এক্সরেভবন নির্মানেও অবদান রেখেছেন ঈশানচন্দ্র সরকারের সন্তানগন। ফরিদপুর শহরের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ঈশানচন্দ্র সরকারের জমিতে গড়ে উঠেছে  তার মধ্যে ২ নং পুলিশ ফারি, সাব রেজিস্টার কার্যালায়,। ফরিদপুর জুবিলি ট্যাংক এর দক্ষিনদিকের পুকুর ঘাট নির্মানেও ঈশান চন্দ্র সরকার অর্থ সহযোগীতা প্রদান করেছিলেন। ভাবা যায় রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকারের অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ । অথচ আমরা অনেকেই জানি না তার সম্পর্কে। তিনি তার জনকল্যানকর কাজ শুধু নিজ জেলার মধ্যেই সীমাব্ধ রাখেন নি বৃহত্তর ফরিদপুরবাসীর সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন তিনি।

রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকার ১৯১৫ সালের ২৮শে এপ্রিল  বুধবার মৃত্যুবরণ করেন।

 ১৯৭১ সালের ২ রা মে ফরিদপুর সদর উপজেলার জমিদার রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকারের বাড়িতে পাকিস্তানি বাহিনী এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছিলো। জমিদার বাড়িতে আশ্রয় নেয়া ২৮জন ব্যাক্তিকে এক এক করে হত্যা করায় সেদিন।

 


যেভাবে যাবেনঃ ফরিদপুর সদর উপজেলার রাজবাড়ি রাস্তার মোড় থেকে ঢাকা মহাসড়কের দিকে সোজা চলে আসবেন ধুলদি স্ট্যান্ড, ডান দিকে ধুলদি বাজারের ভেতর দিয়ে চলে যাবেন সরাসরি ঈশান গোপালপুর বাজার, সেখানে যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই বাড়ির পথ দেখিয়ে দিবে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *