ভ্রমণ গাইড ফরিদপুর

249 Views

১ দিনের জন্য ডে ট্যুরে ঢাকা থেকে ঘুরে আসতে পারেন সোনালী আঁশে ভরপুর ফরিদপুরে।

দর্শনীয় স্থানসমূহ

যেভাবে আসবেন: কমলাপুর রেলওেয়ে স্টেশন থেকে সকালে ৮.১৫ সুন্দরবন এক্সপ্রেস ধরে পদ্মা সেতু হয়ে ২ ঘন্টার মধ্য এসে পৌছাবেন ফরিদপুর শহড়ে ভাড়া পরবে ২৬৫ টাকা। এ ছাড়াও বাসে করেও আসতে পারেন গুলিস্তান, সায়েদাবাদ কিংবা যাত্রাবাড়ী থেকে প্রতি ১০/১৫ মিনিট পর পর বাস ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্য সময় লাগবে মাত্র ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট এর মত।
ফরিদপুর এসে যা যা দেখবেন: ফরিদপুর এসে রিক্সা কিংবা ইজিবাইক রিজার্ভ করে ঘুরতে পারেন। সারাদিন এর জন্য ইজিবাইক ভাড়া করতে পারেন খরচ হবে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকার মত। অথবা রিজার্ভ  না করেও ঘুরতে পারবেন তাতে করে সাশ্রয়ী হবে, কারন সব গুলা স্থান শহরের ভিতর বা একটু পাশে, যে যে স্থানগুলো ঘুরে দেখবেন।

১ম দিনে কিভাবে কখন কোন স্থানে যাওয়া যায় তার তালিকা:

  • ফরিদপুর জেলা জজ কোর্ট
  • ফরিদপুর মিউজিয়াম
  • ময়েজ মঞ্জিল জমিদার বাড়ি 
  • ফরিদপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ মিশন।
  • সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ
  • শ্রীধাম শ্রী-অঙ্গন (জগদ্বন্ধু সুন্দরের আশ্রম), গোয়ালচামট
  • পল্লী কবি জসীম উদ্দিন এর বাড়ি ও স্মৃতি যাদুঘর (অম্বিকাপুর)
  • নদী গবেষনা ইন্সটিটিউট (হাড়োকান্দি)
  • ধলার মোড় (পদ্মার পাড়)
  • ঐতিহাসিক গেরদা মসজিদ (শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে)
  • অম্বিকা ময়দান, (জুবলী ট্যাংক)
  • টেপাখোলা লেকপাড়
  • শেখ রাসেল শিশু পার্ক
  • ঈশান চন্দ্র সরকারের জমিদার বাড়ি (শহর থেকে ৫কিলোমিটার দুরে)
  • ধুলদী ফান প্যারাডাইজ পার্ক
  • বি এ ডি সি ফার্ম (নারকেল বাগান)
  • সূর্যমূখীর ক্ষেত (জানুয়ারী মাসে)

 ট্রেন থেকে নেমে স্টেশনে অবস্থিত হোটেল থেকে হালকা নাস্তা করে বেড়িয়ে পড়ুন ময়েজ মঞ্জিল জমিদার বাড়িরর উদ্দেশ্যে স্থানটি খুব কাছেই অবস্থিত স্টেশন থেকে রিক্সায় ভাড়া নিবে ২০টাকা সর্বোচ্চ বাড়িটি দেখা শেষ হলেই পাশেই তেতুল তলার খোকা মিয়ার ঐতিহ্যবাহি রসগোল্লার স্বাদ না নিলে ফরিদপুর ভ্রমন আপনার জন্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মিষ্টি মুখ করে বেড়িয়ে পরুন তেতুল তলা থেকে ইজিবাইকে মাত্র জন প্রতি ভাড়া নিবে ৫টাকা।  জজ কোর্ট চত্বরের উদ্দেশ্যে নান্দনিক ব্রিটিশ স্থাপত্যটি ১৮৭৫ সালে নির্মিত। জজ কোর্ট এর পাশেই রয়েছে একটি পুরনো কোর্ট মসজিদ চাইলে দেখতে পারেন ৩গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটিকে। তার ঠিক পাশেই দক্ষিণ বঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ যেটি স্থাপিত হয়েছিলো ১৯১৮ সালে । যার প্রতিষ্ঠাতা , নিখিল ভারত কংগ্রেসের সভাপতি, কংগ্রেস নেতা খ্যাতনামা আইনজীবী ও সমাজসেবক অম্বিকাচরণ মজুমদার । কলেজটি যার নামে নামকরন করা হয়েছে তিনি হচ্ছেন সদরপুর উপজেলার ২২ রশির জমিদার রাজেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরীর নামে। কলেজটি ঘুরে দেখার পরে এবারের গন্তব্য সরাসরি গোয়ালচামটে অবস্থিত  হিন্দু মহানাম সম্প্রদায়ের একটি আশ্রম, যা জগদ্বন্ধু সুন্দর ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ।  ৮ জন আশ্রমবাসীকে তাদের ধর্মীয় প্রার্থনা করার সময় হত্যা করে এবং আশ্রমটিতে ব্যাপক ধ্বংস লীলা চালায়।

এবারের গন্তব্য  ফরিদপুরে পল্লী কবি জসীম উদ্দীন এর বাড়ি যেটি অবস্থিত শহরের অম্বিকাপুর গ্রামের অবস্থিত, পল্লী কবির বাড়িতে তার কবর এবং স্মৃতি যাদুঘর দেখে আপনি নিজেকে তার অনবদ্য সকল সৃষ্টির মাঝে হারিয়ে ফেলবেন সামনেই রয়েছে কুমার নদ। এরপর দুপুরে খাবাবের জন্য কিছুটা সময় নিন। শহরে রয়েছে বিভিন্ন নামি দামি খাবারের হোটেল রেস্টুরেন্ট আপনার সামর্থ অনুযায়ী খাবারের তালিকা নির্বাচন করে দুপুরের খাবার সেরে ফেলতে পারেন।

যে সব  খাবার না খেলে আপনার ফরিদপুর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে-

ফরিদপুরে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার এবার আপনাদের সেসব খাবের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো।ফরিদপুর নামটা শুনলেই ভেসে উঠে ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের কথা,ফরিদপুরের খেজুর গুড়ের সুনাম রয়েছে শতবছর ধরে। ফরিদপুরে এলে অবশ্যই খেজুর গুড়ের স্বাদ নেয়ার আমন্ত্রন রইলো।এরপর যে খাবারটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো সেটি হচ্ছেলক্ষি মিষ্টান্ন ভান্ডারের গুরুপদর লুচি আর আলুর দম। অতুলীয়ন স্বাদের এই লুচি আলুর দম এর স্বাদ নিতে আসতে হবে স্টেশন রোডের এই বাজারে

প্রায় ৪০ বছর যাবত সুনামের সাথে লুচি আর আলুর দম বিক্রি করে আসছেন তিনি ,তার উদ্দেশ্য কম টাকায় ভালো খাবার।এবার যে খাবারটির কথা সেটি হলো শহরের চরকমলাপুরে অবস্থিত লাজিজ হোটেলের কবুতরের চপ,দীর্ঘকাল রে এই দোকানটিতে কবুতরের চপ বিক্রি হয়ে আসছে ।এবার যে খাবারটির কথা বলবো সেটির নাম শুনলেই আপনার জিভে জল চলে আসবে।হ্যা বন্ধুরা বলছি অনাথের আচারের কথা। স্বুস্বাদু এই আচারের সুনাম ফরিদপুর জুড়ে অনাথের আচারের দোকানকে কেন্দ্র করেই স্থানটির নামও অনাথের মোড়।ছিরাভিরা নামটা অদ্ভুত হলেও খাবারটা কিন্তু বেশ সুস্বাদু , ফরিদপুর নতুন বাসস্ট্যান্ডের খুব কাছেই হেলিপোর্ট বাজারের এই দোকানেই পাওয়া যায় এই খাবারটি। এটি এক প্রকার বড় আকাড়ের পরটা সাথে স্বস্বাদু ডাল দিয়ে পরিবেশন করা হয় খাবারটি। বলে রাখা ভালো এই খাবারটি খেতে হলে আপনাকে অব্যশই সকাল ৯টার ভেতরে আসতে হবে না হলে কিন্তু পাওয়া যাবে না। এরপর যে খাবারটির কথা বলবো ইতিমধ্যে সারা দেশ জেনে গেছে তার খাবারের স্বাদের কথাবলছি মামুন ভাই এর শাহী চটপটির কথা

ফরিদপুর শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত বাটা বাজারের সামনে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় তার বেচাকেনা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। দুর দুরান্ত থেকে প্রতিদিন এই শাহী চটপটির স্বাদ নিতে ছুটে আসেন ভোজন প্রেমীরা।

ঝাল তো হলো চলু এবার মিষ্টি মুখ করা যাক ফরিদপুরের তেতুল তলার এই মিষ্টি পল্লীতে আপনাকে অবশ্যই আসতে হবে রোসগোল্লার স্বাদ নিতে।প্রতিটি দোকানের মিষ্টির স্বাদই অতুলনীয় তবে আদী এবং ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লার স্বাদ নিতে হলে আপনাকে খোকা মিয়ার মিষ্টি দোকানের স্বাদ অবশ্যই নিতে হবে তা না হলে আপনার ফরিদপুর ভ্রমন অসম্পূর্ন থেকে যাবে।ফরিদপুরের বাগাটের দই এর সুনাম দেশজুড়ে রয়েছে ময়রাপট্টীর আমিত্তি এবং দানাদার মিষ্টি খেলে আপনার শৈশবের স্মৃতী মনে পরে যাবে।

এবার ফেরার পালা সন্ধ্যা ৬ টা৫০ মিনিট  এর সময় ট্রেন কিংবা বাসে করে যে কোন সময় ফিরতে পারবেন।আপনারা ৪/৫ জন আসলে খরচ হবে ১২০০/১৫০০ টাকার মধ্য জনপ্রতি।

আপনারা যদি এক রাত থাকতে চান তাহলে আরো কিছু ঐতিহাসিক স্থান দেখতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন?- ফরিদপুর শহরে রয়েছে কিছু সনামধন্য হোটেল যে গুলাতে আপনি অল্প খরচে থাকতে পারবেন।নিচে হোটেল গুলার নাম দেওয়া হলো:

১. জে কে ইন্টারন্যাশনাল

২. পদ্মা 

৩ রাজস্থান

৪ র‌্যাফেলস ইনন

পরের দিন কোথায় ঘুরবেন: প্রথমে সকাল ৬টা ৫৭ তে  ফরিদপুর স্টেশন হতে  রাজবাড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনে করে যেতে পারেন পুকুরিয়া সেখান থেকে ভ্যানে বা অটোতে করে যাবেন সদরপুর ২২রশি জমিদার বাড়ি । বিশাল জমিদার বাড়িটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আছে তাই অত্যন্ত সাবধানে ঘুরে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

সেখানে কিছু সময় ঘুরাঘুরি করে আবারো ভ্যানে করে যাবেন আটরশি দরবার শরিফ এ যেখানে ঘুরাঘুরি শেষ করে অটোতে করে চলে আসবেন ভাঙ্গা গোল চত্তরে বা  ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ ।ভাংগা ঘুরাঘুরি করে ভংগা বাজারে গিয়ে খেতে পারেন  অনিল দাস এর বিখ্যাত মিষ্টির স্বাদ। তারপর বাস অথবা ইজিবাইক অথবা মাহেন্দ্রতে  করে  চলে যাবেন ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক পাত্রাইল মসজিদে। পাত্রাইল মসজিদ ভ্রমণ করে চলে আসবেন ভাংগা। ভাংগা থেকে ট্রেনে করে বা বাসে করে  আবার ফিরে আসতে পারবেন  ঢাকা।