FaridpurCity a social community & nonprofit organization

0

চৌধুরী বাড়ি রথখোলা

ফরিদপুর শহরের রথখোলা নামক স্থানের অবস্থিত এই বাড়িটি এক রহস্যময় বাড়ি, ফরিদপুরের অন্যান্য জমিদার এর তথ্য জানা গেলেও এই বাড়িটি সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা সম্ভব হয়নি। জানা যায় উপেন্দ্র নারায়ন চৌধুরী এই বাড়ির জমিদার ছিলেন। স্থানীয় ভাষ্য মতে এই জমিদার বাড়িটি অত্যাচারি জমিদার ছিলো। বাড়িটিতে রয়েছে প্রায় দেরশো বছরের পুরনো দূর্গা মন্দির,পুকুরঘাট,বেশ কয়েকটি অট্টালিকা,একটি প্রবেশদ্বার।

0

বনলতা সিনেমা হল ফরিদপুর

বনলতা সিনেমা হল ফরিদপুর

১৪ই অক্টোবর শুক্রবার ১৯৮৩ সালে শুভ উদ্বোধন করেন উপমহাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী মিসেস ফিরোজা বেগম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ততকালিন জেলা প্রশাসক জনাব সৈয়দ মোহাম্মদ সোলায়মান। আসছে অক্টোবর মাসে বনলতা সিনেমা হল প্রতিষ্ঠার ৩৯বছর পূর্ণ করবে, বর্তমানে ফরিদপুর জেলার একমাত্র সিনেমা হল এটি যেখানে সিনেমা প্রদর্শীত হচ্ছে এখনও। একটা সময় ফরিদপুর জেলাতে অসংখ্য সিনেমা হল ফরিদপুর সদরসহ ৯টি উপজেলায় মোট ১৪টি সিনেমা হল ছিল। হলগুলো হলো- শহরের প্রাণকেন্দ্রে কিরন ও বনলতা, কানাইপুরে মধুমালা, মধুখালী উপজেলায় নিশাবন্য ও আলোছায়া, বোয়ালমারীতে সোহাগ ও বিলাসী, আলফাডাঙ্গায় জননী, নগরকান্দা উপজেলায় পূর্ণিমা, ভাঙ্গা উপজেলায় চাদনী ও কোকিলা, সদরপুরে ঝুমা ও রাজিয়া, চরভদ্রাসনে মৌসুমী সিনেমা হল। এসব সিনেমা হল চালু ছিলো যা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে টাউন থিয়েটার হলটি বহুতল ভবন নির্মান হলে সেখানে সিনেপ্লেক্স চালু হবে বলে জানা গেছে।

0

কোহিনুর পাবলিক লাইব্রেরী

১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত কোহিনুর পাবলিক লাইব্রেরী।স্থান টেপাখোলা ফরিদপুর সদর।

ফরিদপুরের হাবিল গোপালপুরের বাসিন্দা মজিদ মিয়া। তিনি ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কোহিনুর পাবলিক লাইব্রেরি। কোহিনুর অর্থ পাহাড়ের আলো। মজিদ মিয়া পাহাড়ে নয়, ফরিদপুর শহরেই জ্ঞানের আলো জ্বালাতে গড়ে তুলেছেন এই গণপাঠাগার।মজিদ মিয়া শুধু কোহিনুর পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেননি, ঘরে ঘরে গিয়ে বইও সংগ্রহ করেছেন লাইব্রেরীর জন্য। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগে এই গণপাঠাগারে ১০ হাজারের বেশি বই থাকলেও এখন আছে মাত্র ৪ হাজার ২০০।

তারুণ্যের স্মৃতি জড়ানো আমার প্রিয় কোহিনুর লাইব্রেরী। দীর্ঘদিন এভাবেই তালাবদ্ধ পড়ে আছে। দুপাশ থেকে অটোরিকশা মেরামতের দোকান, পরোটা ভাজির রেষ্টুরেন্ট দখল করে নিয়েছে লাইব্রেরীর বেশ খানিকটা অংশ ।

এক সময় প্রায় প্রতি বিকেলেই বই বদলে নিতে এখানে হাজির হতাম।

স্কুল জীবনেই পরিচয় হয়েছিলো বাংলার রবিনহুড দস্যু বনহুরের সাথে। কিছুদিনের মধ্যেই রোমেনা আফাজকে বিদায় জানিয়ে হাতে নেই কাজী আনোয়ার হোসেনের কুয়াশা ও মাসুদ রানা। বই পড়ার নেশাটা তখন থেকেই শুরু। কোহিনুর পাবলিক লাইব্রেরীর সদস্য হওয়ার পর পেয়ে গেলাম  নীহারঞ্জন গুপ্তের সত্যান্বেষী কিরিটি রায়কে। ধীরেধীরে পরিচয় হলো ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়, নিমাই ভট্টাচার্য, আশাপূর্ণা দেবী, বিমল মিত্র, সমরেশ বসুদের সাথে। এখান থেকে বই নিয়ে বন্ধুরা পাল্লা দিয়ে পড়েছি। একবার বাসা থেকে ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ বইটি কে  যেনো চুরি করে নিয়ে গেলো। এক বন্ধু ‘চিতা বহ্নিমান’ বইটি পড়তে নিয়ে আর ফেরতই দিলোনা। এসব কারনে আমাকে মোটা অংকের জরিমানার অর্থ গুনতে হয়েছিলো। ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় পুরুষ না নারী, তাই নিয়ে একদিন তুমুল বিতর্ক বেঁধে গেলো বন্ধুদের মধ্যে। পরে জানা গেলো লেখকের আসল নাম তারাপদ মুখোপাধ্যায়! কতশত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই ভবনটি ঘিরে।

ইচ্ছে ছিলো লাইব্রেরীর ভিতরে ঢুকে একটু ঘুরে দেখার। থরেথরে বই সাজানো পরিচিত আলমিরাগুলো কি এখনো তেমনি আছে? বই পাগল ছেলেরা সব কোথায় হারিয়ে গেলো ! আবারও যদি কোহিনুর লাইব্রেরী চালু হতো!!!!

লেখকঃ জনাব অমিত মনোয়ার

0

ঐতিহ্যবাহী গুরুপদ’র লুচি আলুর দম

স্টেশন রোডের ঐতিহ্যবাহী গুরুপদর লুচি আলুর দম

৪০ বছর যাবৎ সুনামের সাথে ব্যবসা করে যাচ্ছেন জনাব গুরুপদ পাল। দোকানের নাম যদিও লক্ষি মিষ্টান্ন ভাণ্ডার তবে গুরুপদর লুচির দোকান বলেই বেশি পরিচিত।  শুরুটা তার হাত ধরে হলেও তার ছেলে পলাশ কুমার পালও বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করে যাচ্ছেন। একদম ঘরোয়া পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হয় এখানে, বিকাল ৫টার থেকেই লুচি, আলুর দম বিক্রি শুরু হয় চলে রাত ৯টা ৩০ পর্যন্ত। সকল শ্রেনী পেশার ভোজনরসিক এখানে আসেন লুচি আলুরদম এর স্বাদ নিতে। শুরুতে লুচির দাম ৩টাকা পিস সাথে আলুরদম ফ্রিতে দেয়া হতো বর্তমানে ৫টাকা পিস লুচি প্রতি প্লেট আলুরদম ১০ টাকা করে রাখা হয়। লুচি আলুরদম এর সাথে রাজভোগ,রসগোল্লাও বিক্রি হয় এখানে, শুরুতে রাজভোগ প্রতিপিস ২০ টাকায় বিক্রি হতো, এখনো সেই ২০ টাকাতেই রাজভোগ বিক্রি করা হয় রসগোল্লা ১০টাকা পিস। অনেকেই দলবেঁধে আসে খেতে কেউ বা আবার বাড়িতেও নিয়ে যায় মিষ্টি, লুচি,আলুরদম।

স্থানঃ ফরিদপুর সদর উপজেলার স্টেশন রোড বাজার।

0

ব্রিটিশ আমলের বিলমামুদপুর স্লুইসগেট

অনেক পুরনো স্লুইসগেট।

স্থান বিলমামুদপুর। কত সালে এই স্লুইসগেটটি নির্মান করা হয়েছে তার সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ হয়নি তবে জানতে আগ্রহী। স্লুইসগেট এর নির্মাণ শৈলী বেশ চমৎকার, ইটের গাথুনির এমন স্লুইসগেট ফরিদপুর শহরে দেখা যায়না। উক্ত এলাকায় কুমার নদ হতে একটি শাখা বিলমামুদপুর গ্রামে প্রবেশ করেছে, বিলমামুদপুর এলাকাতে ১৯টি ডাঙ্গি নামক স্থান রয়েছে।

 বিল শব্দটির কথা শুনলেই চোখের সামনে পানিতে পুর্ন বিল এর ছবি ভেসে আসে এখানেও শতবছর আগে ঢোলসমুদ্রের পানিতে পূর্ণ ছিলো কালক্রমে অনেক বড় ছিলো সেইবিল মামুদপুর এলাকায় অবস্থিত বিলের পানি কমতে শুরু করলে উচু ডাঙ্গাতে যাদের বসবাস শুরু হলো বা যারা এক একটি উচু ডাঙা বা ডাঙ্গিতে বসবাস শুরু করলো তাদের নামানুসারে সেসব স্থানের নামকরণ হয়ে যায়, এভাবে ১৯টি ডাঙ্গি রয়েছে বিলমামুদপুরে।

0

১১৭ বছরের ফরিদপুর চকবাজার জামে মসজিদ

১১৭ বছরের ফরিদপুরের চকবাজার জামে মসজিদ স্থাপিত হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর ১৯০৫ সালে।ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী চকবাজার জামে মসজিদ সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করবো আপনাদের।

কুষ্টিয়া জেলার চক শ্রীরামপুর নিবাসী মরহুম মৌঃ জামাল উদ্দিন মোল্লার পুত্রদ্বয়, মরহুম মৌঃ জমির উদ্দিন মোল্লা এবং মরহুম মৌঃ ছমির উদ্দিন মোল্লা কর্তৃক অত্র মসজিদ আল্লাহর ওয়াস্তে প্রতিষ্ঠিত, সন বাংলা ১১ই পৌষ ১৩১২ সাল ইংরেজী ২৬ ডিসেম্বর ১৯০৫সাল। অনেকেই ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মসজিদটিকে চিনেন অনেক মুসল্লী এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন। আজ আমরা এই মসজিদ এর একটি চমৎকার ইতিহাস আপনাদের জানাতে চেষ্টা করবো।
মসজিদটি ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন কুষ্টিয়া জেলার চক শ্রীরামপুর নিবাসী মরহুম মৌঃ জামাল উদ্দিন মোল্লার পুত্রদ্বয় মরহুম মৌঃ জমির উদ্দিন মোল্লা মরহুম মৌঃ ছমির উদ্দিন মোল্লা পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদে দীর্ঘদিন ইমামের দায়িত্বে থাকা জনাব আজিজ জানান জমির উদ্দিন মোল্লা,ছমির উদ্দিন মোল্লা তারা দুজন ফরিদপুর জেলা জজ কোর্ট এর নির্মাণ কাজ শেষে পারিশ্রমিক বাবদ যে অর্থ পেয়েছিলেন সেই অর্থ দিয়েই তারা চক বাজার জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তবে বর্তমান চকবাজার জামে মসজিদ আর ১৯০৫ সালের মসজিদের চিত্রটি হয়তো ভিন্ন ছিলো, পুরনো কোনো ছবি সংগ্রহে থাকলে আমরা অবশ্যই প্রচার করে সকলকে দেখার সুযোগ করে দিতাম। আপনাদের কারও কাছে থেকে থাকলে কমেন্ট করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিতে পারেন।
ঐতিহাসিক তথ্যটি জানার পরে সত্যিই তাদের প্রতি এক অন্যরকম শ্রদ্ধা ভালোবাসা তৈরী হয়েছে। আমাদের ফরিদপুর জেলায় তারা শ্রম দিয়েছেন আবার প্রাপ্ত অর্থ বাড়ি না নিয়ে এখানেই মসজিদ নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুক, তাদের জন্য এবং তাদের পরিবারের সকলের জন্য দোয়া রইলো।
ফরিদপুরকে দেখুন,ফরিদপুরকে জানুন।

0

১৫০ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহি পারচর হাট

১৫০ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহি পারচর হাট।

একেবারেই গ্রামীন হাট বলতে যা বোঝায় এই হাটে আসলে সেই আমেজটা পাওয়া যায় শহরের কাছেই কুমার নদের তীরে গড়ে ওঠা এই হাটে স্থানীয় কৃষকদের মাঠে উৎপাদিত তাজা সবজী ফলমূল, শষ্য বিক্রি হয় প্রতি সোমবার এবং বৃহস্পতিবার দুদিন। হাট বেলা ১২টা থেকে আস্তে আস্তে জমতে শুরু করে চলে রাত অবধি বেচাকেনা। পাশেই পারচর বাজার এবং ১৮৯০ সালে স্থাপিত পারচর স্কুল অবস্থিত। জানা যায় হাটের সন্নিকটেই ছিলো জমিদার আমলের খাজনা আদায়ের কাচারি ঘর যা আজ আর নেই । হাটে দুর দুরান্ত থেকে ক্রেতা বিক্রেতারা আসেন বেচা কেনা করেন । কুমার নদের কাছে গড়ে ওঠা এই হাটে বহু বছর আগে থেকেই বেচাকেনা হয়ে আসছে বর্তমানে নদীর এপার এবং ওপার পারাপারের জন্য সেতু রয়েছে তবে আগে সেখানে  ঘাট ছিলো নৌকায় করে বানিজ্য করতে আসতো অনেকেই এই হাটে, নদীর নাব্যতা সংকট এবং যাতায়াত ব্যস্থার উন্নতির কারনে যা আজ দেখা যায় না। অনেকেই তাজা সবজী কিনতে ছুটে আসেন

0

শরৎকামিনী এক্সরে ইনস্টিটিউট

চলুন জেনে নেই শরৎকামিনী এক্সরে ইনস্টিটিউট সম্পর্কে কিছু তথ্য যা অনেকেরই অজানা ।
শরৎকামিনী সরকার এর ১১০ তম মৃত্যুবার্ষীকি ছিলো ২৬সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে , ১৯১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ছোট মেয়ে সরোজিনী জন্মের কিছুদিন পরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরন করেছিলেন তিনি । রায় সাহেব ঈশানচন্দ্র সরকারের ২য় স্ত্রী ছিলেন এই শরৎকামিনী সরকার, তার নামেই এই এক্সরে ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।
১৯১৭ সালে নির্মিত ফরিদপুর সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন এর প্রয়োজন দেখা দেয়, সেই সাথে প্রযুক্তিগত সেবা প্রদানের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ জরুরী হয়ে পরে। ততকালীন সময়ে বর্তমান সময়ের মতো এতো বিত্তশালী পরিবার ছিলো না, জনগনকে উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে রায় সাহেব ঈশানচন্দ্র সরকারের সন্তান তার মায়ের নামে ১৯৩৯ সালে শরৎকামিনী এক্সরে ইনস্টিটিউট নির্মাণে সহায়তা প্রদান করে। উক্ত ভবনটি আজও রয়েছে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে। 

1

সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলা পুলিশ এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ফরিদপুরে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার  বিকাল ৩ টায় ফরিদপুর জেলা পুলিশ সম্মেলন কক্ষে জেলা পুলিশ, ফরিদপুর কর্তৃক ফরিদপুরের স্থানীয় অনলাইন প্লাটফর্মের এডমিন ও মডারেটর এবং স্থানীয় সমাজ কল্যাণকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা পুলিশের মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব মোঃ শাহজাহান, পিপিএম-সেবা। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ফরিদপুরের স্থানীয় ৩১টি ফেসবুক পেজ ও গ্রুপের অ্যাডমিন ও মডারেটর এবং ৯ টি স্থানীয় সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ।মতবিনিময় সভায় ফরিদপুর জেলা পুলিশের মাননীয় পুলিশ সুপার বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপের অ্যাডমিন ও মডারেটর এবং স্থানীয় সমাজ কল্যাণকর্মীদের সামনে বর্তমান সময়ে প্রচলিত সাইবার ক্রাইমের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি উপস্থিত সকলকে সাইবার ক্রাইম, সাইবার বুলিং সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। কিভাবে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কেও তিনি আলোকপাত করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কোন কোন ক্ষেত্রে সাইবার ক্রাইম হয় এবং সাইবার ক্রাইমের শাস্তি সম্পর্কে সকলকে অবগত করেন। অ্যাডমিন ও মডারেটরদের উদ্দেশ্যে তিনি নিম্নলিখিত করণীয় বর্জনীয় সম্পর্কে বলেন-#নারীদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ, প্রচার, পোস্ট, আপলোড ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।#ধর্মীয় বিষয় নিয়ে মন্তব্য, অভিব্যক্তি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বদা সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।#কোন তথ্য প্রচার বা অনুমোদনের ক্ষেত্রে সর্বদা ঐ তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে হবে, প্রয়োজনে সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, সহকারী পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার বা ঐ তথ্যের সূত্র থেকে তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে হবে।#সর্বক্ষেত্রে সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে এবং সংবিধান ও আইন বিরোধী কোন পোস্ট করা যাবে না বা পোস্ট অনুমোদন দেওয়া যাবে না।#ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদকে উৎসাহিত করে এমন কোন পোস্ট করা যাবে না বা অনুমোদন করা যাবে না।# দেশের পররাষ্ট্রনীতি বিরোধী ও বিদেশী রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকালাপ সংক্রান্ত পোস্ট অনুমোদন ও প্রচার করা যাবে না।#গ্রুপ ও পেজে থাকা ফেক আইডি সম্পর্কে সদা সর্তক থাকতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে ফেক আইডি রিমুভ/ব্লক/রিপোর্ট করতে হবে।#সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনী, এসবি, এনএসআই, সিআইডি সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।#সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরোধী ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিরোধী পোস্ট প্রচার, প্রকাশ ও অনুমোদন করা যাবে না।#সোসাল মিডিয়াতে পোস্ট দেওয়াসহ সকল ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, পর্ণোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইন, আইসিটি‘ আইন, দন্ডবিধি মেনে চলতে হবে।#বিদেশী ছবি ও ভিডিও প্রচারের পূর্বে যাচাই বাছাই করতে হবে।#ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান, ধর্ম ও সরকার সম্পর্কে মনগড়া ভিত্তিহীন, ভূয়া, আক্রমণাত্বক শব্দ ও বাক্য পোস্ট করা যাবে না ও অনুমোদন করা যাবে না। বিভিন্ন ধরণের অনলাইন প্লাটফর্ম কারো জন্য যেন বিরক্তির কারণ হয় বা সমাজ/ব্যক্তিস্বার্থের ক্ষতি হয় এমন কিছু শেয়ার, পোস্ট হতে বিরত থাকতে হবে।#সর্বোপরি দেশ ও ফরিদপুরের সার্বিক উন্নতিকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রুপ/পেজ/চ্যানেল পরিচালনা করতে হবে।এছাড়াও তিনি মাদক নির্মূল, ইভটিজিং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন রোধে উপস্থিত সকলের প্রতি আহবান জানান। যে কোন অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশকে যথাযথ সত্য তথ্য প্রদান পূর্বক সমাজকে অপরাধের হাত থেকে মুক্ত রাখার আহবান করেন।তিনি সকল অ্যাডমিন ও মডারেটরদেরকে অনলাইন মাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক পোস্ট করতে বলেন। অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যাবহার করে সাইবার বুলিং, অনলাইনে হয়রানি বন্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার এর নৈতিকতা সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বলেন।সাইবার ক্রাইম বন্ধে ফরিদপুরের সকল অনলাইন ভিত্তিক সংগঠন/এনজিও/ সমাজকর্মী এবং জেলা পুলিশ, ফরিদপুর একই প্লাটফর্মে কাজ করবে এই অঙ্গীকারের মাধ্যমে উক্ত মতবিনিময় সভা শেষ হয়।[মিডিয়া এন্ড পিআর, জেলা পুলিশ ফরিদপুর]

0

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উৎস’ এর ৩য় বর্ষপূর্তী

আজ ফরিদপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উৎস এর ৩য় বর্ষ পুর্ণ  হলো , ৩য় বর্ষপূর্তী  উপলক্ষে সংগঠনটি নানারকম সামাজিক কার্যক্রম পালন করছে ।

সংগঠনটি ২৮ শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে যাত্রা শুরু করে স্বল্পসময়ে ব্যাপক সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সকলের মন জয় করে নিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মোঃ দিদারুল ইসলাম জানান  তারা নারী ও শিশু হয়রানি প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম,  করোনাকালীন সময়ে সচেতনতা সৃষ্টি, মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ, অক্সিজেন সেবা প্রদান, বিনামূল্যে ২ হাজার এর অধিক করোনা টিকা নিবন্ধন ও টিকা কার্ড প্রদান , খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, দুটি চটপটি ও ফুচকা কর্নার তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি, সিলেট বিভাগে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী, এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক এবং সেবামূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে চলেছে উৎস সংগঠনটি।

উৎসের ৩য় বর্ষপূতি উপলক্ষে দিনব্যাপি যেসব কার্যক্রমি ছিলো আজ, গজারিয়া বাজার হুসাইনিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান করা হয়। মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মিলে মোট ১১০ জন উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনে যা যা ছিলো দোয়া মাহফিল  দুপুরের খাবার প্রতিভা যাচাই ২. কিরাত ( ছোট গ্রুপ) ৩. কিরাত ( বড় গ্রুপ) ৪. হাম নাত গজল ( ছোট গ্রুপ) ৫. হাম নাত গজল ( বড় গ্রুপ) পুরষ্কার বিতরণ  ৪ ক্যাটাগরিতে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় মোট ১২ টি পুরষ্কার দেওয়া হয়। সবশেষে বিকালের নাস্তার মাধ্যমে সুন্দর একটা দিনের সমাপ্ত হয় উৎস পরিবারের।

বিশেষ এই দিনটিতে তাদেরকে ফরিদপুরের অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং পেশাজীরাও শুভেচ্ছা জানাচ্ছে যা তাদের কার্যক্রম পরিচলনায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে দিবে। অনেক শুভেচ্ছা রইলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উৎস এর জন্য।