FaridpurCity a social community & nonprofit organization

0

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুর

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুর: দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ,প্রতিষ্ঠানটি ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অম্বিকাচরণ মজুমদার। বাইশরশি জমিদার রাজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর নামে নামকরণ করা হয় এই কলেজের। রাজেন্দ্র রায় চৌধুরীর পুত্র রমেশ রায় চৌধুরী এই কলেজ প্রতিষ্ঠায় ৫০ হাজার টাাক প্রদান করেছিলেন শর্ত ছিলো তার বাবার নামে কলেজের নামকরণ করা হবে। এভাবেই রাজেন্দ্র কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

১৯১৮-এর ১ জুন কলেজের অধ্যক্ষ পদে কামাখ্যানাথ মিত্র এমএকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। ১৯৬২-১৯৬৫ সালে পাকিস্তান আমলে বায়তুল আমান নামক স্থানে ৩টি বহুতল ভবন নির্মান করা হয় এবং ১৯৮৪ সাল থেকে সেখানে অনার্স  এর ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়

0

জজ কোর্ট ফরিদপুর

জজ কোর্ট ফরিদপুর ১৮৭৫ সালে স্থাপিত একটি ব্রিটিশ স্থাপত্য নিদর্শন যা আজও টিকে আছে । জজ কোর্টটি পাবনা জেলার, জেলা জজ কোর্ট এর মতই হুবহু দেখতে । 

ফরিদপুর জজ কোর্ট ফরিদপুর সদর  উপজেলায় অবস্থিত, লাল সাদা রংয়ের দালানটি আজও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। দ্বিতল বিশিষ্ট ভবনটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থা। জনশ্রুতিতে আছে একদা এক সময় ঠিক এখানেই ঢোলসমুদ্রের পাড় বা পাড়ি ছিলো। ব্রিটিশ স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন এই জজ কোর্ট ভবন।

চুন শুরকি দিয়ে নির্মান করা এই দালানটিতে কলস প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে বলে জানা যায়। জজ কোর্ট চত্বরেই রয়েছে আইনজীবি ভবন। ১৮৮৫ সালে জেলা আইন পরিষদ গঠিত হয়েছিলো । ফরিদপুর শহরের অন্যতম একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন এই জজ কোর্ট ভবন।

0

শ্রী অঙ্গন জগদ্বন্ধু সুন্দরের আশ্রম

ব্রিটিশ ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার ডাহাপাড়ায়   ১৮৭১ সালের ২৮ এপ্রিলে জগদ্বন্ধু সুন্দর জন্মগ্রহন করেন। তখন সেখানে তার বাবার কর্মস্থল ছিলো। তার পিতার নাম: দীননাথ ন্যায়রত্ম এবং মাতার নাম: বামাসুন্দরী দেবী ,১৮৯৯ সালে জগদ্বন্ধু সুন্দর এই আশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত করেন, ফরিদপুর গোয়ালচামট এলাকার শ্রীরামসুন্দর ও শ্রীরাম কুমারমুদিশ্রীঅঙ্গনের  জমি দান করেছেন , ১৯২১ সালের ১৮ই অক্টোবর হতে আজ অবধি দিন রাত্রী ২৪ ঘন্টা  কির্তন হয়ে থাকে জগদ্বন্ধু সুন্দর ১৭ই সেপ্টেম্বর ১৯২১ সালে দেহত্যাগ করেন।

স্থানটি অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান প্রতিদিন এখানে অসংখ্য দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। প্রতিবছর মেলা অনুষ্ঠিত হয় যা আঙ্গিনার মেলা নামে পরিচিত। ১৯৭১ সালের ২১শে এপ্রিল ফরিদপুর জেলার ১ম শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন এই আঙিনায় কির্তনরত ৮জন সাধু।

0

বাইশরশি জমিদার বাড়ি সদরপুর

ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার বাইশরশি গ্রামে অবস্থিত বাইশরশি জমিদারবাড়িটি। মুলত বাড়িটি রাজেন্দ্র বাবুর ও তার বংশধরদের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ যার নামানুসারে, এটা সেই রাজেন্দ্র বাবুর বাড়ি। ১৮শতের দিকে এই জমিদার বাড়ির গোড়াপত্তন হয়েছিলো কালের বিবর্তনে যা আজ ধবংসের দ্বার প্রান্তে।

১৮২৪ সালে লর্ড ক্লাইভের শাসন আমলে জমিদার উদ্ধর চন্দ্র বরিশালের জমিদারি লাভ করেন। তৎকালিন সময়ে এই জমিদাররা  ‍উপমহাদেশে বিশেষ খ্যাতীলাভ করে। এই জমিদারদের আওতায় ২২টি পরগোনা ছিলো ফরিদপুর এবং বরিশাল জুড়ে।

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ,শীব সুন্দরী একাডেমী,নগরকান্দা উপজেলার এম এন একাডেমী, জয় কিশোরী দাতব্য চিকিৎসালয়,ফরিদপুর টাউন থিয়েটারে জমি দান,সদর হাসপাতালে অর্থ সহায়তা প্রদান করে এই জমিদার বংশধরগন। এখানে ১৪টি অট্টালিকা,৫টি পুকুর,মন্দির,মঠ রয়েছে। প্রতিবছর জমিদারবাড়িটি দেখতে দুরদুরান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থীরা এখানে আসেন তবে বাড়িটি বর্তমানে ধবংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। স্থানীয় দুষ্কৃতিকারিদের কারনে বহু মূল্যবান আসবাবপত্র,প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন চুরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি পেলে বাড়ি রক্ষা করা যেতো অকে আগেই।

তবে ফরিদপুরের সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই জমিদার বাড়িটি রক্ষায় আন্দোলন করে এবং প্রধান মন্ত্রির কার্যালয়ে গণসাক্ষর প্রেরন করে পরবর্তীতে পর্যটন অধিদফতর থেকে একটি টিম আসে বাড়িটি নিয়ে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

0

আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল মসজিদ

ফরিদপুরের সদরপুর ‍উপজেলার আটরশি নামক স্থানে অবস্থিত বিশ্বজাকের মঞ্জিল।

ফরিদপুরের অন্যতম দর্শনীয় একটি স্থান। প্রতিবছর এখানে উরস অনুষ্ঠিত হয় সেখানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ‍উরসকে কেন্দ্র করে জমে উঠে মেলা। দুর দুরান্ত থেকে বাসে করে অগনীত দর্শনার্থীর আগমন ঘটে এখানে, ৪দিন ব্যাপী চলে উরস।

অন্যতম আকর্ষন তাজমহেল ন্যায় বিশাল আকৃতির একটি মসজিদ যেখানে একসাথে লাখো মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে।

0

রেলস্টেশন ফরিদপুর

ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশন ১৮৯৯ সালে তৈরি করা হয়। কংগ্রেস সভাপতি অম্বিকাচরণ মজুমদারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই রেল স্টেশনটি চালু হয়। রাজবাড়ি হতে ফরিদপুর পর্যন্ত এই পথটি পুখুরিয়া পর্যন্ত চলাচল করতো। তবে লোকসানের অজুহাতে ১৯৯৭ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে  ২০১০ সালে নতুন করে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যায়ে  নির্মাণের কাজ শুরু হয়, কাজ শেষ হয় ২০১৪ সালে ১৭ বছর পর আবার এই পথে রেল যোগাযোগ শুরু হয়।

0

পল্লী কবি জসীম উদ্‌দীন এর বাড়ি এবং স্মৃতি যাদুঘর

কবি জসীম উদ্‌দীন ১লা জানুয়ারি ১৯০৩ সালে তার নানা বাড়ি তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন এবং ১৩ই মার্চ  ১৯৭৬ সালে তিনি মৃত্যুবরন করেন। তার বাবার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা,মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট। পল্লী কবি একজন বাঙালি কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক ও লেখক। মোহাম্মাদ জসীম উদ্‌দীন মোল্লা তার পূর্ণ নাম হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত। জসীম উদ্‌দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি।

0

শাহ্ ফরিদ জামে মসজিদ

ফরিদপুর সদর উপজেলার জিরো পয়েন্টে অবস্থিত শাহ্ ফরিদ জামে মসজিদ। ফরিদপুর যার নামানুসারে  প্রখ্যাত সুফি সাধক শাহ শেখ ফরিদুদ্দিনের নামানুসারে ফরিদপুর জেলার নামকরন করা হয় এবং তার নামে ১৯৬২ সালে মওলানা আতাউর রহমান তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব মো: ইদ্রিসের সহায়তায় শাহ ফরিদ জামে মসজিদটি নির্মান করা হয় । শুরুতে মসজিদটি টিনের তৈরি মসজিদ ঘর ছিল। পরবর্তীতে সেখানে গড়ে উঠেছে তিনতলা  বিশিষ্ট  মসজিদটি। মসজিদে একটি দৃষ্টিনন্দন গোম্বুজ রয়েছে।

0

ফরিদপুরে কিশোরের গোল্ড ফিস এর সফলতার গল্প

নাম মোঃ সাহাদুজ্জামান খালিদ ঠিকানাঃ দক্ষিণ টেপাখোলা, লালের মোড়। বর্তমানে ন্যাশনাল পলিটেকনিক ফরিদপুর এ ৪র্থ পর্বে, সিভিল ডিপার্টমেন্ট এ পড়া লেখা করছে। এর পাশাপাশি তার একটি ছোট রঙিন মাছের খামার আছে। যেই খামার টা আরো কয়েক বছর আগে শখের বসে তিনি শুরু করেছিলো। রঙিন মাছের উপর তার নেশা অনেক ছোট বেলা থেকে। তখম দেখতো মানুষ এর ঘরে একুরিয়াম তখন খুব আনন্দ লাগতো তার। তখন হঠাৎ কি মনে করে একদিন ফরিদপুর জেল খানার পাশে একটা মাছের দোকান ছিলো সেখান থেকে ২ টা মাছ কিনেন তিনি। তখন তিনি ক্লাস ফোর এ পড়ে। কিছু না বুঝেই মাছ ২ টা কিনে ছিলো তারপর মাছ ২ টা মারা যায় সেদিন রাতেই, তিনি আবার পরের দিন সকালেই আবার মাছ কিনে আনে এভাবে তার অনেক মাছ মারা গেছে হঠাৎ এটা তার আব্বু লক্ষ করে পরে সে তাকে একটা একুরিয়াম কিনার জন্য টাকা দেয়। একটা কথা বলে রাখা ভালো তার এসবের জন্য তার আব্বু আম্মু তার পাশে সব সময় ছিলো বন্ধুর মতো। একুরিয়ামটা যখন কিনি তখন মাছ ও কিনে কিন্তু কয়েক মাস পর তার মাছ পালার শখ চলে যায়। কারণ সে তখন cycle stunt শুরু করে।ফরিদপুর এর একটা Group আছে RsRz,নামে সেখানে stunt করতো তখন আর মাছে সময়,দিতে পারতো না, ক্লাস সিক্স এ যখন উঠে আবারো মাছের পোকা তার মাথায় আসে এবার তার দুলাভাই তাকে একটা একুরিয়াম বানিয়ে দেয় অনেক বড়,সেটা এখনো তার খামারে রাখা,তারপর তিনি কিছু মাছ কিনি ( গাপ্পি, মলি) যেগুলা বাচ্চা দেয় আর সেখান থেকেই শুরু তার খামারে সপ্ন, ১ম বারেই বাচ্চা গুলা বড় হয়,কিন্তু সেল করে না, পরে তিনি আরো মাছ কিনে, এভাবে অনেক দিন একুরিয়াম এর ভিতর মাছ নিয়ে কাজ করে।

তখনো ফরিদপুর এ এমন খামার নেই ২/১ জন থাকতে পারে কিন্তু পরিচয় ছিলো না, সে তখন অনলাইন থেকে কিছু ভিডিও দেখে বাসায় গোল চার এর সেট আপ  করে আর সেখান থেকে আজ এই পর্যন্ত আসার গল্পে অনেক রকম ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। বিশেষ করে যখন মাছ বিক্রি শুরু করি তারপর থেকে মানুষ এর বদনাম, আশেপাশে মানুষ অনেক রকম কথা বলতো ইত্যাদি, সেদিকে নজর দেয় না সে ফলে  আজ এতোদুর  আসতে পেরেছে। তার সপ্নের একটা নাম Faridpur gold fish zone. এই নামটি আজ অনেক মানুষ চিনে আর জানে এটা তার জীবনে অনেক বড় পাওয়া। এখন মাছের পাশাপাশি গাছ নিয়েও কাজ শুরু করেছে তিনি। যেটা  শুরু করছে সকলের দোয়াতে সেটাতেই ভালো সাড়া পাচ্ছে। cycle stunt ছেড়ে দিয়েছে অনেক দিন আগে সময়ের অভাবে তাই এই স্বপ্নটা বাদ। তবে ভবিষ্যতে রঙিন মাছ, গাছ এসবের পাশাপাশি জীবন্ত অন্যান জিনিস নিয়ে কাজ করার অনেক ইচ্ছে তার।কারণ অন্য দের মতো বাইক ইত্যাদি তার দূর্বলতা না। তার এই মাছ, গাছ ইত্যাদি এসবে অনেক শখ। শখ থেকে যদি ভালো কিছু হয় ক্ষতি কি। তিনি চানা তাকে মানুষ না চিনলেও মানুষ Faridpur gold fish zone কে চিনুক জানুক। বিভিন্ন রকম রঙিন মাছ এখন তার খামারে আছে, বেশির ভাগ সময়ে থাকে কমেট, অরেন্ডা গোল্ড ফিস, মলি,প্লাটি,হাফ ব্লাক গাপ্পি, ফাইটার, চিকলেট,গোড়ামি,ইত্যাদি। । তার একটা ফেসবুক পেইজ ও আছে যেটির নাম খালিদের শখের খামার। তিনি এত দূর আসতে পেরিছে তার পরিবার এর জন্য। যারা কখনো তাকে এসবে বাধা দেয় নাই। তার মা তার থেকে ভালোবাসে তার মাছ গুলো, গাছ গুলাকে। তার বাবা তার পুরা খামারটা নিজের হাতে সাজিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন সকালে তার আগে সে খামার টা ঘুরে দেখে। হ্যা হতে পারে অনেক ছোট খামার তার,কিন্তু অনেক বড় স্বপ্ন এখানে তার, সবাই দোয়া করলে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারবে Faridpur gold fish zone কে সাথে পড়ালেখা টাও।