“কল্পনার রঙে বাস্তবতা: রনি’র সৃজনশীলতার ছোঁয়া”

Page Visited: 36
34 Views

প্রতিবেদক তৌসিফ প্রাচ্যঃ

একজন পরিচালকের সিনেমা ওয়েব সিরিজের সঙ্গে দর্শকদের প্রথম পরিচয় হয় পোস্টারে। কয়েকশো মিনিটের ওটিটি কন্টেন্টের ক্ল্যাইম্যাক্স, ড্র‍্যামাটিক মনোলগ কে আনতে হয় কয়েক ইঞ্চির পোস্টার বা ফার্স্টলুকে। শুনতে সহজ হলেও এই কাজটা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং কারন এই পোস্টার,ফার্স্টলুকটাই ট্রামকার্ড হিসেবে কাজ করে দর্শকদের স্ক্রিনের প্রতি আগ্রহী করতে। একজন পরিচালকের স্বপ্ন,অভিনেতা অভিনেত্রীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের সফলতা এনে দেয় দর্শক, এই দর্শকের সঙ্গে কন্টেন্টের ব্লেন্ডিংটা হয় পোস্টারের মাধ্যমে। এই গুরু দ্বায়িত্ব পালনে প্রয়োজন হয় ধৈর্য, সৃজনশীল মস্তিষ্ক আর সৃষ্টিশীল চোখের। মানসিক ধীসম্পন্ন এরকম একজন মোশন গ্রাফিক শিল্পী আমাদের ফরিদপুরের মাটির সন্তান রায়হান উদ্দিন খান রনি। যিনি বাংলাদেশের লিডিং ওটিটি প্লাটফর্ম ‘’চরকির” গ্রাফিক ডিজাইনার হিসাবে নিজের সৃজনশীলতার উন্মেষ ঘটাচ্ছেন চরকির জন্মলগ্ন থেকে।

রায়হান উদ্দিন খান রনি ছোটবেলা থেকেই সৃষ্টিশীল চোখে আশেপাশের জগৎ কে দেখতেন। রহস্য উন্মোচনের নেশায় বুদ হয়ে থাকতেন৷ সৃজনশীল হবার দরুন তিনি প্রতিনিয়ত চাইতেন নিজে কিছু করার। ফরিদপুরে হাতেগোনা কিছু মানুষ যখন ডিজিটাল আর্টের কাজ জানে তখন তিনি তাদের থেকে কাজ শিখেছেন৷ দোকানে প্রিন্টিং প্রেসে থেকে ঘুরে ঘুরে ভিজুয়াল আর্টে হাতেখড়ি নিয়েছেন। এসব প্রমান করে তিনি কতটা নিবিষ্ট ছিলেন নিজের স্বপ্নের ডানায় পালক গোজার জন্যে। এরপর থেকে জার্নিটা সহজ মসৃণ ছিলো না৷ তবে তিনি উত্তাল সেই বাস্তবতার সমুদ্রে নিজের অধ্যবসায়ের ছোট ডিঙির ওপরে ভরসা ঠিক রেখেছিলেন।

এরপরে রায়হান উদ্দিন খান ঢাকাতে চলে যান স্বপ্ন পূরনের ল্যান্ডস্কেপ বড়ো করার জন্যে। ব্যস্তনগরী ঢাকার নাগরিক জীবনে খাপ খাওয়াতে পারাটা ছিলো মফস্বলে বড় হওয়া রায়হান উদ্দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকার ঘিঞ্জি গলির হলদে দেয়ালের পুরোনো যে দালানে সকালের নরম আলো থেকে দুপুরের তীব্র আলো এসে পরে। বিকেলের আলো গায়ে মেখে সন্ধ্যের নরম বাতাস যে দালান গায়ে মাখে তার কোটরে বসে রাত দিন নিবিষ্ট হয়ে কয়েক ইঞ্চির ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করে গিয়েছেন। সততা নিষ্ঠা থাকলে প্রকৃতি অবশ্যই সাফল্য দেয় এর জলজ্যান্ত প্রমান আমাদের ফরিদপুরের কৃতি সন্তান রায়হান উদ্দিন খান রনি। কোভিড পরবর্তী সময়ে মিডিয়াস্টার লিমিটেডের দেশের সবথেকে জনপ্রিয় “চরকি”, ওটিটি প্লাটফর্মের গ্রাফিক ডিজাইনার হিসাবে যাত্রা শুরু করেন রায়হান উদ্দিন খান রনি। এরপর থেকে গল্পটা উত্থানের।সময় বেড়েছে সময়ের সাথে নিজের সৃজনশীল কাজগুলোও বেড়েছে। দেশের কাটাতার টপকে সেগুলো গিয়েছে দেশের বাইরে। অদ্ভুত সুন্দর গল্পের প্রথম ভিজুয়াল ছবি যখন হাজার হাজার ডিভাইসের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে, তখন ভাবতেই অদ্ভুত লাগে এই মোশন আর্টিস্টের রুট আমাদের প্রানের শহর ফরিদপুরে। আলোআধারীর গল্পগুলো হয়তো শুধু শিল্পী রায়হান উদ্দিনের জানা রয়েছে। কতটা স্ট্রাগল, অনিশ্চয়তায় তার কেটেছে দিন,অনিদ্রায় কেটেছে স্বপ্নভেজা দুচোখ। হলদে দেয়ালে লেগে থাকা সেই ব্যথার গল্প গুলোই জন্ম দিয়েছে আজকের মোশন গ্রাফিক ডিজাইনার রায়হান উদ্দিন খান রনিকে। আপনার কাজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্ভাসিত হোক বিশ্বের দরবারে, আপনার সৃজনশীলতা মেশানো কাজ গুলোর যথাযথ মূল্যায়ন হোক রায়হান উদ্দিন খান রনি।

ফরিদপুর সিটি থেকে নিরন্তর শুভকামনা রইলো আপনার জন্যে ব্যাকস্টেজের আলো আধারীর রহস্যে থাকা শিল্পী। আমাদের প্রাণের ফরিদপুরের শিল্পী।

রায়হান উদ্দিন খান রনির ডিজািইন করা কিছু পোস্টারঃ

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *