FaridpurCity a social community & nonprofit organization

0

সংবাদ উপস্থাপক এবং ‘পাঞ্জাবীওয়ালা’র উদ্যোক্তা রিশান মাহমুদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগ থেকে পড়াশোনা করা অবস্থাতেই একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ শুরু করেন,আর এখনো সেখানেই কর্মরত আছেন। স্বপ্নবাজ এই তরুণ এরই মাঝে ক্যারিয়ারের কক্ষপথ বদলে হয়েছেন আত্মনির্ভরশীল, হাঁটছেন নিজের দেখা স্বপ্নের পথ ধরেই। বলছি রিশান মাহমুদ রনির কথা, অনেকের কাছে এখন ‘পাঞ্জাবীওয়ালা’ হিসেবেই যার বেশ পরিচিতি। রিশান মাহমুদ রনি থেকে ‘পাঞ্জাবীওয়ালা’ হয়ে ওঠার গল্প নিজেই বলছিলেন রিশান । ২০১৫ সাল, পহেলা বৈশাখে রিশান পরিকল্পনা করেন একই ডিজাইনের পাঞ্জাবী পড়বেন সাত বন্ধু। সাত রঙের,সাতটি পাঞ্জাবি রিশান নিজে ডিজাইন করে, টেইলর থেকে তৈরি করেন।বন্ধুরা মিলে পাঞ্জাবীগুলো পরে বৈশাখে ঘুরে বেড়ান, ছবি তোলেন। ছবিগুলো নিজের ফেসবুক ওয়ালে আপলোড করেন রিশান । ছবিগুলো দেখে পাঞ্জাবিগুলোর প্রশংসার পাশাপাশি,অনেকেই পাঞ্জাবি নিয়ে নানা তথ্য জানতে প্রশ্ন করেন।প্রশ্নগুলো উত্তরে, আগ্রহীরা বিস্তারিত জেনে হয়ে ওঠেন ক্রেতা। সেই সময় ১০০টিরও বেশি পাঞ্জাবির অর্ডার পেয়ে যায় রিশান। স্বপ্ন ডানা মেলতে থাকে। একটি অর্ডার বদলে দেয় রিশানের জীবনের হিসেব-নিকেশ। অনলাইন ব্যবসা সম্পর্কে খুব একটা ধারণা ছিলোনা রিশানের। এক বন্ধুর মাধ্যমে ফেসবুকে একটি পেইজ খোলার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু নাম নিয়ে পড়ে যান দ্বিধায়। বেশ কিছুদিন ভাবার পর একটা বিষয় তার মধ্যে কাজ করলো, যেহেতু পাঞ্জাবী নিয়ে কাজ করবেন, তাই নামটা ‘পাঞ্জাবীওয়ালা’ হলে মন্দ হয় না।যাত্রা শুরু করে ‘পাঞ্জাবীওয়ালা’ নামে একটি অনলাইন ফ্যাশন শপ। প্রায় শূন্য হাতে শুরু প্রতিষ্ঠানটিতে এখন বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় বেশ। সময়ের সঙ্গে পাঞ্জাবীওয়ালার পরিধি বাড়তে থাকে। কিন্তু ক্রেতাদের কাছে পাঞ্জাবী পৌঁছানোর বিষয় নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা।এখন যেমন ডেলিভারি সাপোর্ট খুব সহজ,২০১৫ সালে আমন সেবা ছিল না বললেই চলে। প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরুর কিছুদিন আগেই একটি বাইক কিনেছিলেন রিশান।তখন নিজেই ডেলিভারির কাজ শুরু করেন রিশান।ক্রেতার সন্তুষ্টির জন্য শুরুর দিকে রিশান ক্রেতার কাছ থেকে পাঞ্জাবির স্যাম্পল নিয়ে আসতেন।ঐ স্যাম্পলের সাইজ অনুযায়ী পাঞ্জাবি বানিয়ে আবার ক্রেতার কাছে ডেলিভারি করতেন।প্রায় এক বছর নিজেই ক্রেতাদের বাসায় গিয়ে অর্ডার পৌঁছে দিতেন তিনি। অনেকেই বলতেন, ‘তুমি কেন ক্রেতাদের বাসায় অর্ডার পৌঁছে দিয়ে আসো’? রিশান হেসে বলতো, ‘আমি পৌঁছে দেই বলেই, ক্রেতাদের সাথে আমার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তৈরি হয়েছে’।এ নিয়ে তার মধ্যে কোনো ধরনের সংকোচ ছিল কিনা জানতে চাইলে রিশান বলেন, কোন সংকোচ তো ছিলই না বরং নিজে ডেলিভারি দেয়ায় ক্রেতাদের সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।যা অনেক বড় প্রাপ্তি।কেননা অনলাইন কেনাকাটায় ওভাবেই করে সরাসরি ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক বা যোগাযোগ তৈরি হয় না বললেই চলে।এজন্য নিজে ক্রেতাদের বাসায় গিয়ে অর্ডার পৌঁছে দেবার বিষয়টি তিনি খুব পজিটিভভাবে দেখেছেন।তিনি আরও বলেন,এখন ফ্রি থাকলে তিনি ডেলিভারি করার চেষ্টা করেন।রিশান মনে করেন, এটাই তার ব্যবসায়ের এই অবস্থানে আসার জন্য অনেকটা সহযোগিতা করেছে। আরও বলেন,আমি শুধু সেলাই এবং কাটিং করতে পারি না।

এছাড়া কাপড় কেনা থেকে শুরু করে ডিজাইন, কালার কম্বিনেশন প্রায় সবইতো আমাকে করতে হয়, তাহলে অর্ডার পৌঁছানো কেন নয়’।সব ধরনের ক্রেতারাই যাতে পণ্যটি কিনতে পারেন, সেভাবেই মূল্য নির্ধারণ করি। যখন দেখি ক্রেতাদের থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি, তখন মনে হয় পুরো কাজটা আমি একা করতে পারলে ভালো হতো। রিশানের ডিজাইনগুলো হয় অনন্য,যা তিনি সারা বছর ক্রেতাদের সরবরাহ করতে পারেন। অনলাইনে ব্যবসা করতে বেশ কিছু খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে বলেও জানান রিশান। তার পণ্যের ছবি নিয়ে লোগো তুলে আরেকজন তার পেইজে শেয়ার করে লিখে, এই ধরনের প্রোডাক্ট পেতে যোগাযোগ করুন। আমার ডিজাইন করা পণ্য কিন্তু অনেকেই তাদের ডিজাইন ও পণ্য বলে চালিয়ে দিয়েছে। আমি মনে করি অনুমতি না নিয়ে ছবি ব্যবহার করা,ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের অন্যতম খারাপ দিক। আক্ষেপ করে বলেন, এখন তো অগ্রিম পেমেন্ট নেয়া হয়, কিন্তু ২০১৫ সালের দিকে তা হতো না বলে ‘কখনো এমন হয়েছে, অনেকগুলো পণ্য একসাথে অর্ডার করার পর কোনো নোটিশ ছাড়াই ফেরত পাঠিয়েছে, মোবাইল অফ করে রেখেছে,নেবে বলে দিনের পর দিন অপেক্ষা করিয়েছে।অগ্রিম পেমেন্ট না নিয়ে,কন্ডিশন ছাড়া পণ্য সরবরাহ করার পর,পণ্য পেয়ে অনেক ক্রেতাই বিশ্বাস ভেঙ্গে পরবর্তীতে আর পেমেন্ট দেয়নি।এতে অনলাইনে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-দুই দিক থেকে একে অপরের প্রতি আস্থা হারাচ্ছিল এবং মার্কেটটাও সেভাবে বড় হচ্ছিল না। তবে করোনা পরবর্তী সময়ে মার্কেট এখন অনেক স্ট্যান্ডার্ড।ক্রেতআ-বিক্রেতা সবাই এখন অর্ডার,ডেলিভারি, অগ্রিমসহ সবকিছুই জানেন। এখন প্রায় সবকিছুই অনলাইনে কেনাকাটা করেন সবাই। উপস্থাপক থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখলেন কেন জানতে চাইলে রিশান বলেন, “কম-বেশি সবাই তো বলে চাকরি করি, মানে আপনি একটা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আরেকজনের ব্যবসাকে দেখছেন,বিনিময়ে বেতন পাচ্ছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি এমন একটা কাজ করবো, যেটার “সাইন” আমি নিজেই থাকবো। আমি বিশ্বাস করি, যে যেই কাজই করুক না কেন তার ডেডিকেশন থাকলে সে ফিডব্যাক পাবেই। আর আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে বলেইতো মানুষ আমার পণ্য কিনছে। আগে আমি দর্জি থেকে অর্ডার দিয়ে এক কিংবা দুই পিস বানাতাম। এখন আমার নিজেরই কারখানা আছে। ২০১৯ সালে ৪ জন সহযোগীসহ ৪ টা মেশিন নিয়ে প্রথম যাত্রা শুরু করে ‘পাঞ্জাবীওয়ালার’ কারখানা।কাজের পরিধি বাড়তে শুরু করে।খুব ভালই চলছিল,২০২০ সালের বৈশাখের পোশাক ডিজাইনে নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী বেশ ভাল একটা বিনিয়োগ করা হল।কারিগরদের সাথে সমানতালে কাজ শুরে করে দেয় রিশান।

ডিজাইনও সব রেডি, বাকি শুধু শুটিং।আর তখনই করোনার জন্য শুরু হল লকডাউন।খুব ভালভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হল রিশানের ‘পাঞ্জাবীওয়ালা’ এবং ‘বৈঠকখানা’ সহ সব উদ্যোগ। তারপর থেমে যাননি রিশান।পরিশ্রম এবং মনোবল তাকে শক্তি জুগিয়েছে। অতীত হয়ে যাওয়া সময়গুলো হিসেব করলে সাতটি বছর পেরিয়েছে। চাকরির পাশাপাশি ব্যবসায় মনোযোগ করাটা একসময় খুব কঠিন হয়ে যেতো রিশানের। তারপরও পেছনে ফিরে যাননি, বিভিন্ন ব্রান্ডের পোশাক ছেড়ে এখন নিজেও নিজের তৈরী পোশাক পড়েন।যেকোনো ইভেন্টে ফ্যামিলি ম্যাচিং ড্রেস এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।কিন্তু পরিকল্পনা থাকলেও ব্যস্ততায় অনেকেই তা পেরে উঠতে পারছেন না।আজ যাবো,কাল যাবো করে হচ্ছেই না।আপনার জন্য সহজ সমাধান নিয়ে এসেছ ‘পাঞ্জাবীওয়ালা’ ,আপনি চাইলেই,আপনার বা ‘পাঞ্জাবীওয়ালার’ ডিজাইন দিয়ে পাঞ্জাবীওয়ালা থেকে তৈরি করে নিতে পারেন পাঞ্জাবী, কুর্তি ,বাচ্চাদের (পাঞ্জাবী, কুর্তি) এবং ফ্যামিলি ম্যাচিং ড্রেস।‘পাঞ্জাবীওয়ালা’। শূন্য থেকে শুরু করে, প্রতিকূল পথ ধরে এই তরুণ এবং উদীয়মান ব্যক্তি সমস্ত প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে, কঠোর পরিশ্রম এবং সত্য নিষ্ঠার সাথে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তার লক্ষ্য অর্জন করেছেন। দেশের তরুণ প্রজন্ম যখন মাসিক উপার্জন নিয়ে অব্যাহতভাবে চাকরির নিরাপত্তা অর্জনের জন্য কঠোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তখন রিশান উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও সহজতর করেন।এখন রিশানের চেয়ে পাঞ্জাবীওয়ালা নামেই তাকে সবাই বেশি চেনে।রিশান স্বপ্ন দেখেন একদিন দেশীয় একটি ব্রান্ডের নাম হবে ‘পাঞ্জাবীওয়ালা’।

গ্রাফিক শিল্পী আমাদের ফরিদপুরের মাটির সন্তান রায়হান উদ্দিন খান রনি 0

“কল্পনার রঙে বাস্তবতা: রনি’র সৃজনশীলতার ছোঁয়া”

প্রতিবেদক তৌসিফ প্রাচ্যঃ

একজন পরিচালকের সিনেমা ওয়েব সিরিজের সঙ্গে দর্শকদের প্রথম পরিচয় হয় পোস্টারে। কয়েকশো মিনিটের ওটিটি কন্টেন্টের ক্ল্যাইম্যাক্স, ড্র‍্যামাটিক মনোলগ কে আনতে হয় কয়েক ইঞ্চির পোস্টার বা ফার্স্টলুকে। শুনতে সহজ হলেও এই কাজটা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং কারন এই পোস্টার,ফার্স্টলুকটাই ট্রামকার্ড হিসেবে কাজ করে দর্শকদের স্ক্রিনের প্রতি আগ্রহী করতে। একজন পরিচালকের স্বপ্ন,অভিনেতা অভিনেত্রীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের সফলতা এনে দেয় দর্শক, এই দর্শকের সঙ্গে কন্টেন্টের ব্লেন্ডিংটা হয় পোস্টারের মাধ্যমে। এই গুরু দ্বায়িত্ব পালনে প্রয়োজন হয় ধৈর্য, সৃজনশীল মস্তিষ্ক আর সৃষ্টিশীল চোখের। মানসিক ধীসম্পন্ন এরকম একজন মোশন গ্রাফিক শিল্পী আমাদের ফরিদপুরের মাটির সন্তান রায়হান উদ্দিন খান রনি। যিনি বাংলাদেশের লিডিং ওটিটি প্লাটফর্ম ‘’চরকির” গ্রাফিক ডিজাইনার হিসাবে নিজের সৃজনশীলতার উন্মেষ ঘটাচ্ছেন চরকির জন্মলগ্ন থেকে।

রায়হান উদ্দিন খান রনি ছোটবেলা থেকেই সৃষ্টিশীল চোখে আশেপাশের জগৎ কে দেখতেন। রহস্য উন্মোচনের নেশায় বুদ হয়ে থাকতেন৷ সৃজনশীল হবার দরুন তিনি প্রতিনিয়ত চাইতেন নিজে কিছু করার। ফরিদপুরে হাতেগোনা কিছু মানুষ যখন ডিজিটাল আর্টের কাজ জানে তখন তিনি তাদের থেকে কাজ শিখেছেন৷ দোকানে প্রিন্টিং প্রেসে থেকে ঘুরে ঘুরে ভিজুয়াল আর্টে হাতেখড়ি নিয়েছেন। এসব প্রমান করে তিনি কতটা নিবিষ্ট ছিলেন নিজের স্বপ্নের ডানায় পালক গোজার জন্যে। এরপর থেকে জার্নিটা সহজ মসৃণ ছিলো না৷ তবে তিনি উত্তাল সেই বাস্তবতার সমুদ্রে নিজের অধ্যবসায়ের ছোট ডিঙির ওপরে ভরসা ঠিক রেখেছিলেন।

এরপরে রায়হান উদ্দিন খান ঢাকাতে চলে যান স্বপ্ন পূরনের ল্যান্ডস্কেপ বড়ো করার জন্যে। ব্যস্তনগরী ঢাকার নাগরিক জীবনে খাপ খাওয়াতে পারাটা ছিলো মফস্বলে বড় হওয়া রায়হান উদ্দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকার ঘিঞ্জি গলির হলদে দেয়ালের পুরোনো যে দালানে সকালের নরম আলো থেকে দুপুরের তীব্র আলো এসে পরে। বিকেলের আলো গায়ে মেখে সন্ধ্যের নরম বাতাস যে দালান গায়ে মাখে তার কোটরে বসে রাত দিন নিবিষ্ট হয়ে কয়েক ইঞ্চির ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করে গিয়েছেন। সততা নিষ্ঠা থাকলে প্রকৃতি অবশ্যই সাফল্য দেয় এর জলজ্যান্ত প্রমান আমাদের ফরিদপুরের কৃতি সন্তান রায়হান উদ্দিন খান রনি। কোভিড পরবর্তী সময়ে মিডিয়াস্টার লিমিটেডের দেশের সবথেকে জনপ্রিয় “চরকি”, ওটিটি প্লাটফর্মের গ্রাফিক ডিজাইনার হিসাবে যাত্রা শুরু করেন রায়হান উদ্দিন খান রনি। এরপর থেকে গল্পটা উত্থানের।সময় বেড়েছে সময়ের সাথে নিজের সৃজনশীল কাজগুলোও বেড়েছে। দেশের কাটাতার টপকে সেগুলো গিয়েছে দেশের বাইরে। অদ্ভুত সুন্দর গল্পের প্রথম ভিজুয়াল ছবি যখন হাজার হাজার ডিভাইসের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে, তখন ভাবতেই অদ্ভুত লাগে এই মোশন আর্টিস্টের রুট আমাদের প্রানের শহর ফরিদপুরে। আলোআধারীর গল্পগুলো হয়তো শুধু শিল্পী রায়হান উদ্দিনের জানা রয়েছে। কতটা স্ট্রাগল, অনিশ্চয়তায় তার কেটেছে দিন,অনিদ্রায় কেটেছে স্বপ্নভেজা দুচোখ। হলদে দেয়ালে লেগে থাকা সেই ব্যথার গল্প গুলোই জন্ম দিয়েছে আজকের মোশন গ্রাফিক ডিজাইনার রায়হান উদ্দিন খান রনিকে। আপনার কাজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্ভাসিত হোক বিশ্বের দরবারে, আপনার সৃজনশীলতা মেশানো কাজ গুলোর যথাযথ মূল্যায়ন হোক রায়হান উদ্দিন খান রনি।

ফরিদপুর সিটি থেকে নিরন্তর শুভকামনা রইলো আপনার জন্যে ব্যাকস্টেজের আলো আধারীর রহস্যে থাকা শিল্পী। আমাদের প্রাণের ফরিদপুরের শিল্পী।

রায়হান উদ্দিন খান রনির ডিজািইন করা কিছু পোস্টারঃ

স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন ক্যাটাগরিতে ফরিদপুর এর ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারাদেশের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে 0

স্বাস্থ্যসেবায় সেরা অর্জন— ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ফরিদপুর

স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন ক্যাটাগরিতে ফরিদপুর এর ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারাদেশের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এই অর্জনে আমরা ফরিদপুরবাসী আনন্দিত যার হাত ধরে এই অর্জন আমাদের গর্বিত করেছে তিনি ফরিদপুর এর কৃতি সন্তান ডাক্তার তানসিভ জুবায়ের নাদীম। আজ ১৮ই এপ্রিল ইউএইচএফপিও সম্মেলন ২০২৬ এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।

মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুরস্কার পেয়েছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের। ‘জরুরি সেবা’ ক্যাটাগরিতে তিনিসহ মোট ছয়জন চিকিৎসককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

তানসিভ জুবায়ের (৩৫) ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরে ৩৫তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৭ সালের ২ মে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন।

তানসিভ জুবায়ের বলেন, ‘যেকোনো স্বীকৃতিই কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। আমি বিশেষ কিছু করেছি—এটা বলব না; সীমিত সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। তবে এখানেই থেমে গেলে হবে না, আরও এগিয়ে যেতে হবে।’

0

রেডিও


একটা সময় ছিল, যখন ঘরের এক কোণে রাখা এই রেডিওটাই ছিল জানালার মতো—বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে একমাত্র যোগাযোগ।
সকালে হলেই রেডিওর নব (বাটন) ঘোরানো হতো। একটু শোঁ শোঁ শব্দ, তারপর ভেসে আসত পরিচিত কণ্ঠ—খবর, কিংবা কোনো অচেনা গানের সুর।

এই রেডিও শুধু যন্ত্র ছিল না, সন্ধ্যার পর সবাই কাজ শেষ করে জড়ো হতো এর চারপাশে। কারও অনুরোধে গান, আবার কখনো খেলার ধারাভাষ্য—সবই আসত এই একটিমাত্র বাক্স থেকে। বিদ্যুৎ না থাকলেও চিন্তা ছিল না; ব্যাটারিতে চলা রেডিও তখন ভরসার নাম।

রেডির গায়ে জমে থাকা ধুলো আসলে বয়সের ছাপ নয়, বরং সময়ের সাক্ষ্য। প্রতিবার চালু হলে মনে হয়—সবকিছু বদলালেও কিছু জিনিস থেকে যায়, ঠিক এই রেডিওগুলোর মতো।

অতীতকে হাত দিয়ে ছোঁয়া না গেলেও, এই রেডিওর শব্দে আজও পুরনো স্মৃতি অনুভব করা যায়। ফরিদপুর সদর উপজেলার স্টেশন রোড ফুটপাত দিয়ে যাবার সময় আপনার কানে ভেসে আসবে বাংলাদেশ বেতার অথবা বিবিসি বাংলা।

এসব রেডিওর কোনোটি ১৯৮৫ সালে,কোনোটি কেনা ১৯৯০ সালের দিকে যা আজও সচল আছে।
সময় বদলেছে।
আধুনিক যুগে রেডিও,, ক্যাসেটের জায়গা নিয়েছে মোবাইল। তবু আশ্চর্যজনকভাবে, এই পুরোনো রেডিওটি আজও সচল। নব ঘোরালেই এখনো সেই পরিচিত শব্দ, সেই চেনা অনুভূতি। বিনোদনের একমাত্র মাধ্যমটিকে তারা আজও পরম যত্নে আগলে রেখেছেন। কাজের ফাকে এই যন্ত্রটিই তাদের একমাত্র সঙ্গী হয়ে আছে। নিয়মিত শোনা হয়—হয়তো আগের মতো সবাই মিলে নয়, কিন্তু মন দিয়ে।
ধন্যবাদ জানাই আপনাদের অতীতের এই বিনোদন যন্ত্রটিকে ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছেন।

তথ্যচিত্রে ফরিদপুর সিটি অর্গানাইজেশন
সহযোগিতায় আহসান হাবীব বাপ্পি (মডারেটর)
ফরিদপুরকে দেখুন ফরিদপুরকে জানুন।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুনঃ https://fb.watch/EI9E3I4ofj/

0

চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকার

কালিদাস কর্মকার। তিনি একজন প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী যিনি নিরীক্ষাধর্মীতার জন্য বিখ্যাত। ১০ জানুয়ারি  ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুরে তাঁর জন্ম হয়। শৈশবেই তিনি আঁকতে শুরু করেন। স্কুল জীবন শেষে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে তিনি ১৯৬৩-৬৪ খ্রিস্টাব্দে চিত্রকলায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন।

পরবর্তীকালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব ফাইন আর্টস অ্যান্ড ক্রাফট থেকে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান নিয়ে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইয়োরোপীয় আধুনিকতার ঘরানার শিল্পী। দেশ ও দেশের বাইরে কালিদাস কর্মকারের একক চিত্র প্রদর্শনীর সংখ্যা ৭২টি। চারুকলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, শিল্পকলা পদকসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

৭৩ বৎসর বয়সে ২০১৯’র ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিজ বাসগৃহে তাঁর মৃ*ত্যু হয়।

Ambika charon 0

অম্বিকাচরণ মজুমদার

অম্বিকাচরণ মজুমদার।
তিনি ছিলেন বাঙালি রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং সমাজসেবী ,যিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। অম্বিকাচরণ মজুমদার ১৮৫১ সালে বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন সেনদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ তিনি একাধারে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সমাজসেবক ও গ্রন্থকার ছিলেন৷ কৃতিত্বের সাথে বি.এ পাস করার পর ১৮৭৪ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশা গ্রহণ করেন ৷ ১৮৭৯ সাল থেকে তিনি ফরিদপুর সদরে আইন ব্যবসা শুরু করেন। স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ করেন। ১৮৮১ সালে পিপলস এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং তা ভারতসভার সঙ্গে যুক্ত হয়।[৩]উনিশ শতকের শেষ দিকে তিনি ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯১৩ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত উক্ত এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন৷ ১৯১৬ সালে লখনউতে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে তিনি সভাপতি নিযুক্ত হন৷ ১৯১৮ সালে রাজেন্দ্র কলেজ স্থাপিত হলে তিনি কলেজের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি নিযুক্ত হন এবং কলেজ পরিচালনায় ও উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখেন৷ তিনি ফরিদপুর জেলা বোর্ডের সদস্য ও পৌরসভার সভাপতি ছিলেন৷


জন্ম ও পরিচয়ঃ
অম্বিকাচরণ মজুমদারের বাবার নাম ছিল রাধা মাধব এবং মায়ের নাম ছিল সুভদ্রা দেবী। রাধা মাধবের পূর্ব পুরুষ সবাই ছিল নামকরা লোক। অম্বিকাচরণের জন্মের সময় মাদারীপুর ছিল বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল) জেলার অন্তর্গত। আর রাজৈর ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার অন্তর্গত। তার বাবা ছিল জমিদার। সে সময় বাকেরগঞ্জের মধ্যে মজুমদার পরিবারের একটি সম্ভ্রান্ত ইতিহাস ছিল।


শিক্ষা জীবনঃ
অম্বিকাচরণ মজুমদারের শুরু হয় ১৮৫৮ সালে স্থানীয় পাঠশালায়। এরপর ভর্তি হন খালিয়া গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে স্কুলের শিক্ষকদের ধরাবাধা নিয়ম অ অতিরিক্ত শাসনের কারনে তিনি স্কুল ত্যাগ করেন। এরপর ১৮৬০ সালে তার মা সুভদ্রা দেবী তাকে ভর্তি করে দেন বরিশালের একটি ইংরেজী স্কুলে। বরিশালে পড়া শেষে ভর্তি হন ফরিদপুর জিলা স্কুলে। আর সেখান থেকেই তিনি ১৮৬৯ সালে কৃতিত্বের সাথে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করার পর তিনি ভর্তি হন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে। ১৮৭১ শালে তিনি এ কলেজ থেকে এফ এ পাশ করেন। এফ এ পাশ করার পর ভর্তি হন এসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশন স্কটিশ চার্চ কলেজে। ১৮৭৪ সালে তিনি এ কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে ৮ম স্থান বি এ পাশ করেন। এরপর তিনি আবার ভর্তি হন প্রেসিডেন্সী কলেজে। আর এখান থেকে তিনি এম এ পাশ করেন। এরপর তিনি কিছু সময় চাকরি করেন। এ চাকরি ছেড়ে তিনি আবার ভর্তি হন আইন পড়ায়। ১৮৭৮ সালে তিনি বি এল পাশ করেন।


কর্মজীবনঃ
প্রেসিডেন্সী কলেজে পড়া শেষে অম্বিকাচরণ মজুমদার ১৮৭৪ সালে যোগদান করেন মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনে ইংরেজী অধ্যাপক হিসেবে। এ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আর সে সুবাদেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সাথে তার গভীর সম্পর্ক হয়। আইন বিষয়ে পড়ার জন্য তিনি এ চাকরি ছেড়ে দেন। আইন পড়া অবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার প্রতিষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য আবার অনুরোধ করেন। ঈশ্বরচন্দ্রের অনুরোধে তিনি ১৮৭৫ সালে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে দুই বছর চাকরি করে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে ফিরে আসেন জন্মভূমি ফরিদপুরে।


রাজেন্দ্র কলেজ প্রতিষ্ঠা ও ফরিদপুরের কিছু উন্নয়নঃ
ফরিদপুরের শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে অম্বিকাচরণ মজুমদারের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ছিলেন ফরিদপুরের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজেন্দ্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯১৫ সালের ২১ নভেম্বর কয়েকজন গণ্যমান্য লোকদের নিয়ে একটি সভা ডাকেন। উক্ত সভায় কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং অম্বিকাচরণ মজুমদার কে সভাপতি মনোনীত করা হয়। এরপর ১৯১৬ সালের ৯ জানুয়ারী কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি মাষ্টার প্লান করা হয় এবং নির্বাচিত করা হয় কলেজের স্থান। তবে পরিকল্পনা করলেই তো আর কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়ে যায় না, এর জন্য প্রয়োজন কিছু জমি ও প্রচুর টাকা-পয়সা। তাই অর্থের জন্য তিনি দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেন। বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে তিনি যান বাইশরশির জমিদার রমেশচন্দ্র রায় চৌধুরীর কাছে। রমেশচন্দ্র জানান তিনি টাকা দিতে রাজি আছেন, যদি ঐ কলেজের নাম তার বাবা রাজেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরীর নামে রাখা হয়। ১৯১৬ সালের ১৩ অক্টোবর কলেজ কমিটি রাজেন্দ্র কলেজ নামকরণের প্রস্তাব গ্রহণ করে। রমেশচন্দ্র চৌধুরীর পিতার নামে কলেজের নামকরণের প্রস্তাব গৃহীত হলে তিনি কলেজের জন্য ৫০ হাজার টাকা দান করেন। এছাড়া মনীন্দ্র চন্দ্র নন্দী নামে এক জমিদার কলেজ স্থাপনের জন্য ৩০ হাজার টাকা দান করেন। টাকা জোগাড় হলেও এক সময় কলেজের জমি নিয়ে সমস্যা হলে কলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। এরপর সরকার কলেজ ভবন নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে শত বাধা সত্যেও অম্বিকাচরণ মজুমদার থেমে থাকেননি। সরকারি বরাদ্দের জন্য ঘুরেছেন সরকারের উচ্চ পর্যায় প্রযন্ত। তবে অবশেষে তিনি সফল হন। ১৯১৮ সালের ২৫ মে ভারত সরকার বার্ষিক একটাকা খজনার বিনিময়ে রাজেন্দ্র কলেজের জন্য ৫.৫৫ একর জমি বরাদ্দ দেন এবং ঐ সালের ১১ জুন কলেজ ভবন নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। অবশেষে ১৯১৮ সালের ৩০ জুলাই রাজেন্দ্র কলেজের উদ্বোধন করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঐ কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। অম্বিকাচরণ মজুমদার একটানা ২০ বছর ফরিদপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি ফরিদপুরের অনেক উন্নয়ন করেন। ফরিদপুরকে গড়ে তুলেন নিজের মত করে। পৌরভবন, রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ ও পৌরসভায় পানির ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করেন। আর এজন্য তাকে বলা হয় আধুনিক ফরিদপুরের রূপকার। তিনি ছিলেন বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার ঢাকা বিভাগের পৌরসভা প্রতিনিধি। ফরিদপুর পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখতে এসে তৎকালীন বাংলার গভর্নর স্যার জন উডবান তাকে ‘Grand Oldman’ উপাধি দেন। তিনি দীর্ঘ দেন ফরিদপুর জেলা বোর্ডের সদস্য ছিলেন। এক সময় তিনি ফরিদপুর লোন অফিসের পরিচালক ছিলেন। তিনি ছিলেন ফরিদপুর টাউন থিয়েটারে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তার উদ্যোগে ১৯৮৮ সাল থেকে ফরিদপুরে মেলা শুরু হয়। তিনি ছিলেন ঐ মেলা কমিটির সম্পাদক। ১৯০৬ সালে তিনি ফরিদপুর বঙ্গ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ১৯০৭ সালে পুনরায় ঐ কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯০৭ সাল থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত তিনি ঐ স্কুলের সভাপতি ছিলেন। তার প্রচেষ্টায় ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ী পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ করা হয়। তিনি ফরিদপুর থেকে মাদারীপুর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণের জন্য আন্দোলন করেছিলেন। সাংবাদিকতা ও সাহিত্য চর্চাঃ রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সাহিত্য চর্চাও করেছিলেন। তিনি ‘চিত্রকর’ নামে একটি বাংলা সাময়িকপত্র পরিচালনা করতেন। পত্রিকাটি প্রকাশিত হত মাদারীপুরের উলপুর থেকে এবং মূদ্রিত হত কলকাতা থেকে। এর প্রথম সংখ্যা বের হয় বাংলা ১২৮৩ সালে। লেখালেখিতেও তিনি ছিলেন পারদর্শী। ১৯১৫ সালে তিনি ‘Indian National Evolution’ নামে একটি বই রচনা করেন। বইটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ভারতীয় রাজনীতি ও জতীয়তাবাদ। সে সময় তার এ বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তার পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ফরিদপুর হিতৈষী’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হত।

মৃত্যুঃ

১৯১৮ সালে তার পুত্র কলকাতা হাই কোর্টের উকিল হেমচন্দ্র মজুমদারের মৃত্যুর পর থেকে শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৯২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে ঐ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৭২ বছর বয়সে এই মহান রাজনীতিবিদ দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নেন। অম্বিকাচরণ মজুমদারের মৃত্যুর পর তার স্মৃতি স্বরূপ ফরিদপুর টাউন হলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় অম্বিকা মেমোরিয়াল হল এবং তার বাড়ির সামনের সড়কের নাম রাখা হয় অম্বিকা রোড।

0

৯ম বারের মতো ঘুড়ির রঙিন আয়োজন

ফরিদপুর, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫: 

প্রতি বছরের মতো এবছরও আয়োজন করা হয়েছে ফরিদপুরের জনপ্রিয় ঘুড়ি উৎসব। আগামি ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, শনিবার, ফরিদপুর সদর উপজেলার  ধলার মোড়, পদ্মার পাড়ে অনুষ্ঠিত হবে পেপারটেক ৯ম ঘুড়ি উৎসব। 

উৎসবটির আয়োজন করছে ” ফরিদপুর সিটি অর্গানাইজেশন”, যেখানে অংশগ্রহণ করবেন জেলার বিভিন্ন ঘুড়ি প্রেমী, কিশোর-তরুণসহ সকল শ্রেণির মানুষ। 

উৎসবে অংশগ্রহনকারী ঘুড়ি নির্মাতাদের জন্য  থাকছে আর্কষনীয় পুরস্কার। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। উৎসবে অংশগ্রহনকারী ঘুড়ি নির্মাতাদের  জন্য থাকছে বিশেষ পুরস্কার ও সনদপত্র।  এই উৎসব শুধু বিনোদন নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার এক প্রাণবন্ত প্রচেষ্টা।

উক্ত উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে আছে পেপারটেক ইন্ড্রাসট্রিজ লিঃ।

বিশেষ সহযোগী পৃষ্ঠপোষক হিসাবে আছে ফুসতান এ্যামপোরিয়াম।

সহযোগী পৃষ্ঠপোষক হিসাবে আছে এ্যাবলুম ক্যাফেটেরিয়া, ইপিডি আইটি সলিউশন, টাইমস ইউনির্ভাসিটি ফরিদপুর।

0

Recent Post

Lottery Result 2026,Faridpur Zilla School

ফরিদপুর জিলা স্কুলের লটারির ফলাফল ২০২৬।

CamCorner Faridpur Photo Contest 2025 0

পুরস্কার বিতরণ এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো CamCorner Faridpur Photo Contest 2025

পুরস্কার বিতরণ এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো Faridpur City Organization আয়োজিত CamCorner Faridpur Photo Contest 2025

” আমার চোখে ফরিদপুর”

আলোকচিত্র শিল্পী জনাব অভিষেক কর্মকার এর দক্ষ বিচার কার্যের মাধ্যমে ১৪৭টি ছবির মধ্য থেকে নির্বাচিত সেরা ৩জন বিজয়ীদের মাঝে ফরিদপুর সিটি অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। সেই সাথে পৃষ্ঠপোষক CamCorner Faridpur এর পক্ষ থেকে ৩জন বিজয়ীরদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উক্ত ফটো কন্টেস্ট এ ১ম স্থান অর্জন করেছেন মো: অমিত হাসান

২য় স্থান অর্জন করেছেন অভিলাষ ঘোষ, এবং ৩য় স্থান অর্জন করেছেন সৌম্য সাহা।

এছাড়াও ছবিতে সর্বাধিক রিএক্ট পরা একজন অংশগ্রহণকারী হৃদয় মন্ডলকে সম্মাননা স্মারক ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে।