FaridpurCity a social community & nonprofit organization

0

খান বাহাদুর আবদুল গণি মিঞা

খান বাহাদুর আবদুল গণি মিঞা ১৯২৫ সালে এম,পি,এ ছিলেন। তিনি ফরিদপুরের কো-অপারেটিভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। বনেদী মুসলিম পরিবারের সন্তান গণি মিঞা ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীর বাসিন্দা ছিলেন। গণি মিয়া সাহেব একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: ঐতিহ্যে লালিত ফরিদপুর গ্রন্থ

0

ক্রীড়াবিদ আলাউদ্দিন খান

 

কৃতি ক্রীড়াবিদ আলাউদ্দিন খানের জন্ম শহরের আলীপুরে ১৯১৬ সালের ১৯ জুলাই।

পিতা জমশের আলী খান। ১৯৩৪ সালে ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে ১ম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন।১৯৩৬ সালে রাজেন্দ্র কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৪০ সালে রাজেন্দ্র কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন। ১৯৫৩ সালে ফরিদপুর জেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।রাজনৈতিক কারণে ৩ বার কারাবরণ করেন। আলাউদ্দিন খান বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। চাচা ওসমান খান ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক। কবি নজরুলের কবিতা ও ফররুক আহমেদের রাজনীতিতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। ছাত্র জীবনে ফরিদপুর জেলা স্কুল ও জেন্দ্র কলেজের হকি ও ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন ছিলেন। এরপর কলকাতার কুমারটুলি বি টিমে খেলেন, সে বছর ঐ টিম চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৪০ সালে ইষ্টবেঙ্গল ফুটবল টিমে যোগ দেন। ১৯৩৮ এ ফরিদপুর জেলা দলের (আইএফএ) শীল্ডে ফুটবল খেলেন। ১৯৪০ সালে অল ইন্ডিয়া ইউনিভারসিটি টুর্নামেন্ট এ ইষ্টার্ণজোনের খেলায় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলের হয়ে খেলেন। সেকালে কলিকাতার আনন্দবাজার, অমৃতবাজার, আজাদ, ষ্টেটম্যান, এডভান্স, হিন্দুস্তান ষ্টান্ডার্ড ইত্যাদি তাঁর খেলার প্রশংসা করে খবর ছেপেছেন। তখনকার দিনে মুসলমানদের খেলার সুযোগ পাওয়া ছিল দুস্কর।

কিন্তু বাছাই খেলায় সর্বভারতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে বাছাই এ নির্বাচিত হন। এটাই তার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা। দোকানঘর নামে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান চালু করেছিলেন। এই দোকানঘরে ক্রীড়া সামগ্রী ছাড়াও পাইকারী চা ও কসমেটিক সামগ্রী বিক্রি হত এবং দোকান ঘর জেলার একটি অন্যতম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচিত ছিল। তিনি ফরিদপুরের একাধিক সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে শহরবাসীদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

নিবেদিত সমাজকর্মী এ,কে,এম আবদুল হাকিম ১৯১৩ সালে ফরিদপুরে শোভারামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা জোনাব আলী আহমদ। শিক্ষা গোয়ালচামট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনে ভলেন্টিয়ার হিসাবে যোগদান। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় দমদম সেন্ট্রাল জেলে ১৫ দিন হাজত বাস। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শেরেবাংলা সাধারণ পাঠাগার, সমবায় বন্ধকী ব্যাংক, অন্যতম উদ্যোক্তা সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ, ইয়াছিন কলেজ। ১৯৭৫-৭৯ সালে ফরিদপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের লাভ করেন ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিভাগীয় সমাজ কল্যাণ পুরস্কার লাভ করেন, ১৯৮০ সালে জাতীয় সমবায় পুরস্কার পান। নিবেদিত এই সমাজকর্মী ব্যক্তি জীবনে অবিবাহিত ।

তথ্যসূত্র: ঐতিহ্যে লালিত ফরিদপুর গ্রন্থ

0

ফরিদপুর টাউন থিয়েটারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ফরিদপুর টাউন থিয়েটারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

জিতেশ চক্রবর্তী শিলিগুড়ি থেকে কাঠের গুড়ি নদী দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে আসলেন সদস্যরা মাটি কাটলেন তৈরী হলো টাউন থিয়েটারের স্থায়ী মঞ্চ হল ঘর। ১৯১৫ তৎকালীন ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট কে.সি.দে আই.সি.এস এই হলের উদ্বোধন করেন। ১৯৩২ হিসাবে কৃতিপুরুষ সুরেন্দ্র বাবুর প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ হলটির নাম রাখা হয় ‘সুরেন্দ্র মেমোরিয়াল হল।

১৮৭৩ সাল, বাংলা একটি মফস্বল শহর ফরিদপুর। এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় ফরিদপুর টাউন থিয়েটার। ১৮৭৩ সালের কোন এক সন্ধ্যায় ঝিলটুলি দিগম্বর স্যান্যালের বৈঠকখানায় বসে তৎকালীন কিছু সুধীজনের প্রাত্যহিক গল্পগুজব ও তাসপাশা খেলার মাঝে একটি নাট্য সংগঠনের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। দিগম্বর বাবু সংস্কৃতিনুরাগী ছিলেন এবং নিজে সংগীত চর্চা করতেন। তাঁরই উদ্যোগে এবং যোগেশ চন্দ্র চক্রবর্তী (উকিল) উমেশ চন্দ্র বসু মজুমদার (উকিল), কেদারনাথ দত্ত (উকিল), তারকচন্দ্র গুহ (জমিদার) কামিনী মুখার্জী (উকিল), ডাঃ শ্রীধর দাস গুপ্ত, ডাঃ কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী প্রমুখ নাটোৎসাহী ব্যক্তির সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয় “ফরিদপুর টাউন থিয়েটার’। প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট আইনজীবী অম্বিকাচরণ মজুমদার এবং রায় বাহাদুর তারানাথ চক্রবর্তী টাউন থিয়েটারের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। উমেষ চন্দ্র মজুমদার রচিত পৌরণিক নাটক ‘দনুজ দলনী’ (মতান্তরে ‘মহিষ-মদিনী’) অভিনয়ের মাধ্যমে টাউন থিয়েটারের যাত্রা শুরু হয়।

সুরেন্দ্র নাথ রায় চৌধুরী টাউন থিয়েটারকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে এগিয়ে আসেন। এ সময়ে একটি মঞ্চ স্থাপনে যাঁরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তাঁদের মধ্যে দেবেন্দ্র মোহন গুপ্ত, হরলাল মজুমদার, প্রতাপ চন্দ্র বন্দোপাধ্যায় প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র: ঐতিহ্যে লালিত ফরিদপুর গ্রন্থ

1

ফরিদপুরে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ইতিহাস

আজ জানতে পারবেন ফরিদপুরে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ইতিহাস, আরও জানতে পারবেন ফরিদপুরের বিমান উঠানামার রানওয়ের বর্তমান অবস্থা।

আজ থেকে ৫৫ বছর আগে ফরিদপুর এর আকাশে ঘটেছিলো মর্মান্তিক এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা। সে হেলিকপ্টারে ২৪ জন যাত্রীর মধ্যে ২৩ জনই মারা যায় তবে আলৌকিকভাবে বেচে গিয়েছিলো ১জন ব্যক্তি | স্বাধীনতার আগে যখন পূর্ব পাকিস্তান নাম ছিলো তখন আমাদের ফরিদপুর গোয়ালচামট এলাকায় অবস্থিত হেলিপোর্ট এ নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতো। যাত্রীদের থাকার জন্য পাশেই গড়ে উঠেছিলো  হোটেল যার নাম ছিলো ‘ প্রান্তিক’ সেখানে থাকার সুবিধা ছিলো। বর্তমানে সেটি র‍্যাব ৮ এর ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৬৬ সালের ২রা ফেব্রুয়ারিতে একটি পরিবহন হেলিকপ্টার ঢাকা থেকে ক্রুসহ ২৪ জন যাত্রী নিয়ে ফরিদপুর এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়, দিনটি ছিলো বুধবার দুপুর ২টা ২৩  হেলিকপ্টারটি ফরিদপুর হেলিপোর্ট হতে ৩.৭৫ মাইল দুরে তুলা গ্রাম নামক এলাকায় এসে শকুনের পাখার সাথে আঘাত লাগে, বিকট শব্দে ভেতরে থাকা যাত্রীরা আতংকিত হয়ে যায়, হেলিকপ্টার টির  ইঞ্জিন বিকল হয়ে ঘুরতে ঘুরতে মাঠিতে আছড়ে পরে। ঘটনা স্থলেই ২৩ জন মারা যায় এবং অলৌকিকভাবে একজন যাত্রী আহত অবস্থায় হেলিকপ্টার থেকে বেরিয়ে আসেন। তাকে ধানক্ষেতে কর্মরত স্থানীয় কৃষকরা ১মে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। সেই বেচে যাওয়া ব্যক্তির নাম এম এ মান্নান মান্নান (জন্ম: ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬) যিনি বর্তমানে বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তা যিনি ক্ষুদ্র-কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সরকারের  পরিকল্পনা মন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য।

কি ঘটেছিলো সেদিন কেমন ছিলো তার অভিজ্ঞতা জেনে নেই চলুন:

১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দুই তারিখ। সেদিন ছিল বুধবার। এম এ মান্নান, তখন আমেরিকার সাহায্য সংস্থা কেয়ারের তৎকালীন ঢাকা অফিসে চাকরী করতেন , তখন বয়সে তরুণ এম এ মান্নানকে অফিসের কাজে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হতো তাকে।  ওই দিন তাঁর কুষ্টিয়া যাওয়ার কথা, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স বা পিআইএ তখন কিছু হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু করেছিল, যা তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলে যাত্রী পরিবহন করতো। দুপুর দুইটা নাগাদ মি: মান্নান ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টারে আরোহণ করেন। ওই হেলিকপ্টারটিতে সব মিলিয়ে ২৪ জনের মতো যাত্রী ছিল। হেলিকপ্টারটি ঢাকা থেকে প্রথমে ফরিদপুর হয়ে পরে কুষ্টিয়া যাওয়ার কথা ছিলো।  তখন হেলিক্টারে করে ঢাকা হতে ফরিদপুর যেতে সময় লাগতো ২২ মিনিট এবং ফরিদপুর থেকে কুষ্টিয়ায় যেতে  ২০ মিনিট সময় লাগার কথা ছিল।

ফরিদপুরের কাছাকাছি যখন হেলিকপ্টারটি পৌঁছায় তখন ওপর থেকে বিকট আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল।”মুহূর্তের মধ্যেই হেলিকপ্টারটি ঘুরতে-ঘুরতে মাটিতে পড়ে যায়। এম এ মান্নান জানান আমি তখন আল্লাহকে ডাকছিলাম আর মায়ের কথা ভাবছিলাম,” মাটিতে পড়ার পর ওই হেলিকপ্টারের মধ্যে প্রচণ্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। প্রাণপণ চেষ্টা করে জনাব মান্নান বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার থেকে বেরিয়ে আসেন। দুর্ঘটনার কাছেই তখন ধানক্ষেতে চাষাবাদ করছিলো কয়েকজন কৃষক, তারা আহত মান্নানকে উদ্ধার করে প্রথমে তাদের বাড়িতে এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিদ্ধস্ত হেলিকপ্টারে থাকা ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনই সেদিন মারা গিয়েছিলেন একমাত্র বেঁচে যাওয়া যাত্রী ছিলেন এম এ মান্নান।

অনেকটা অলৌকিকভাবে জীবিত থাকা এম এ মান্নান,  ওই ঘটনা মনে করে এখনো নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তুলা গ্রামের পাশেই ছিলো শকুনের বিল সেখানে অনেক শকুন নামতো সেই থেকে নাম শকুনের বিল। লোক মুখে শোনা যেতো হেলিকপ্টারটি নাকি শকুনের পাখার সাথে বারি খেয়েছিলো। ফরেনসিক রিপোর্টেও সে কথার সত্যতা পাওয়া যায়।  রিপোর্ট অনুযায়ী হেলিকপ্টারটির গিয়ারবক্সে তেল লিক করছিলো এবং ইঞ্জিন কাজ করছিলো না। নিহতের অনেকের কবর ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিপুর গোরস্থানে এখনও রয়েছে, কবরটিতে নিহতের নাম এবং ঘটনার সাল তারিখ উল্লেখ আছে। হেলিকপ্টার বিধস্ত হবার পর থেকে হেলিপোর্টে আর পরিবহন হেলিকপ্টার নামে নি। দীর্ঘদিন হেলিপোর্টটি পরেছিলো পরবর্তীতে ট্রাক স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হতো বর্তমানে আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ হয়েছে তবে চালু হয়নি। হেলিপোর্ট এর পাশেই আজও কালের সাক্ষি হয়ে দারিয়ে আছে একটি ওয়ারলেস, তবে সেটি ঝুকিপূর্ণভাবে রয়েছে যেকোনো সময় ভেঙে পরতে পারে।

 

আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ হলো এতো আগের প্রতক্ষদর্শী যারা ছিলেন তাদের খুজে বের করা তখন যে বাড়িতে আহত ব্যাক্তিটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো তাদের খুজে বের করা। শুরু হলো আমাদের অনুসন্ধান

খুজতে খুজতে আমরা তুলাগ্রাম

0

সাতৈর শাহী মসজিদ

প্রায় ৫শত বছর পুরনো সাতৈর মসজিদটি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি উপজেলার সাতৈর গ্রামে অবস্থিত। আনুমানিক ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত মসজিদটি গায়েবী মসজিদ নামেও সুপরিচিত যদিও তার কোনও ভিত্তিই নেই স্থানীয়দের ভাষ্য এটা। এই মসজিদটি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের লোককথাও প্রচলিত আছে। সাতৈর মসজিদটির অজানা গল্প থাকছে এই তথ্যচিত্রে ।

ফরিদপুর শহর থেকে ২৭ কিলোমিটার দুরে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজারে অবস্থিত এই সাতৈর মসজিদ।মোঘল আমলে স্বাধীন বাংলার সুলতান ছিলেন আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ তিনি সাতৈর এলাকায় শায়খ শাহ ছতুরী (রা:)  নামক এক পীরের মুরীদ ছিলেন বলে জানায় যায়  আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ্  তার এই পীরের সম্মানে এই মসজিদটি নির্মান করেন । ঐতিহাসিক মসজিদটির পাশ ঘেঁষেই গেছে ঐতিহাসিক গ্রান্ড ট্রাংক রোড বা শের শাহ সড়ক। কেউ কেউ মনে করেন এই মসজিদটি শের শাহ্  এর আমলের কির্তী ।

সাতৈর মসজিদের রয়েছে ৯টি গম্বুজ ৪টি মিনার দৈর্ঘ্য ৬২টি ফুট এবং প্রস্থ ৬২ ফুট উচ্চতা ৩০ফুট । আশ্চর্যজনক ঘঁটনা হচ্ছে এই মসজিদে কোনও লোহা বা কাঠের বর্গা বা ভীম নেই । সম্পুর্ন শূন্যের উপর ছাদ বা গম্বুজটি আজও অক্ষত অবস্থায় আছে। মসজিদের গম্বুজ নির্মানে পেন্ডেন্টিভ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তরে পশ্চিম দিকে তিনটি মেহরাব আছে মাঝেরটি তুলনামুলকভাবে বড়।

মসজিদের ভেতরে চোখে পরবে নান্দনিক নকশা, নকশায় মুঘল আমকলের ছাপ সু স্পষ্ট ,মসজিদের ভেতরে পাথরের ৪টি স্তম্ভ রয়েছে। এছাড়াও দেয়ালে এবং দেয়াল সংলগ্ন আরও ১২টি পিলার রয়েছে। মসজিদের পশ্চিমে ৩টি মেহরাব আছে মাঝের মেহরাবটি তলনামুলক বড়। সাতৈর শাহি মসজিদটি পর্যটকদের কাছে অন্যতম পর্যটন এর স্থান হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ  করেছে।

তো এই ছিলো ঐতিহাসিক সাতৈর মসজিদের কিছু অজানা তথ্য সাতৈর মসজিদ নিয়ে পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত তথ্যমুলক ভিডিও প্রকাশিত হবে ফরিদপুর সিটি পেজে। আজ এ পর্য্যন্তই পরবর্তীতে ফরিদপুরকে দেখতে এবং জানতে ফরিদপুর সিটি পেজ এবং ফরিদপুর লাইভ গ্রুপের সাথেই থাকুন। 

https://www.youtube.com/watch?v=Rq0HOiB8J4Q
0

আলীমুজ্জামান চৌধুরী

আলীমুজ্জামান চৌধুরী

খান বাহাদুর আলিমুজ্জামান চৌধুরীবৃহত্তর ফরিদপুরের রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার বেলগাছিতে ১৮৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এক নাগারে দীর্ঘ ১২ বছর ফরিদপুর জেলা বোর্ড ও ফরিদপুর পৌরসভার সভাপতি ছিলেন। আলীমুজ্জামান চৌধুরী হচ্ছেন ফরিদপুরে মুসলমানদের মধ্যে প্রথম গ্রাজুয়েট। ফরিদপুরের উন্নয়নের প্রচুর জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন এবং জেলার উন্নয়নের অগ্রনায়ক ছিলেন। যার নামে ফরিদপুরে আলীমুজ্জামান ব্রীজ, আলীমুজ্জামান হল, আলীমুজ্জামান সড়ক ইত্যাদি রয়েছে। তিনি ১৯৩৫ সালে মৃত্যবরণ করেন, ১৯৩৫ সালে তিনি মারা গেলে হাড়োয়াতে চিরকালীন সমাধিস্থ হন।

ডাঃ হানিফা 0

ডাঃ হানিফা

ডাঃ হানিফা ফরিদপুর শহরের উপকন্ঠে বাখুন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৩১৩ বঙ্গাব্দে। আধ্যাত্মিক সাধক, লোককবি এবং জারিগানের বয়াতি ছিলেন। নানামুখী প্রতিভার অধিকারী ডাঃ হানিফা ‘পল্লী কুসুম’ (সামাজিক উপন্যাস), ‘দুলালের বিয়ে’ (সামাি নাটক), অন্নবন্টন (কাব্য) রচনা করেন। ভাট কবিতা রচনা করে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। ‘হাহাকার ব্যাপার’ (১৯৪২-৪৮) নামে একটি ভাট কবিতার পুস্তিকা বের করেন। যার প্রকাশক ওয়াফিজদ্দিন আহম্মেদ। মুদ্রণে অধুনালুপ্ত অম্বিকা প্রেস। এই ভাট কবিতা পত্রে ১৯৪২ সালের মহা দুর্ভিক্ষের এক আগ্নেয়চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ফরিদপুর তথা তদানিন্তন ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা যে কি মর্মান্তিক ছিল তা হাহাকার ব্যাপারে স্বচ্ছ, হৃদয় বিদারক করে তুলে ধরা হয়েছে। ডাঃ হানিফা পেশায় গ্রাম্য ভাক্তার ছিলেন। তাঁর তৈরি বিভিন্ন রোগের মিকচার সুনাম অর্জন করেছিল। তিনি অসংখ্য জারি, বিচার ও মুর্শিদা গান রচনা করেছিলেন। পল্লীকবি জসীমউদদীনের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা ছিল।

0

৬শত বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক পাতরাইল মসজিদ

৬শত বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক পাতরাইল মসজিদ। কেউ বলে গায়েবী মসজিদ আবার কেউ বলে দিঘীরপাড় মজলিশ আউলিয়া মসজিদ।

পাতরাইল মসজিদ বা মজলিশ আউলিয়া মসজিদ ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার অন্তর্গত আজিমনগর ইউনিয়নের পাতরাইল গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। মসজিদটি দীঘিরপাড় আউলিয়া মসজিদ নামেও সুপরিচিত। মসজিদটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন আছে। ঐতিহ্যবাহী এই প্রাচীন মসজিদটি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ১৩৯৩ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৪১০ খ্রিষ্টাব্দ এর মধ্যে নির্মাণ করেছিলেন বলে ধারনা করা হয়। এই ঐতিহাসিক মসজিদের দক্ষিণ পাশে চির নিন্দ্রায় শায়িত আছেন মজলিশ আউলিয়া খান।  জনশ্রুতি আছে যে, অত্র এলাকায় প্রজাদের পানীয় জলের সমস্যা নিরসনকল্পে ও ইবাদতের জন্য মসজিদের পার্শ্বেই ৩২.১৫ একর জমির উপর একটি দীঘি খনন করেন।

প্রতিদিনই মসজিদটি দেখতে দুরদুরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে এখানে নারী পুরুষ সকলেই আসেন। পদ্মাসেতু চালুর পর থেকে  মসজিদটিতে আরও দর্শনাথীর আগমন ঘটছে যেমনটি আমরা আশাবাদী ছিলাম। তাই মসজিদটিকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন কোনও বিশেষ উদ্যোগ নিলে ফরিদপুরের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের প্রসার ঘটবে বলে আমরা মনে করি।

মসজিদের গঠনশৈলী:
পাতরাইল মসজিদটি ১০ গম্বুজ বিশিষ্ট। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৮৪ ফুট, প্রস্থ ৪২ ফুট। চার কোণে ৪ টি মিনার আছে। মসজিদের দেয়াল ৭ ফুট প্রশস্ত। মসজিদের ভিতরে ৪ টি স্তম্ভ বা থাম আছে। মসজিদের গায়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটার কারুকাজ, নানারকম শৈল্পীক কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মসজিদটিকে।

মসজিদটির পেছন দিকটা বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাই মসজিদের যথাযথ রক্ষনাবেক্ষন এর অনুরোধ জানাচ্ছি প্রত্নতাত্বিক অধিদপ্তরের কাছে। যেসকল দর্শনার্থিরা ভ্রমন করতে যাবেন অবশ্যই মসজিদের সৌন্দর্য নষ্ট হয় এমন কোনও কাজ করবেন না। ধন্যবাদ সকলকে ফরিদপুরকে দেখুন ফরিদপুরকে জানুন।

https://www.youtube.com/watch?v=jHU8xXW3jUw

0

ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যালে অ্যাওয়ার্ড জিতলো ফরিদপুরের তরুণ নির্মাতা দেবাঞ্জন ভট্টাচার্য্যের নির্মিত ফিল্ম- “হাভানা”

Festival Internazionale del Cinema Patologico – তে বিজয়ী হলো ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী -দেবাঞ্জন ভট্টাচার্য্য নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র  – “হাভানা”।

উক্ত সিনেমার অন্য কলাকুশলীরা হচ্ছেন –

অরণ্য মন্ডল- নটরডেম কলেজ, ঢাকা।

ধ্রুব শিকদার তন্ময় (ভয়েস ওভার),

তিতাস আসিফ।

ইতালির ফেস্টিভ্যালটিতে দেবাঞ্জন ভট্টাচার্য্য এর চলচ্চিত্রটি প্রথমে নির্বাচিত হয়, এবং পরবর্তীতে চুড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয় চলচ্চিত্রটি । এবং বিচারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অন্যান্য সকল সাবমিশনসমুহের মাঝে অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয় ফরিদপুরের ১৮ বছর বয়সি তরুণ নির্মাতা  দেবাঞ্জনের নির্মিত সিনেমা “হাভানা”।

এছাড়াও পূর্বে “হাভানা” Pinewood Studios পরিচালিত গ্লোবাল লিফ্ট নেটওয়ার্ক ফেস্টিভ্যালের জন্যও নির্বাচিত হয়েছিলো।

দেবাঞ্জন জানান আমরা জিলা স্কুলের ২০২০ এর ব্যাচ, আমরা ভেবেছিলাম কিছু একটা তৈরী করার চেষ্টা করবো যেহেতু লকডাউনে তখন অলস সময় কাটাতে হচ্ছিলো। তখন আমি কাস্ট- অরণ্যকে বললাম একটা সিনেমা বানানোর কথা, ও যেহেতু ফ্রী ছিলো তাই ও রাজিও হয়ে গেলো। প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিলো ও যেহেতু নটরডেমে পড়ে তাই ওর ঢাকা যাওয়ার ডেট কাছে চলে আসছিলো। যেহেতু ফিল্মের ডিউরেশন এপ্রক্সিমেইটলি ৬ মিনিট তাই আমাদের শ্যুট তাড়াতাড়ি হয়ে গেলেও, আমার স্ক্রিপ্ট ভাবতে, স্ক্রিণপ্লে বানাতে কিছুটা বাড়তি সময় লেগে গিয়েছিলো। তবে শ্যুট তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে গিয়েছিলো। লোকেশন ছিলো বাজার, এবং মধ্য আলিপুরের কিছু অংশ। ইনডোর শ্যুট করতে আমরা আমাদের এক বন্ধুর বাসাকে ব্যাবহার করেছিলাম।

  তিনি আরও জানান আমার এক্সপেক্টেশনে ছিলো কোথাও না কোথাও সিলেকশন হতে পারে, তবে অ্যাওয়ার্ড উইনিং এর এক্সপেক্টশন ছিলোনা “হাভানা” নিয়ে।পরবর্তীতে ভয়েস ওভারের জন্য তন্ময়’দা, এবং নোয়াখালিতে থাকা আমার এক বন্ধু তিতাসকে অনুরোধ করি এবং তারা পর্যাপ্ত সাহায্য করে আমাকে।ইডিটিং এর ক্ষেত্রে প্রধান বাঁধা ছিলো আমার ডিভাইস উন্নত মানের না। খুব কম র‍্যামের একটা পিসিতে এডিট করতে হয়েছে, তবে আমি আমার সেরা টা দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম এই ছিলো দেবাঞ্জন ভট্টাচার্য্য এর কিছু অজানা গল্প।উদীয়মান এই নির্মাতার জন্য শুভকামনা রইলো ফরিদপুরবাসীর পক্ষ থেকে।

0

ফরিদপুরে সুশীলা নার্সকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত হচ্ছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র She The mother of thousand Susila Bala

” She the mother of thousands Susila Bala “

ডেভিড তমাল এর রচনা ও নির্দেশনায় ১৯৭১ সালের মার্চ মাস উত্তপ্ত পূর্ব পাকিস্তান উত্তপ্ত ফরিদপুর ঐ সময়ের কিছু ইতিহাস ও একজন সেবিকা সহস্র মাতা সুশীলা বালা সাহার জীবন ও একটি রাতের সংগ্রামের গল্পের সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে কাল্পনিক উপস্থাপনা। ফরিদপুরে তার হাতে বহু সন্তানের আগমন হয়েছে মায়েদের। ধাত্রী সেবিকা হিসাবে নারী সুশীলা বালা সাহা ছিলেন ফরিদপুর শহরের একজন অতিপরিচিত আপনজন। ঝর বৃষ্টি উপক্ষো করে ছুটে গিয়েছেন প্রসুতী মায়েদের কাছে । তিনি ১৯৩৩ সালে ধাত্রী বিদ্যা এবং প্রসূতি পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে তিনি ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ধাত্রী হিসাবে যোগদান করেন। তাকে নিয়েই নির্মিত হচ্ছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র যার মাধ্যমে সুশীলা বালা সাহার অপ্রতিরোধ্য ছুটেচলার গল্প দেখা যাবে।


স্বল্পদৈর্ঘ্য  চলচ্চিত্রে সুশীলা বালার চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী দিপা খন্দকার, এবং অন্নান্য চরিত্রে মাসুম বাশার, শেলি আহসান, ঝুনা চৌধুরী, ডঃ শেখ ইউনুস আলি, মেহেদি মিঠু, পলাশ খান, নিত্য রবি দাশসহ আরও অনেকে। নির্মাতা ডেভিড তমাল জানান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির শ্যুটিং ফরিদপুরের বিভিন্ন লোকেশনে ধারন করা হয়েছে।
 খুব শিঘ্রই আসছে….