FaridpurCity a social community & nonprofit organization

0

মথুরাপুর দেউল

মথুরাপুর দেউল একটি প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন।

ফরিদপুর এর মধুখালি উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে অবস্থিত এই দেউলটি। ধারনা করা হয় এই দেউলটি ষোড়শ শতাব্দিতে তৈরী। বলা হয় সংগ্রাম সিং নামের এক সেনাপতি এটি নির্মান করেছিলো। আরও একটি সুত্র মতে সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিং রাজা প্রতাপাদিত্যের বিরুদ্ধে জয়লাভের স্মারক হিসেবে এই দেউলটি নির্মান করেছে। এই দেউলটি মাটি থেকে  ২১.২ মিটার উচু বা ৮০ফুট। দেউলটি চুন শুরড়ির দ্বারা নির্মান করা হয়েছে দেউলটির গায়ে টেরাকোটার নান্দনিক কারুকার্য করা রয়েছে সেখানে বিভিন্ন পৌরানিক কল্পকাহিনিও তুলে ধরা হয়েছে। ঐতিহাসি এই নিদর্শন দেখতে প্রতিদিনিই দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।

যেভাবে যাবেন:মধুখালী উপজেলা হতে ২ কি.মি. উত্তরে রিকসা,ভ্যান অথবা অটোযোগে যাওয়া যায়।

গুগল ম্যাপ লিংক https://goo.gl/maps/aRTuyPFHuRJkSpidA

0

গড়াই সেতু

দৃষ্টিনন্দন ‘গড়াই সেতু’  ১৯৯১ সালের ১৬ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেতুটির উদ্বোধন করেন গড়াইসেতু কামারখালি ব্রিজ নামেও সু-পরিচিত। । গড়াই সেতুর দৈর্ঘ্য ৬২২ মিটার। সেতুটির নির্মান ব্যায় ছিলো ৫০ কোটি টাকা। এই সতেুটি দেখতে অনেকেই দুর দুরান্ত থেকে ভ্রমনে আসে বর্ষাকালে এবং শীত মৌসুমে সেতুর নিচে নদীর সৌন্দর্যও ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।

0

বঙ্গবন্ধু মান মন্দির

ফরিদপুর তথা বাংলাদেশের জন্য অন্যতম দর্শনীয় স্থান হতে যাচ্ছে এই মান মন্দির।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  ভাঙ্গাকে একেবারে আদর্শতম জায়গা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে মানমন্দির নির্মানের জন্য। কারন হচ্ছে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পর্যন্ত মাত্র ৫৫ কিলোমিটার পথ দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে এবং এশিয়ান হাইওয়ের করিডোর। এখানে বঙ্গবন্ধু মানমন্দির নির্মিত হলে তা হয়ে উঠবে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। সমগ্র বিশ্ব হতে দর্শনাথীর আগমন ঘঠবে এখানে কারন এটাই একমাত্র মান মন্দীর যা স্থলভাগে দর্শন করা যাবে। ফরিদপুরবাসীর জন্য ভীষণ আনন্দের  একটি বিষয়।

0

বীর শ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ

দেশের ৭জন বীরশ্রেষ্ঠের একজন হচ্ছেন বীর শ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ। আমরা ভীষণভাবে গর্বীত এই বীর সন্তানের জন্য। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান চীর স্মরণীয় হয়ে আছে বাঙ্গালীর হৃদয়ে। তার জন্ম ১৯৪৩ সালের ৮ মে ফরিদপুর এর মধুখালি উপজেলার  সালামতপুর গ্রামে যা বর্তমানে রউফনগর নামে নামকরণ করা হয়েছে। তার বাবার নাম মুন্সি মেহেদি হাসান তিনি ছিলেন স্থানীয় মসজিদের একজন ইমাম এবং তারা মা এর নাম মুকিদুন্নেসা।  মুন্সি আব্দুর রউফ তার বাবার মৃত্যুর পরে ১৯৬৩ সালের ৮ মে   ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে যোগ দেন। মুক্তিযদ্ধের সময় তিনি ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেছিলেন। তিনি ৮ই এপ্রিলে শাহাদাৎ বরণ করেন। তার কবর রাঙামাটির নানিয়ার চরে অবস্থিত।

তার স্মরণে একটি মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে তবে তার বাড়ি যাবার পথটি ভীষন ভগ্ন দশায় পরিণত যেটা কেউ মেনে নিতে পারছে না । একজন জাতীয় বীর এর  বাড়ির পথ কেনো এমন হবে।

0

ফরিদপুর পৌরসভা

ফরিদপুর পৌরসভা ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত।

১৮৮৯ সালে অম্বিকাচরণ মজুমদার যখন ফরিদপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান

১৮৫০ সালে ব্রিটিশ আমলে লর্ড ডালহৌসী ঢাকা জেলাকে ভেঙ্গে ফরিদপুর জেলার সৃষ্টি করেন। এর কিছুকাল পর ১৮৬৯ সালে ফরিদপুর শহরকে পৌরসভায় রুপান্তর করা হয়। ফরিদপুর পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড ছিলো বর্তমানে  ২৭টি ওয়ার্ডএ উন্নতি করা হয়েছে। ফরিদপুর পদ্মা নামে বিভাগ ঘোষনা হলেই ফরদপর পৌরসভা সিটি কর্পোরেশন হিসেবে ঘোষনা করা হবে।ফরিদপুর পৌরসভা ১৯৮৩ সালে “গ’’ ক্যাটাগরী থেকে “খ’’ ক্যাটাগরীতে এবং ১৯৮৬ সালে “খ’’ ক্যাটাগরী থেকে “ক’’ ক্যাটাগরীতে উন্নীত হয়।

4

রায় সাহেব ঈশানচন্দ্র  সরকার এর জমিদার বাড়ি

জমিদার রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকার এর বাড়ি

জমিদার রায় সাহেব ঈশানচন্দ্র সরকার এর বিশাল জমিদারিত্ব ও গৌরবময় ইতিহাস আমাদের অনেকেরই অজানা, দেশো বছরের পুরোনো ইতিহাস রয়েছে এই জমিদার বাড়ির। রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকার ১৮৪০ সালে জন্মগ্রহন করেন ঈশানচন্দ্র রায় এর পিতার নাম ছিলো কৃষ্ণকুমার এবং  মাতার নাম ছিলো নবদুর্গা

রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকার ১৮৭০ সালের  কৃষকদের নিয়ে সংঘটিত পাবনা বিদ্রোহের অন্যতম সক্রিয় নেতা ছিলেন  এবং এই কারণেই সকলের মাঝে তিনি “বিদ্রোহী রাজা” বলে পরিচিত হন।  তিনি অত্যন্ত মাতৃভক্ত ছিলেন। রায় সাহেব এর জমিদারিত্ব ছিলো বিস্তৃত ঢাকা জেলার দোহার থেকে শুরু করে গোয়ালন্দ হয়ে পাবনা জুড়ে এই জলা ভূমির জমিদারি। ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর গ্রামে এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি অবস্তিত। তাঁর নাম অনুসারেই ঈশান গোপালপুর গ্রাম এবং ইউনিয়ন করা হয়েছে। 

ফরিদপুর শহরের ৫মাইল পম্চিমে ভুবনেশ্বর নদের তীর অবস্থিত একটি গ্রাম নাম  গোপালপুর , তবে বর্তমানে সেই ভুবনেশ্বর নদের চিহ্ন তেমনটা নেই। পদ্মার কড়াল গ্রাস গ্রামটিতে আঘাত হানলেও গ্রামটি টিকে আছে আজও। ঈশান চন্দ্র সরকারের নাম অনুসারেই পরবর্তীতে গোপালপুর গ্রামটি ঈশান গোপালপুর নামে নামকরণ করা হয়।

এই জমিদার বাড়িতে রয়েছে দেরশো বছরের পুরোনো দূর্গামন্দির,সুরম্য অট্টালিকা,সানবাধানো পুকুরঘাট, খিরদভবন,শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, শিব মন্দির,দোলমঞ্চ, মাতৃমন্দির, সহ বেশ কিছু সমাধিসৌধ বা মঠ। প্রত্যেকটি স্থাপনার রয়েছে নান্দনিক স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব সমাহার। নান্দনিকভাবে কারুকার্য করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাড়িটির প্রতিটি ভবন যা যে কাউকেই মুগ্ধ করবেই।

ঈশানচন্দ্র সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রেও ব্যাপক অবদান রেখেছেন তার প্রতিষ্ঠিত উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান যা আজও বিদ্যমান জমিদার রায় সাহেব ১৮৮৫ সালে তিনি ফরিদপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে “ঈশান ইনস্টিটিউশন”  নামে একটি ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি নিজের পাঁচ একর জমি দান করেন। ১৮৯৭ সালের ২১শে জুন বাংলার ছোটলাট বাহাদুর ঈশান ইনস্টিটিউশন পরিদর্শন করেন । বিদ্যালয়টির সাফল্য দেখে ছোটলাট বাহাদুর ঈশান চন্দ্র সরকারকে সম্মান সূচক একখানা প্রশংসা পত্র প্রদান করেন।  ঠিক পাশেই  ১৯০৭ সালে নারী শিক্ষার প্রসারের জন্য ঈশান চন্দ্র সরকার ঈশান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন যা আজও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছে। এছাড়া ১৯৭৬ সালে রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকার এর পৌপুত্র, খগেন্দ্রনাথ সরকার (লক্ষন বাবু) ঈশান চন্দ্র সরকারের নামে ঈশান গোপালপুরে ঈশান ইনস্টিটিউশন নামে উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা ফরিদপুরের মধ্যে অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

তিনি ফরিদপুরের উন্নয়নের জন্য ব্যাপক জনহিতকর কাজ করেছেন  ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে তার নামেই রয়েছে ঈশান মেমোরিয়াল হল, তারার মেলা ইশান মেমোরিয়াল স্কুলটি তার নামে নাম করন করা । এছাড়াও ফরিদপুর সদর হাসপাতালে শরৎকামিনী এক্সরেভবন নির্মানেও অবদান রেখেছেন ঈশানচন্দ্র সরকারের সন্তানগন। ফরিদপুর শহরের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ঈশানচন্দ্র সরকারের জমিতে গড়ে উঠেছে  তার মধ্যে ২ নং পুলিশ ফারি, সাব রেজিস্টার কার্যালায়,। ফরিদপুর জুবিলি ট্যাংক এর দক্ষিনদিকের পুকুর ঘাট নির্মানেও ঈশান চন্দ্র সরকার অর্থ সহযোগীতা প্রদান করেছিলেন। ভাবা যায় রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকারের অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ । অথচ আমরা অনেকেই জানি না তার সম্পর্কে। তিনি তার জনকল্যানকর কাজ শুধু নিজ জেলার মধ্যেই সীমাব্ধ রাখেন নি বৃহত্তর ফরিদপুরবাসীর সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন তিনি।

রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকার ১৯১৫ সালের ২৮শে এপ্রিল  বুধবার মৃত্যুবরণ করেন।

 ১৯৭১ সালের ২ রা মে ফরিদপুর সদর উপজেলার জমিদার রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকারের বাড়িতে পাকিস্তানি বাহিনী এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছিলো। জমিদার বাড়িতে আশ্রয় নেয়া ২৮জন ব্যাক্তিকে এক এক করে হত্যা করায় সেদিন।

যেভাবে যাবেনঃ ফরিদপুর সদর উপজেলার রাজবাড়ি রাস্তার মোড় থেকে ঢাকা মহাসড়কের দিকে সোজা চলে আসবেন ধুলদি স্ট্যান্ড, ডান দিকে ধুলদি বাজারের ভেতর দিয়ে চলে যাবেন সরাসরি ঈশান গোপালপুর বাজার, সেখানে যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই বাড়ির পথ দেখিয়ে দিবে।

0

ময়েজ মঞ্জিল জমিদার বাড়ি

ময়েজ মঞ্জিল ফরিদপুর সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রামে অবস্থিত। জমিদার বাড়িটি ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠা করেন খান সাহেব ময়েজ উদ্দিন বিশ্বাস। বাড়ির জমিদারদের বার্ষিক আয় থেকে ১১ লাখ রূপি দিয়ে ১৮৮৫ সালে  প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয়। এই জমিদারবাড়িতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সংঘটিত হতো।

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মহাত্মা গান্ধী সহ ভারতীয় অভিনেত্রীদের এই জমিদারবাড়িতে আগমন ঘটেছিলো। ফরিদপুর তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই জমিদার বাড়িটি  গুরুত্ব অবদান রেখে চলেছে।

0

কানাইপুর শিকদার বাড়ি

কানাইপুর শিকদার বাড়িটি ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ৪শত বছরের পুরোনো এই জমিদার বাড়ির ইতিহাস বলে ধারনা করা হয়। জমিদার বংশের রাণী ভবতারিণী শিকদার একজন সুশাসক ছিলেন। রানী ভবতারিনী শিকদারের আমল থেকে জমিদার হিসেবে শিকদার বংশের উন্নতি শুরু হয় ।

এই জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধেই ফরায়েজী আন্দোলন শুরু হয়েছিলো তার নেতৃত্ব দান করেছিলেন হাজী শরিয়াতুল্লাহ তার মৃত্যুুর পরে তার পুত্র ১৯১৮ দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি,নীলকরদের অত্যাচার, কৃষকদের জমিদার,  ও শোষন হতে মুক্ত করা ছিল এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

0

নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট

নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট হচ্ছে বাংলাদেশের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান যা প্রধানত নিয়ন্ত্রণ, নদীর নাব্যতারক্ষা ও পাললিকীকরণ, সেচব্যবস্থা এবং নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে জরিপ পরিচালনা ও ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ করে থাকে এবং এটি ফরিদপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত। ১৯৮৯ সালের ১লা জুলােই ঢাকা হতে ফরিদপুরে স্থানান্তরিত হয়।

0

আলিমুজ্জামান হল বা ফরিদপুর মিউজিয়াম

আলিমুজ্জামান হল যা বর্তমানে ফরিদপুর ‍মিউজিয়াম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। খান বাহাদুর আলিমুজ্জামান চৌধুরীর নামানুসারে এই হলটির নাম রাখা হয়েছিলো আলিমুজ্জামান হল।তিনি  দীর্ঘ ১২ বছর ফরিদপুর  ফরিদপুর পৌরসভার সভাপতি ছিলেন।