FaridpurCity a social community & nonprofit organization

0

কেমন ছিলো নব্বই দশকের ঈদ প্রস্তুতি ফরিদপুরের কিশোরদের

যুগে যুগে পরিবর্তন আসবে এটাই স্বাভাবিক যুগ পরিবর্তন এর সাথে সাথে মানুষের রুচি সংস্কৃতি ঐতিহ্যেরও পরিবর্তন ঘটে। বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন সামাজিক ধর্মীয় উৎসব এলে আনন্দে মেতে উঠে ছোট বড় সকলেই।

এখন বিংশ শতাব্দি চলছে মানুষের রুচির ব্যাপক পরিবর্তন হলেও তবুও শৈশবের স্মৃতি কিন্তু কেউ ভুলে যায় না অনেকেই তার শৈশবে ফিরে যেতে চায় যদিও সেটা সম্ভব না। তবে শৈশবের স্মৃতিচারণ করাই যায় কেমন ছিলো ৯০ দশকে ফরিদপুরের  ‍কিশোরদের ঈদ প্রস্তুতি তার কিছুটা তুলে ধরা হলো।

অনেকেই ঈদের আগে ফরিদপুর সদর উপজেলার মমিন খাঁর  হাট থেকে ২০/ ২৫ টাকায় ১শো শোলতে বাজি পাওয়া যেতো। অনেকেই সাইকেল চালিয়ে সেই বাজি কিনতে যেতো। বাজি কিনে রোদ্দুরে গরম করতো অনেকে যেনো বাজিটা অনেক বিকট শব্দ হয়,তখনকার সময় ইলেক্ট্রনিক্স এর দোকানে নতুন টিভির এন্টেনা কেনার ব্যস্ততা দেখো যেতো সেই সাথে পুরাতন এন্টিনার বাশ পরিবর্তন করতে দেখা যেতো। একটা মাত্র টিভি চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন ঈদের বিভিন্ন বিনোদনমুলক অনুষ্ঠান যেনো মিস না হয় তারই প্রস্তুতি থাকতো। নতুন গানের ক্যাসেট কেনা জন্য অডিওর দোকানে ভির দেখা যেতো,হিন্দী বাংলা গানের ক্যাসেট কিনতো সবাই অনেকে ডেক সেট (সাউন্ড বক্স) ভাড়া করে স্টলে নিয়ে বাজাতো, মধ্যবিত্ত অল্প সংখ্যক বাড়িতে  ভিসিআর সেট ছিলো যার মাধ্যমে মুভি দেখা যেতো। অনেকে নিজেদের বাসায় গান শোনার জন্য ক্যাসেট প্লেয়ার  সার্ভিসিং করতো মেকানিকের দোকানে।  তখন ভিসিআর এর দেখার জন্য ক্যাসেট, গীতমালা ভাড়া পাওয়া যেতো, তখনকার ছেলেমেয়েরা পাড়া মহল্লার গাছ থেকে মেহেদী পাতা ছিড়ে পাটায় বেটে হাতে দিতো, সেই মেহেদী সারারাত রেখে দিতো হাতে  যত বেশি সময় রাখা যাবে তত বেশিই লাল হবে।
খুব ভোরে উঠতো ছেলেমেয়েরা, ছেলেরা ঈদের নামাজ শেষে নতুন জামাকাপড় পড়ত তবে অনেকে নতুন জামাকপড় থেকে স্টিকার তুলতে চাইতো না পুরেনো হয়ে যাবে বলে।সকালে খাওয়া দাওয়া করে সালামি উঠাতে বেরিয়ে পরতো আত্মীয়স্বজনদের বাসায় । যাদের সাইকেল কেনার সামর্থ  ছিলোনা তারা ৬টাকা ঘন্টা হিসেবে সাইকেল ভাড়া করে পাংখা হয়ে ঘুরে বেরাতো, লাক্সারি হোটেলের পাশে ভিডিও গেমস খেলতে দেখা যেতো  ঐদিন সব মাফ কিচ্ছু বলতো  না বাসা থেকে দেখলে।
ছোট বড় সকলেই অপেক্ষায় থাকতো ঈদ উপলক্ষে কি সিনেমা এসেছে  বনলতা সিনেমা হলে অথবা ছায়াবানি সিনেমা হলে । সিনেমাকে সবাই বই (সিনেমা) বলতো। তখন সবার হাতে ক্যামেরা ছিলো না আত্মীয়স্বজন মিলে একসাথে টেপাখোলার উজ্জল স্টুডিও অথবা গোয়ালচামট এলাকার সকাল সন্ধ্যা স্টুডিও থেকে ফটো বা ছবি তুলতো স্মৃতি ধরে রাখার জন্য। ফরিদপুরে তখন বিনোদন কেন্দ্র ছিলো না বললেই চলে একমাত্র দর্শনীয় স্থান নদী গবেষণায় ভীড় করতো অনেকে, সারাদিন শেষে ঘুরে রাতে বিটিভিতে বিনোদনমুলক অনুষ্ঠান ইত্যাদি মিস করতো না কেউ ।
এমন পরিকল্পনা শুধু ৯০ দশকের ভাগ্যবানরাই বুঝবে। ফরিদপুরকে দেখুন,ফরিদপুরকে জানুন।
আপনাদের রঙিন স্মৃতি থাকলে কমেন্ট করুন।

0

ঈশান গোপালপুর গণহত্যা দিবস

আজ ফরিদপুরের ইতিহাসে একটি নির্মম কালো অধ্যায় এই দিনে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জমিদার রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকারের বাড়িতে ঘটেছিলো নির্মম গণহত্যা।১৯৭১ সালের ২ রা মে ফরিদপুর সদর উপজেলার জমিদার রায় সাহেব ঈশান চন্দ্র সরকারের বাড়িতে পাকিস্তানি বাহিনী এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছিলো। জমিদার বাড়িতে আশ্রয় নেয়া ২৮জন ব্যাক্তিকে  এক এক করে হত্যা করায় সেদিন। ২০১০ সালে জমিদারি বাড়িতে একটি স্মৃতিফলক নির্মান করেছিলো বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করেছে। গণহত্যায়  যারা শহীদ হয়েছিলেন তারা হলেন:

আশুতোষ সরকার (ফটিক বাবু) ঈশানগোপালপুর

যোগেশ চন্দ্র ঘোষ (”)

গৌর গোপাল ঘোষ (”)

সমরেন্দ্র নাথ ঘোষ (বাবলু) (”)

বাদল সরকার (”)

বাদল গোস্বামী (”)

যাদব চন্দ্র বিশ্বাস (”)

দয়াল চন্দ্র দাস (”)

মন্টু চন্দ্র দাস (”)

দুখীরাম দাস (”)

মনীন্দ্র নাথ সিকদার (”)

সন্তোষ চন্দ্র দাস  (”)

তারকশ্বের গাঙ্গুলী (গোয়ালচামট)

পার্থ সারথী গাঙ্গুলী  (”)

অশ্রু গাঙ্গুলী (”)

হরিদাস সাহা (শোভারামপুর)

উমেশচন্দ্র সরকার (”)

গনেশ চন্দ্র সাহা (”)

মুকুন্দ বিশ্বাস (”)

বটা চন্দ্র বিশ্বাস (”)

কালা চাঁদ বৈরাগী (”)

স্বদেশ সাহা (রাজবাড়ী)

বিমল চন্দ্র সাহা ( চাদপুর )

বিষ্ণু ঠাকুর ( ঠিকানা জানা নেই)

এবং নাম না জানা আরও ৪জন

0

রওশন আরা বেগম আর নেই

রওশন আরা বেগম আর নেই ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেছেন তার বয়স ছিলো ৯০ বছর। তার জন্ম ১৯৩২ সালে।গত শুক্রবার ২৯ এপ্রিল দাফন সম্পন্ন হয় আলিপুর কবরস্থানে বাদ জুমা ফরিদপুর চক বাজার জামে মসজিদে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। রওশন আরা বেগম ছিলেন একজন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রসূতিবিদ্যার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। স্বাধীনতার উত্তরনকালে তিনি ফরিদপুর জেলার জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক প্রসূতিবদ্যার উন্নয়ন ঘটান।

0

খান বাহাদুর আছাদুজ্জামান

খান বাহাদুর আছাদুজ্জামান

খান বাহাদুর আছাদুজ্জামান :
খান বাহাদুর আছাদুজ্জামানের জন্ম ১৮৭৭ সালে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার বুড়াইচ গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে। পিতা নুরুন্নবী ছিলেন বড় লার্টের ফার্সী শিক্ষক। শিক্ষা, কোলকাতায় বড় সাংস্কৃতিক, সমবায় এবং সমাজসেবায় যাদের কর্মপ্রচেষ্টা চিরস্মরণীয় তাদের মধ্যে খান বাহাদুর আছাদুজ্জামান অন্যতম। আই.সি.এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে।

তথ্যসূত্র: ঐতিহ্যে লালিত ফরিদপুর গ্রন্থ

0

নূরুউদ্দিন আহমেদ জাসুমিয়া

 নূরুউদ্দিন আহমেদ জাসুমিয়ার জন্ম ফরিদপুর শহরের আলীপুরে ১৯০৬ সালে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। মূলত সংগীত শিল্পী। ফরিদপুর হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালীন সময়ে ফরিদপুর অম্বিকাহলে কবি কাজী নজরুল এর এক গানের অনুষ্ঠানে নজরুলের সংগে জাসুমিয়ার পরিচয় ঘটে। নজরুল ইসলামের সংগে কোলকাতায় গমন করেন এবং কবির বাড়ীতে অবস্থান কালীন সময়ে ‘হিজমাষ্টার’ ভয়েজ-এ গানের রেকর্ডিং অশগ্রহণ করেন। এসময় ফুলনলিনী, কানন বালা বিশ্বদেব চাটার্জীর সহিত পরিচয় হয়, একসাথে রেকর্ডিং এর কাজ করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৭’র দেশ ভাগের সময় তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। কবি জসীমউদ্দীন ও আব্বাসউদ্দীন এর সহিত দেখা করে ঢাকায় পাবলিসিটি অফিসে যোগদান করে দীর্ঘদিন পূর্ব পাকিস্তান রেডিওতে কাজ করেন। এসময় অনেক গানের রেকর্ড বের হয়। নূরুউদ্দিন আহমেদের জামাতা বেদারউদ্দিন আহমেদ এদেশের একজন প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী ছিলেন। বড় ছেলে নেছার হোসেন রেডিও টেলিভিশনের একজন নিয়মিত সংগীত শিল্পী ও সুরকার, বর্তমানে উর্দ্ধতন সরকারী কর্মকর্তা এবং ছোট ছেলে পান্না আহমেদ ফরিদপুর শহরের একজন কৃতি সংগীত শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে ফরিদপুর শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন এবং তার নাতনী পাপিয়া পান্না ও একজন উদীয়মান সংগীত শিল্পী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। প্রখ্যাত সাহিত্যিক আনম বজলুর রশীদ নূরুউদ্দিন আহমেদ এর আপন ভাগ্নে। তিনি ১৯৬৮ সালে ২০ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: ঐতিহ্যে লালিত ফরিদপুর গ্রন্থ

0

সৈয়দ আবদুর রব

১৯২৮ সালে ফরিদপুর জেলার গেরদা নিবাসী সৈয়দ আবদুর রব মুসলমানদের সমন্বয়ে ‘খাদেমুল ইনসান সমিতি’ নামে একটি সমাজ কল্যাণ ও সংস্কারধর্মী প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। সমিতির কার্যক্রম ফরিদপুর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ভারতবর্ষে সর্বত্র অর্থাৎ বঙ্গ বিহার, আসাম ও উড়িষ্যায় বিস্তৃতি লাভ করে। খাদেমুল ইনসান সমিতি ১২টি বিষয়ের উপর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন অভাব অনটনে বিপর্যস্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন অসুস্থ শিক্ষায় অনগ্রসর মুসলমান সমাজকে সাহায্য, একতা শান্তি শৃংখলার পথে পরিচালনার মহান ব্রত নিয়ে সমিতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইউসুফ আলী চৌধুরী মোহন মিয়া, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী লাল মিয়া, খান বাহাদুর মুহাম্মদ ইসমাইল ও খান বাহাদুর আলিমুজ্জামান চৌধুরী, তমিজউদ্দিন খান প্রমুখ। সৈয়দ আবদুর রব এভাবে ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত মুসলমানদের জীবনে সেবা ধর্মের প্রতিষ্ঠা এবং সংস্কারের মাধ্যমে ইসলামের মূল্যায়ন করতে প্রয়াসী হয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র: ঐতিহ্যে লালিত ফরিদপুর গ্রন্থ

0

এ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্লা

শামসুদ্দিন মোল্লার জন্ম ১৯২১ সালে জেলার ভাঙ্গা ধারপূর্ব সদরদী গ্রামে। ১৯৪১ সালে ভাঙ্গা হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। স্কুলে পড়ার সময়েই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

১৯৪৪ সালে কোলকাতা সুরেন্দ্রমোহন কলেজ থেকে আই.এ. ১৯৪৬ কোলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বি.এ পাশ করেন। তিনি কায়দে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, এ.কে.ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, আতাউর রহমান, তমিজউদ্দিন খান প্রমুখ জাতীয় নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৫২ সালে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি পাশ করে ফরিদপুর বারে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৬০-৬৮ সাল ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ৬৮-৬৯ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৬ সালে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য নির্বাচিত হন, ফা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। ১৯৬৯ সালে গণ অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ দৈনিক ইত্তেফাকের ফরিদপুরত্ব নিজস্ব সংবাদদাতা মনোনীত হন ১৯৬৬ থেকে ৬৯ সাল পর্যন্ত ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৬-৬৮ পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত ফরিদপুর বারে সভাপতি ছিলেন। ১৯৭২ সালে সংবিধান রচিয়তার অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩-৭৪ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ রেডক্রস ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে শান্তি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।তিনি ফরিদপুর ল-কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শেরেবাংলা পাবলিক লাইব্রেরীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু পরিবর্তিত বাকশালের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বৃহত্তর ফরিদপুরের গভর্ণর মনোনীত হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার খবর শুনে তিনি ইসমত কাদির গামা ও কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে ঢাকার কলাবাগানের রাস্তায় প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁর জ্যৈষ্ঠপুত্র এম,এম শাহারিয়ার রুমি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য। ১৯৯১ সালের ১০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: ঐতিহ্যে লালিত ফরিদপুর গ্রন্থ

0

ইয়াছিন জমাদার

ইয়াছিন জমাদার

শহরের টেপাখোলা নিবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জমিদার ইয়াছিন জমাদারের জন্য ১৮৭০ সালে। পিতা ছলিমউদ্দীন জমাদার। রেঙ্গুনের সংগে তার বিশাল বাণিজ্য ছিল। মুসলিম ব্যবসায়ী জমিদার ইয়াসিন জমাদার মুসলমানদের শিক্ষার উন্নয়নের টেপাখোলা জমিদান করেন। সেখানে প্রথমে ইয়াসিন হাইস্কুল এবং ৭০ দশকে হাইস্কুলকে কলেজে রূপান্তর করা হয়। ইয়াছিন কলেজ শহরে এখন একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারী কলেজ। ছাত্রদের থাকার জন্য ইয়াছিন। ছাত্রাবাস, ইয়াছিন মুসাফিরখানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং পৌরসভার রাস্তাঘাট নির্মাণে টেপাখোলা, লক্ষ্মীপুরে প্রচুর জমিদান করেন এছাড়া অনেক সামাজিক কাজ করেছেন। যার মাঝে স্মরণীয় হয়ে আছেন। ফরিদপুরে ক্ষমতার প্রভাবকে সমান্তরাল অবস্থানে আনতে ইয়াছিন জমাদার ও তুর্কি মোল্লা আত্মীয়তা করেছিলেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চরিত্রের অধিকারী। এই মহান ব্যক্তিত্ব ১৯৩৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: ঐতিহ্যে লালিত ফরিদপুর গ্রন্থ

0

কানাই লাল শীল

বিখ্যাত দোতারা বাদক, গীতিকার ও সুরকার কানাইলাল শীলের জন্ম ২০ সে জুলাই  ১৮৯৫ সালে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার ডাংগী ইউনিয়নের কাজী করিয়াল গ্রামে । প্রখ্যাত বেহালাবাদক বসন্ত কুমার শীলের কাছে বেহালা বাজানোর হাতে ঘড়ি। বসন্ত শীলের গুরু মতিলালে কাছেও বেহালার বাদনের জন্য শিক্ষা নেন। গ্রাম বাংলার কবি গান, যাত্রাদলের গান, গাজীর গানে ও বিভিন্ন কীর্তনে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন। দরবেশ দাণ্ড শাহের মাজারে এক দোতারা বাদন অনুষ্ঠানে দোতারার বাদন শুনে আকৃষ্ট হয়ে প্রখ্যাত দোতারা বাদক তরবন সরকারের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। শিক্ষা শেষে কৃষ্ণলীলা দলে যোগ দেন। অম্বিকাপুরে পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের সঙ্গে পরিচয় হয়। জসীমউদ্দীন তাকে কলকাতায় নিয়ে আব্বাস উদ্দিনের সংগে পরিচয় করিয়ে দেন। আব্বাস উদ্দিন কানাইলাল শীলকে গ্রামোফোন কোম্পানীতে চাকরীর দিয়ে দেন। এসময় কোলকাতায় কাজী নজরুল ইসলামের সংগে তার পরিচয় ঘটে। তিনি নজরুলের গানের আসরে দোতারা বাজাতেন। পরে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে যোগদান করেন। ১৯৪৯ সালে রেডিও পাকিস্তানে ঢাকা কেন্দ্রে নিয়মিত শিল্পী হিসেবে যোগদান এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের সংগে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৬ সালের ০৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: ঐতিহ্যে লালিত ফরিদপুর গ্রন্থ  

0

আবুল ফয়েজ মুজিবুর রহমান আইসিএস

আবুল ফয়েজ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় ২৩ সেপ্টেম্বর,১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন আইনজ্ঞ এবং প্রথম বাঙালি মুসলিম  (ICS – ভারতীয় সিভিল সার্ভিস) অফিসার ছিলেন।

এ.এফ মুজিবুর রহমান ১৮৯৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলার গেরদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মৌলবি আবদুর রহমান। ১৯১৯ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত বিভাগে মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করা সহ পূর্বের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেন । ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাশের পর ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি ও বিএসসি পাশ করেন। ১৯২০ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনিই প্রথম বাঙালি মুসলমান আইসিএস কর্মকর্তা ছিলেন ভারতবর্ষে।
এ.এফ মুজিবুর রহমান অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় বাইশ বছর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯২৯ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় জেলা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি ১৯৪৫ সালের ১২ মে মৃত্যুবরণ করেন মাত্র ৪৮ বছর বয়সে । তাঁর মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে ‘এ.এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন’ স্থাপন করা হয়। কথিত আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন জন্মগ্রহণ করেন উনার ( নবজাতক) নাম স্থির করা হয় ফরিদপুরের এ এফ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে ।

১৯৮৫ সালেএএফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন ” নামে একটি দাতব্য ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করা হয় ।
এই ফাউন্ডেশনটি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে, বিশেষত ঢাকা , জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, খুলনা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরষ্কার দেয়। ফাউন্ডেশনটি প্রতি বছর জাতীয় গণিতের স্নাতক অলিম্পিয়াড আয়োজনে বাংলাদেশ গণিত সমিতিকে সহায়তা প্রদান করে থাকে )