FaridpurCity a social community & nonprofit organization

0

কবি আশরাফ আলী খান

কবি আশরাফ আলী খানের জন্ম ১৯০১ সালে জেলার আলফাডাংগা থানার পানাইল গ্রামে। কবি ও সাহিত্যিক আশরাফ আলী খান যশোর থেকে ম্যাট্রিক পাশ এবং কোলকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করলে কলেজের পড়ার সমাপ্তি ঘটে। ১৯২৩ সালে কলকাতায় ইনকামট্যাক্স অফিসে কেরানীর চাকুরী লাভ করেন। ১৯২৭ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘বেদুঈন’ প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য সরকারী চাকরী ইস্তফা দেন। ১৯৩৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘নও জওয়ান’ প্রকাশিত হয়। বিপ্লবের বেদনা ও সাম্যের কবি হিসেবে খ্যাত “ তার রচিত কাব্যগ্রন্থ” “ভোরের কুহু” “কঙ্কাল” “ছন্ন ছাড়ার ক্লাব। এছাড়া ইকবালের বিখ্যাত কাব্য ‘শেকেয়ার’ সার্থক বঙ্গানুবাদ তাঁর অমর সৃষ্টি। দারিদ্র্যের দুঃসহ জ্বালায় ১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর মাত্র ৩৮ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন।

0

এস এন কিউ জুলফিকার আলী

 

এস, এন, কিউ, জুলফিকার আলী নছরু ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানার কুঠিবাড়ী গ্রামে ১৯০১ সালের ১ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ১ম শ্রেণী স্নাতক সম্মান ডিগ্রী লাভ করেন, পরে লন্ডন থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন ঢাকা শিক্ষক প্রশিক্ষক কলেজে চাকরীতে যোগদানের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে শিক্ষা ইন্সষ্টিটিউটের কো-ডাইরেক্টর হওয়ার পর অবসর গ্রহণ করেন। অবসরে বাংলা একাডেমী স্পেশাল অফিসার হিসাবে যোগদান করেন। ইংরেজীতে বেশ কয়েকটি বই রচনা করেছেন। ইংরেজী দৈনিক অবজারভারে এ্যাসট্রিক ছদ্ম নামে ‘এ্যাজ আই সি ইট’ শীর্ষক কলাম লিখতেন। জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য হিসাবে বাংলা ও ইংরেজী বিষয়ে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করেন। তিনি একজন খ্যাতি সম্পন্ন সু-সাহিত্যিক ছিলেন।

0

ডাঃ কেশব লাল সাহা

ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার বানা ইউনিয়নের অন্তগর্ত শিরগ্রামে ১৯১৭ সালে ডাঃ কেশব লাল সাহা জন্মগ্রহণ করেন। চিকিৎসা পেশায় ফরিদপুর জেলায় তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন। ভারতের কোলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সংগে এম.বি, বি,এস পাশ করেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ১১টি স্বর্ণপদক পেয়েছেন। বহু জটিল রোগীকে চিকিৎসা করে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন এবং অত্র অঞ্চলে একজন প্রথিতযশা চিকিৎসক হিসেবে তার যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। তিনি ১৯৯৯ সালের ২১ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

0

ডাঃ চারু চন্দ্র রায় চৌধুরী

ডাঃ চারু চন্দ্র রায় চৌধুরী ফরিদপুর সদর থানার কৈজুরী ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে ১৩১৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবন জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম কেদারনাথ রায় চৌধুরী। পেশায় গ্রাম্য ডাক্তার ছিলেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ডাঃ চারু চন্দ্র রায় চৌধুরী অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোট গল্প, নাটক ও উপন্যাস রচনা করেছিলেন। যেমন; নবাব মীর কাশিম, পলাশ ডাঙ্গার ঝড়, লাইলী মজনু, গুণাই বিবি, বিজয় সংগীত, রাজা সীতারাম রায়, নৌকাডুবি, কারবালা, সৎ মা, মধুমালা, বাংলার সোনালী ফসল, ঋণ শোধ, অমরেশের ভাগ্য পরিবর্তন, একাত্তরের একটি দিনে, ফরিদপুরের সেকালের কথা, কবি জসীমউদ্দীন ও তাম্বুলখানার কথা, জলের ক্ষুধা। তিনি একজন অভিনয় শিল্পীও ছিলেন। অমায়িক ব্যবহারের এই সাহিত্যিক ১৯৯২ সালের ৬ জানুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন।

0

আবদুল ওয়াহেদ সরদার

আবদুল ওয়াহেদ সরদারের জন্ম নগরকান্দা থানার ডাংগী ইউনিয়নের বিল গোবিন্দপুর গ্রামে ১৯২০ সালে। পিতার নাম আহসান উল্লাহ সরদার। দীর্ঘ ৩০ বছর ডাংগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। ওয়াহেদ সরদার ফরিদপুর জেলা পরিষদের সদস্য এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ফরিদপুর কো-অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের বিলগোবিন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেন। তালমা কৃষ্ণপুর সড়ক নির্মাণের জন্য ৭০ ভাগ জমি দান করেন। এই সড়কের উপর নির্মিত একটি সুবিশাল ব্রীজ তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের অর্থে তাঁর সময়ে নির্মিত হয়। বিষয়টি তৎকালীন রেডিও পাকিস্তান ফলাও করে প্রচার করে। সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য জেলা প্রশাসক কর্তৃক স্বর্ণপদক এবং সরকারী রাজেন্দ্র কলেজ থেকে রৌপ্য পদক পেয়েছেন। খেলাধুলার ব্যাপারে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ফরিদপুরে একজন জনপ্রিয় সমাজসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন।

0

কবি সুফী মোতাহার হোসেন

সনেট কবি সুফী মোতাহার হোসেন ফরিদপুর জেলার সদর থানাধীন বিস্‌মিল্লাহ শাহের মাজারের সন্নিকটে ভবানন্দপুর (কৈজুরী) গ্রামে ১৯০৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোহাম্মদ হাশিম ছিলেন পুলিশের ইন্সপেক্টর। সুফী মোতাহার হোসেন ফরিদপুর জিলা স্কুল প্রথম বিভাগে এন্টাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ফরিদপুরস্থ ঈশান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বাল্যকাল থেকেই লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। কবি জসীমউদ্দীনের সমসাময়িক এই কবি সনেট লেখায় পারদর্শী ছিলেন। তার সনেট গ্রন্থের জন্য ১৯৬৫ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার, ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। শেষ বয়সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৭ আগষ্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

0

মেছের শাহ্

লালন সম-সাময়িক ফরিদপুরের অন্যতম বাউল ও মরমী সাধক মেছের শাহ্ ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার মাসাউজান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলার প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তিনিই এ জেলার সবচেয়ে প্রাচীনতম বাউল ও মরমী সাধক। তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ‘সত্য ধর্মে মারফতে ইসলাম।’ আনেচ আলী চিশতি তার একমাত্র পুত্র। তিনিও একজন মরমী সাধক ছিলেন। নগরকান্দা থানার রসুলপুর বাজারের পাশে তার সমাধি রয়েছে।

0

আলমগীর এম.এ.কবীর

আলমগীর এম.এ. কবীর ১৯১১ সালের ২৫ নভেম্বর ফরিদপুর শহরের কোমরপুরস্থ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা খান বাহাদুর কবির উদ্দিন আহমেদ। মাতা সাজেদা কবির উদ্দিন। শহরের আলীপুরে সাজেদা কবিরউদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলটি আলমগীর এম.এ. কবীরের মায়ের নামে, তারা এটির প্রতিষ্ঠাতা৷ বর্তমানে ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। ১৯২৯ সালে নওগাঁও কেডি এইচ স্কুল থেকে ম্যাটিকুলেশন, ১৯৩২ সালে আই,এ, কোলকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন। কর্মজীবনে ইন্ডিয়ান পুলিশের প্রতিযোগিতামুলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৩৫ সালে ১ মার্চ সহকারী পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান পুলিশের আইজিপি পদে সুনামের সহিত কাজ করার পর অবসর গ্রহণ করেন। সামাজিক কর্ম ১৯৪২-৪৩ সালে ময়মনসিংহে এসপি থাকাকালীন সময়ে মুসলিম পলিটেকনিক হাইস্কুল প্রতিষ্ঠায় উদ্যোক্তার ভূমিকা গ্রহণ, ১৯৬৮ সালে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল এ যোগদান, ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৭ সালে পর্যন্ত সরকারের ব্লাড ট্রান্সমিশন কমিটির অবৈতনিক পরিচালক হিসাবে কাজ করেন। ১৯৫৩ সাল থেকে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির সভাপতি, এছাড়া স্বনির্ভর বাংলাদেশ, নারী পুর্নবাসন কল্যাণ ফাউন্ডেশন, সামাজিক পুনরুদ্ধার ও সংশোধন সমিতির স্থায়ী সদস্য, বাংলাদেশ মানসিক প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ছিলেন। সমাজ সেবায় অবদানের জন্য ফরিদপুর জসীম ফাউন্ডেশন তাঁকে সম্মান স্বরূপ স্বর্ণপদক প্রদান করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি প্রচুর সুনাম ও সম্মান পেয়েছেন।

0

নরেন্দ্রনাথ মিত্র

বিখ্যাত লেখক নরেন্দ্রনাথ মিত্রের জন্ম ১৯১৬ সালের ৩০ জানুয়ারী ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার সদরদি গ্রামে। পিতা মহেন্দ্রলাল মাতা বিরাজ বালা ভাঙ্গা হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আই.এস.সি এবং কোলকাতা বঙ্গবাসী কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। বেশ কিছুদিন গৃহ শিক্ষকতা করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। লেখালেখির সূচনা বাল্যকাল থেকেই। প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক’ এবং প্রথম মুদ্রিত গল্প ‘মৃত্যু ও জীবন’। দু’টো লেখায় ই ১৯৩৬ সালের ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়া প্রায় ৫০টি গল্পগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। উপন্যাস বিশেষতঃ ‘দীপপুঞ্জ’, ‘চেনামহল’, ‘তিনদিন তিনরাত্রি’, দেশপত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হলে তিনি দারণভাবে সমাদৃত হন। চলচ্চিত্রে রূপায়িত বহু রচনার কয়েকটি – সত্যজিৎ রায়ের ‘মহানগর’, ‘অগ্রগামী’, ‘হেডমাষ্টার’, রাজেন্দ্র তরফদারের ‘পালঙ্ক’। রসগল্পটির হিন্দী চলচ্চিত্রের নাম ‘সওদাগর’। টিভি সিরিয়ালের গল্পের চিত্রনাট্যরূপ দিয়েছেন সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন প্রমুখ। ১৯৬১ সালে ‘আনন্দবাজার পুরস্কার’ পান, ১৯৭৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। ছোট গল্প রচনায় তাঁর সর্বাধিক কৃতিত্ব প্রদর্শন। বিষয়ে ও রচনারীতিতে ছোট গল্প সমুজ্জল।

0

চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আবু তারেক মাসুদ ‍যিনি তারেক মাসুদ নামেই পরিচিত। তিনি ৬ই ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেছিলেন।

তারেক মাসুদের বাবার নাম মশিউর রহমান মাসুদ ও মায়ের নাম নুরুন নাহার মাসুদ । তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে মাটির ময়না,মুক্তির গান,আদম সুরত,রানওয়ে,

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট কাগজের ফুল নামক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের লোকেশন দেখা শেষ করে ফিরে আসার সময় মানিকগঞ্জের ঘিওরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।