কেমন ছিলো নব্বই দশকের ঈদ প্রস্তুতি ফরিদপুরের কিশোরদের
যুগে যুগে পরিবর্তন আসবে এটাই স্বাভাবিক যুগ পরিবর্তন এর সাথে সাথে মানুষের রুচি সংস্কৃতি ঐতিহ্যেরও পরিবর্তন ঘটে। বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন সামাজিক ধর্মীয় উৎসব এলে আনন্দে মেতে উঠে ছোট বড় সকলেই।
এখন বিংশ শতাব্দি চলছে মানুষের রুচির ব্যাপক পরিবর্তন হলেও তবুও শৈশবের স্মৃতি কিন্তু কেউ ভুলে যায় না অনেকেই তার শৈশবে ফিরে যেতে চায় যদিও সেটা সম্ভব না। তবে শৈশবের স্মৃতিচারণ করাই যায় কেমন ছিলো ৯০ দশকে ফরিদপুরের কিশোরদের ঈদ প্রস্তুতি তার কিছুটা তুলে ধরা হলো।
অনেকেই ঈদের আগে ফরিদপুর সদর উপজেলার মমিন খাঁর হাট থেকে ২০/ ২৫ টাকায় ১শো শোলতে বাজি পাওয়া যেতো। অনেকেই সাইকেল চালিয়ে সেই বাজি কিনতে যেতো। বাজি কিনে রোদ্দুরে গরম করতো অনেকে যেনো বাজিটা অনেক বিকট শব্দ হয়,তখনকার সময় ইলেক্ট্রনিক্স এর দোকানে নতুন টিভির এন্টেনা কেনার ব্যস্ততা দেখো যেতো সেই সাথে পুরাতন এন্টিনার বাশ পরিবর্তন করতে দেখা যেতো। একটা মাত্র টিভি চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন ঈদের বিভিন্ন বিনোদনমুলক অনুষ্ঠান যেনো মিস না হয় তারই প্রস্তুতি থাকতো। নতুন গানের ক্যাসেট কেনা জন্য অডিওর দোকানে ভির দেখা যেতো,হিন্দী বাংলা গানের ক্যাসেট কিনতো সবাই অনেকে ডেক সেট (সাউন্ড বক্স) ভাড়া করে স্টলে নিয়ে বাজাতো, মধ্যবিত্ত অল্প সংখ্যক বাড়িতে ভিসিআর সেট ছিলো যার মাধ্যমে মুভি দেখা যেতো। অনেকে নিজেদের বাসায় গান শোনার জন্য ক্যাসেট প্লেয়ার সার্ভিসিং করতো মেকানিকের দোকানে। তখন ভিসিআর এর দেখার জন্য ক্যাসেট, গীতমালা ভাড়া পাওয়া যেতো, তখনকার ছেলেমেয়েরা পাড়া মহল্লার গাছ থেকে মেহেদী পাতা ছিড়ে পাটায় বেটে হাতে দিতো, সেই মেহেদী সারারাত রেখে দিতো হাতে যত বেশি সময় রাখা যাবে তত বেশিই লাল হবে।
খুব ভোরে উঠতো ছেলেমেয়েরা, ছেলেরা ঈদের নামাজ শেষে নতুন জামাকাপড় পড়ত তবে অনেকে নতুন জামাকপড় থেকে স্টিকার তুলতে চাইতো না পুরেনো হয়ে যাবে বলে।সকালে খাওয়া দাওয়া করে সালামি উঠাতে বেরিয়ে পরতো আত্মীয়স্বজনদের বাসায় । যাদের সাইকেল কেনার সামর্থ ছিলোনা তারা ৬টাকা ঘন্টা হিসেবে সাইকেল ভাড়া করে পাংখা হয়ে ঘুরে বেরাতো, লাক্সারি হোটেলের পাশে ভিডিও গেমস খেলতে দেখা যেতো ঐদিন সব মাফ কিচ্ছু বলতো না বাসা থেকে দেখলে।
ছোট বড় সকলেই অপেক্ষায় থাকতো ঈদ উপলক্ষে কি সিনেমা এসেছে বনলতা সিনেমা হলে অথবা ছায়াবানি সিনেমা হলে । সিনেমাকে সবাই বই (সিনেমা) বলতো। তখন সবার হাতে ক্যামেরা ছিলো না আত্মীয়স্বজন মিলে একসাথে টেপাখোলার উজ্জল স্টুডিও অথবা গোয়ালচামট এলাকার সকাল সন্ধ্যা স্টুডিও থেকে ফটো বা ছবি তুলতো স্মৃতি ধরে রাখার জন্য। ফরিদপুরে তখন বিনোদন কেন্দ্র ছিলো না বললেই চলে একমাত্র দর্শনীয় স্থান নদী গবেষণায় ভীড় করতো অনেকে, সারাদিন শেষে ঘুরে রাতে বিটিভিতে বিনোদনমুলক অনুষ্ঠান ইত্যাদি মিস করতো না কেউ ।
এমন পরিকল্পনা শুধু ৯০ দশকের ভাগ্যবানরাই বুঝবে। ফরিদপুরকে দেখুন,ফরিদপুরকে জানুন।
আপনাদের রঙিন স্মৃতি থাকলে কমেন্ট করুন।


নূরুউদ্দিন আহমেদ জাসুমিয়ার জন্ম ফরিদপুর শহরের আলীপুরে ১৯০৬ সালে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। মূলত সংগীত শিল্পী। ফরিদপুর হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালীন সময়ে ফরিদপুর অম্বিকাহলে কবি কাজী নজরুল এর এক গানের অনুষ্ঠানে নজরুলের সংগে জাসুমিয়ার পরিচয় ঘটে। নজরুল ইসলামের সংগে কোলকাতায় গমন করেন এবং কবির বাড়ীতে অবস্থান কালীন সময়ে ‘হিজমাষ্টার’ ভয়েজ-এ গানের রেকর্ডিং অশগ্রহণ করেন। এসময় ফুলনলিনী, কানন বালা বিশ্বদেব চাটার্জীর সহিত পরিচয় হয়, একসাথে রেকর্ডিং এর কাজ করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৭’র দেশ ভাগের সময় তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। কবি জসীমউদ্দীন ও আব্বাসউদ্দীন এর সহিত দেখা করে ঢাকায় পাবলিসিটি অফিসে যোগদান করে দীর্ঘদিন পূর্ব পাকিস্তান রেডিওতে কাজ করেন। এসময় অনেক গানের রেকর্ড বের হয়। নূরুউদ্দিন আহমেদের জামাতা বেদারউদ্দিন আহমেদ এদেশের একজন প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী ছিলেন। বড় ছেলে নেছার হোসেন রেডিও টেলিভিশনের একজন নিয়মিত সংগীত শিল্পী ও সুরকার, বর্তমানে উর্দ্ধতন সরকারী কর্মকর্তা এবং ছোট ছেলে পান্না আহমেদ ফরিদপুর শহরের একজন কৃতি সংগীত শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে ফরিদপুর শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন এবং তার নাতনী পাপিয়া পান্না ও একজন উদীয়মান সংগীত শিল্পী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। প্রখ্যাত সাহিত্যিক আনম বজলুর রশীদ নূরুউদ্দিন আহমেদ এর আপন ভাগ্নে। তিনি ১৯৬৮ সালে ২০ জুন মৃত্যুবরণ করেন।
১৯২৮ সালে ফরিদপুর জেলার গেরদা নিবাসী সৈয়দ আবদুর রব মুসলমানদের সমন্বয়ে ‘খাদেমুল ইনসান সমিতি’ নামে একটি সমাজ কল্যাণ ও সংস্কারধর্মী প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। সমিতির কার্যক্রম ফরিদপুর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ভারতবর্ষে সর্বত্র অর্থাৎ বঙ্গ বিহার, আসাম ও উড়িষ্যায় বিস্তৃতি লাভ করে। খাদেমুল ইনসান সমিতি ১২টি বিষয়ের উপর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন অভাব অনটনে বিপর্যস্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন অসুস্থ শিক্ষায় অনগ্রসর মুসলমান সমাজকে সাহায্য, একতা শান্তি শৃংখলার পথে পরিচালনার মহান ব্রত নিয়ে সমিতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইউসুফ আলী চৌধুরী মোহন মিয়া, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী লাল মিয়া, খান বাহাদুর মুহাম্মদ ইসমাইল ও খান বাহাদুর আলিমুজ্জামান চৌধুরী, তমিজউদ্দিন খান প্রমুখ। সৈয়দ আবদুর রব এভাবে ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত মুসলমানদের জীবনে সেবা ধর্মের প্রতিষ্ঠা এবং সংস্কারের মাধ্যমে ইসলামের মূল্যায়ন করতে প্রয়াসী হয়েছিলেন।
শামসুদ্দিন মোল্লার জন্ম ১৯২১ সালে জেলার ভাঙ্গা ধারপূর্ব সদরদী গ্রামে। ১৯৪১ সালে ভাঙ্গা হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। স্কুলে পড়ার সময়েই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

আবুল ফয়েজ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় ২৩ সেপ্টেম্বর,১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন আইনজ্ঞ এবং প্রথম বাঙালি মুসলিম (ICS – ভারতীয় সিভিল সার্ভিস) অফিসার ছিলেন।









Recent Comments