FaridpurCity a social community & nonprofit organization

0

শেখ জামাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচটি পরিত্যক্ত।

আজ রোজ শনিবার ২৪/১০/২০ ইং তারিখে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনে একদিনের প্রিতী ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠীত হওয়ার কথা ছিলো সকল আয়োজনও ছিলো প্রস্তুত। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে ডমিনেটরস Vs ফরিদপুর ক্রিকেট একাডেমীর মধ্যকার ম্যাচটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে।

উক্ত আয়োজনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শামসুল হক (ভোলা মাষ্টার) চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ,ফরিদপুর।আরও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি হিসেবে জনাব মোঃ আলিমুজ্জামান বিপিএম সেবা, পুলিশ সুপার ফরিদপুর ,উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর ক্রিকেট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা জনাব মোকলেসুর রহমান বাবলু এছাড়াও অন্যান্য অতিথি বৃন্দ। উক্ত খেলাটি আয়োজন করেছেন দি ক্রিকেটারস ফরিদপুর। উক্ত ম্যাচে ডমিনেটরস টিমে বাংলাদেশের ন্যাশনাল টিমের প্লেয়াররা অংশগ্রহন করতে গতকালই ফরিদপুরে এসে উপস্থিত ছিলেন সকল ক্রিকেটারগন ।

ছবিঃ মোঃরাকিবুল হাসান

উক্ত ম্যাচে ডমিনেটরস টিমের হয়ে অংশগ্রহন করতে যারা উপস্থিত ছিলেন ১. নাইম ইসলাম ২.শামসুর রহমান ৩.মার্শাল আইয়ুব ৪.সোহরাওয়ার্দী শুভ ৫.ইলিয়াস সানী৬. আলাউদ্দিন বাবু ৭.তানভীর হায়দার ৮.সৈকত আলী ৯.যুবায়ের লিখন ১০.মেহদী রানা ১১.জসিম উদ্দিন ১২.কাজী কামরুল ১৩.সায়েম চৌধুরী ১৪.মোহিউদ্দিন মোহাম্মাদ এবং কোচ মোঃ হুমায়ন কবীর। ফরিদপুর ক্রিকেট একাডেমির পক্ষে যারা অংশগ্রহন করতে প্রস্তুত ছিলো ১. নির্জন ২. শিবলী ৩. আরাফাত সানী ৪.আসিফ ৫. সিফাত ৬.পার্থিব ৭.উওম ৮.রনী ৯.সায়েম ১০. সবুজ ১১.রাজীন ১২.আবিদ ১৩.রফিকুল ১৪.সুজন ১৫. মঞ্জুর. এবং কোচ ইমরান হোসেন ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান সোহেল।

খেলাটি আজ সকাল ৯টায় ফরিদপুর শেখ জামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো তাই ক্রিকেট অনুরাগীরাও উপস্থিতি ছিলো কিছুটা, তবে দুযেরোগপুর্ণ আবহাওয়ার কারনে অনেকেই আসতে পারেনি। The Cricketers Faridpur এ্যাডমিন ও ফরিদপুর ক্রিকেট একাডেমি প্রধান আহবায়ক নাজমুস সাকিব তন্ময় জানান খুব শীঘ্রই এমন আয়োজন আবারও করা হবে এবং ডমিনেটরস টিমও আসতে আগ্রহী।

0

৪ ছাত্রের স্বপ্ন রাস্তার পাশের খাদে ফেলে দিলো কে বা কারা?

০২-০৯-২০২০ তারিখে চারজন ছাত্র মোঃ রোমান আহমেদ উল্লাস,আহমেদ শাকিল,যায়েদ শাহনেওয়াজ,এ কে আজাদ মিলে নগরকান্দা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের পাশে একটা ফুড কার্ট বসিয়েছিলো। আল্লাহর রহমতে তাদের ছোট্ট ব্যাবসাটি ভালই চলছিলো এই ক দিন। কিছু দিন যেতে তারা তাদের ছোট্ট ফুড কার্ট নিয়ে আরও স্বপ্ন আকতে থাকেন মনের ভেতর কিন্তু গতকাল ২২ – ১০- ২০২০ তারিখ রাতে কে বা কারা যেন সে স্বপ্নের ফুড কার্টটিকে খাদে ফেলে দিয়েছে।

ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক দিক দিয়ে তাদের সাথে কারও বিরোধ নেই যারা এই কাজ করতে পারে। তারা জানে না এই দুর্বৃত্তের দ্বারা কৃত জঘন্য এই কাজের বিচার তারা পাবে কি না!? কয়েকজন ছাত্রের সামান্য এটুকু প্রয়াসকে হয়তো কেউ মেনে নিতে পারছে না। এই মেনে নিতে না পারাটা যে কতবড় হীনমানসিকতার পরিচায়ক তা আর বলার উপেক্ষা রাখে না। শুধু এটুকুই বলা তাদের, নগরকান্দা নিয়ে,নগরকান্দার মানুষদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতো তারা, তারা চেয়েছিলো নগরকান্দাবাসীকে ভালো কিছু দিতে, কিন্তু কেউ হয়তো এই ভালো চায় না। সকলের কাছে প্রশ্ন কিছু মানুষের ঈর্ষাপরায়ণ হওয়ার জন্যে কয়েকজন সাধারণ ছাত্রের স্বপ্ন এভাবে ভেঙে দেওয়া টা কত জঘণ্য কাজ? অনেক শ্রম দিয়ে এই ৪জন ছাত্র ফুড কার্টটি গড়ে তুলেছিলো আজ তাদের চোখের সামনে সেই স্বপ্নটি পরে থাকতে দেখে তারা আজ হতাশাগ্রস্থ । তারা প্রশাসনের নিকট বিচার দাবি করছে

0

ইএসপিএন ক্রিক ইনফোতে ফরিদপুরের কিশোরদের খেলাধুলার চিত্র

আজ সকাল থেকেই ফরিদপুরের বিভিন্ন ব্যাক্তির প্রোফাইলে একটা ছবি শেয়ার হতে দেখাযাচ্ছে আর সেটা হলো ইএসপিএন ক্রিক ইনফোর ভেরিভাইড পেইজে ফরিদপুরের গেরদা ইউনিয়নের দয়ারামপুর গ্রামের মেহগনী গাছের বাগানের মধ্যে গ্রামের ছেলেদের ক্রিকেট খেলার দৃশ্য। এমন দৃশ্য আমাদের দেশের গ্রামে প্রায়শই দেখা যায় আর এমন একটি দৃশ্য ক্যামেরা বন্দী করেছেন একই গ্রামের সন্তান আসিফ আহমেদ দিগন্ত।

আজ সকাল ৮ টায় ছবিটি ই এস পি এন ক্রিক ইনফোর ফেসবুক পেইজে ছবিটি পোস্ট করার পর এখন পর্যন্ত ৪শোর অধিক শেয়ার হয়েছে ছবিটি ১৫ হাজারের বেশি রিএক্ট ৫শতর কাছাকাছি কমেন্ট দেখা গেছে। চিত্রগ্রাহক আসিফ আহমেদ দিগন্তের সাথে ফরিদপুর সিটি পেইজ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আজ সকাল থেকেই তিনি তার বন্ধুদের কাছ থেকে অসংখ্য অভিনন্দন পাচ্ছেন তিনি জানান ফরিদপুরকে আন্তর্জাতিক অংগনে তুলে ধরতে পেরে তিনিও ভীষন আনন্দিত। তিনি নিয়মিত ছবি তুলেন বলে জানান তিনি এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফি প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করে পেয়েছেন পুরস্কারও । তিনি জানান সবার ভালোবাসা পেলে ছবির সাথেই থাকতে চান তিনি। আসিফ আহমেদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ছবিটি ফরিদপুর সিটি পেইজে এবং ফরিদপুর লাইভ গ্রুপেও পোস্ট হয়েছে অনেকে সেখানেও তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। আমাদের ফরিদপুরের নাম একটা ছবির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর মাঝে তুলে ধরায় ফরিদপুর সিটি পেইজ ফরিদপুর লাইভ গ্রুপ এবং ফরিদপুর সিটি ডট কমের পক্ষ থেকেও তার প্রতি অনেক শুভকামনা রইলো। আমরাও প্রত্যাশা করি তার ছবি তোলা যেনো চলতে থাকে আর এভাবেই ফরিদপুরকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করার চেষ্টা অব্যাহত থাকুক।

1

চৌধুরী আবুল কালাম লিমন ও ফরিদপুরে রক,হার্ডরক মিউজিক রেভ্যুলেশন

পর্ব-১

বিস্ময়

১৯৯৪/৯৫ সালের শীতের সন্ধ্যা। বড় ভাইয়ের হাত ধরে নাম না জানা মাঠে দাঁড়িয়ে আছি। এককোনে একটা মঞ্চ; মঞ্চে কয়েকজন তরুণ, অগোছালো লম্বা চুল, কাঁধে গিটার। শুকনো শরীরের এক তরুণ ইংরেজি গান গাইছে। গানের একটা অক্ষরও বুঝতে পারছি না। কিভাবে বুঝবো? আমিতো তখন “আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে” ছড়া কাটি। ওদিকে বড় ভাই মাঠে দাঁড়িয়ে তার গানে কন্ঠ মিলায়। আর শিশু আমি ঘোর লাগা চোখে এইসব দেখি।

আকাশ কাঁপিয়ে গান বাজছে। মাঠের কিশোর, তরুণ, যুবকেরা মত্ত। “ফিলিংস” এর গানের মত দিন রাত এখানে থমকে গেছে।

গান থামে। বড় ভাইয়ের সাথে বাসায় ফিরে আসি। মনের মধ্যে বিষ্ময়। কারা এরা!!!

পর্ব-২

জিলা স্কুলের পেছনের মাঠে একদল দেবদূত

আশুতোষ স্যারের অংকের ক্লাসে সবাই খুব তটস্থ থাকে। স্যারের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস আমাদের কখনোই হয়নাই। ব্ল্যাক বোর্ডে সাদা চক একের পর এক বীজগণিতের সূত্র লেখে। তারই ফাঁকে জানালা দিয়ে দেখি স্কাউট ভবনের পাশে একদল ছেলে বসে আছে। একজনের গায়ে আবার জিলা স্কুলের ড্রেস। কি ভয়ঙ্কর! ক্লাস ফাঁকি দিয়ে স্কাউট ভবনের পাশে বসে আছে!

দূর থেকে ভেসে আসে গান। সেই গান, সেই সুর আশুতোষ স্যারের অংকের সব সূত্র ভেঙে দেয়। চকের গুড়োর সাথে ঝরে পড়ে  এর যাবতীয় মারপ্যাঁচ।

সিনিয়র ভাইদের কাছ থেকে জানতে পারি স্কাউট ভবনের পাশে বসে থাকা একজন লিমন (দূর্দান্ত গিটার বাজায়), স্কুল ড্রেস পরে থাকা ছেলেটার নাম আলামিন (ড্রামসের জাদুকর), আরেকজন সাগর (গায়ক, কিবোর্ডিষ্ট), অন্য ছেলেটা সৈকত (বেস গিটার বাজায়)। রক গান গায়। তারা এই শহরের দেবদূত।

পর্ব-৩

রেললাইনের ধারে পড়ে থাকা অলস সময়েরা

ফরিদপুর শহরের রেল চলাচল তখন বন্ধ। অসহায় ষ্টেশনে বিকেলের রোদ এসে শুয়ে থাকে। ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ মিশন স্কুলের গ্রেভইয়ার্ডের পিছনেই রেললাইন। পাশেই একটা বিশাল কাভার্ড। তার উপর গিটার হাতে বসে আছে লিমন আর এলিন। লিমন বয়েসে এলিনের চেয়ে বড়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ পড়ুয়া ঢাকার এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে লিমনের যৎসামান্য শিক্ষা, বই থেকে কিছু সাহায্য আর নিজের চেষ্টা ও একাগ্রতা লিমনের গিটার মোহময় সুরে বাজে, বিকেল সন্ধ্যায় গড়ায়। সেই মাহেন্দ্রক্ষণে খয়েরী আলোয় লিমনেরর দরাজ গলায় এল.আর.বি এর “সেই তুমি” সন্ধ্যার নিরবতা ভেঙে দেয়।

গিটারে লিমনের হাত খেলা করে। ছয়টা তার জীবন খুঁজে পায়।

আঁধার খানিকটা গাঢ় হয়ে এলে লিমন আর এলিন বাড়ি ফেরে। পেছনে পড়ে থাকে ঝড়া সময়ের গান।

 

পর্ব-৪

অলৌকিক ইষ্টিমার

রেললাইনের ধারে পড়ে থাকা অলস সময়ের হাত ধরে জন্ম নেয় একটা “ব্যান্ড”। “ব্লু স্কাই” নামে সেই ব্যান্ড শহরের কবি জসীমউদ্দীন হলের অডিটরিয়ামে পারফর্ম করে। গিটার ও ভোকালে লিমন, রিদম গিটারে এলিন, ড্রামসে আলামিন, বেস গিটারে সৈকত, কিবোর্ডে সাগর। অচেনা সেই ছেলেদের গান ফরিদপুরের তরুণরা প্রাণভরে উপভোগ করে।

কনসার্ট শেষে অনেকেই ব্যান্ডের দারুণ প্রশংসা করে। বাসায় ফেরার পথে লিমনের মনে হতে থাকে এভাবে নয় অন্যভাবে অন্যকিছু। লিমন এলিনকে ব্যান্ডের নাম পরিবর্তন করার ব্যাপারে ভাবতে বলে।

লক্ষীপুরের দুই কামরার ভাড়া বাসা। এলিন তার ইন্ডিয়ান গিভসন জাম্বো গিটারে টুং টাং করছে। আলামিন স্বভাবসুলভ উম্মাদনায় জেমসের গান গেয়ে চলছে। সৈকত আর সাগর ডিকশনারিতে চোখ গুঁজে রেখেছে। ঠিক তখন লিমন ব্যান্ডের নতুন নাম প্রস্তাব করে। “ক্লেয়ারভয়েন্স”। মানে কি! সবার মনে একই প্রশ্ন। “অলোক দৃষ্টি”, আমরা আমাদের দু’চোখের বাইরে অন্য চোখে এই পৃথিবী দেখবো, প্রতিবাদ আর প্রেরণার গান গাইবো। লিমন ব্যাখ্যা দেয় সব। লিমনের কথার মুগ্ধতায় সবাই ডুবে যায়। জেগে ওঠে ফরিদপুরের প্রথম রক ও হার্ডরক ধারার ব্যান্ড “ক্লেয়ারভয়েন্স”।

পর্ব-৫

বেনসন এন্ড হেজেস ষ্টার সার্চ-২০০২

ছোট আকারে ক্লেয়ারভয়েন্সের কনসার্ট হতে থাকে। শহরের রক গান প্রিয় মানুষেরা তাদের চিনতে শুরু করছে। এর মধ্যে ব্যান্ডে বেসিষ্ট হিসেবে যোগ দেয় লিমনের “হেজ স্প্যারো” গিটার স্কুলের ছাত্র পলাশ, আইয়ুব বাচ্চু পাঁড় ভক্ত। পলাশ আসাতে “ক্লেয়ারভয়েন্স” আরো বেগবান হয়।

কিন্তু ভাবনা অন্য জায়গায়। কাভার গান গাইতে গাইতে লিমন আদতে নিজের গান বানানোর চেষ্টা করছে। “রাতের আঁধার” নামে একটা গানের অর্ধেক শেষ করে বসে আছে অথচ কথা খুঁজে পাচ্ছে না। এগিয়ে আসে পলাশ, গানের শেষ পার্টের কথা লেখে। আর সুর তো লিমনের মাথায় ঘুরছিলো অনেকদিন ধরেই। ব্যান্ডের প্র্যাকটিসে গানটা শুনে নির্বাক হয়ে যায় সবাই। বিশেষকরে লিমনের গিটার সলো আর ইন্ট্রো প্লাকিং। সবার চেষ্টায় তৈরী হয় ফরিদপুরের ব্যান্ডের প্রথম রক ঘরনার গান “রাতের আঁধার”।

“মোস্তাফিজ বিপ্লব” একজন সংগীত প্রেমী, গিটারিষ্ট, গীতিকবি। কবিতার প্রতি অপার ভালোবাসা। গিটারের খুঁটিনাটি অনেককিছুই লিমনের কাছে শেখা। একদিন একটা গান লিখে নিয়ে আসে লিমনের কাছে। এক বসায় সুর হয়ে যায়। ব্যান্ডের কম্পোজিশনে সেই সুর পায় পুর্ণাঙ্গ রূপ। “ঠিকানা নেই আমার, নেই কোন বাড়িঘর” এমন শক্তিশালী কথার গানে ক্লেয়ারভয়েন্সের ঝুলি ভরে।

এরকম দুরন্ত সময়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আসে বেনসন এন্ড হেজেস ষ্টার সার্চ-২০০২ এর। গানের ডেমো রেকর্ড জমা দিতে হবে, সেই গান শুনবেন বিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী আর গান মনোনিত হলে আবেদনকৃত জোন অনুযায়ী লাইভ অডিশন। এখানেই শেষ না, লাইভ অডিশনে দুজন বিচারক থাকবেন, সেখান থেকে সিলেক্টেড ব্যান্ডদের ভিডিও ঢাকার মূল বিচারকগণ দেখবেন এবং তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়ে বেষ্ট ৮টি ব্যান্ড ও ৭ জন একক শিল্পীকে মূল পর্বে লাইভ গাওয়ার জন্য ডাকবেন।

“ক্লেয়ারভয়েন্স” এর ততোদিনে কয়েকটা গান বানানো হয়ে গেছে। সেখান থেকে “রাতের আঁধার” এবং “ঠিকানা নেই আমার” গান দুটি প্র্যাকটিস প্যাডের ক্যাসেট প্লেয়ারে রেকর্ড করে পাঠিয়ে দেয়া হয় বেনসন এন্ড হেজেসের ঠিকানায়।

দিন যায়, ব্যান্ডের প্র্যাকটিস চলে, কখনো ষ্টেডিয়াম কখনো রাজেন্দ্র কলেজের মাঠ, রেললাইন, কবি জসিমউদ্দীন হলের সামনে চায়ের দোকান আড্ডায় মুখর হয়ে থাকে। এরমধ্যেই লিমনের বাসার টেলিফোনে একটা কল সবার ব্যস্ততা আরো বাড়িয়ে দেয়। ব্যান্ডের গান সিলেক্ট হয়েছে, আগামী মাসে খুলনায় লাইভ অডিশন।

খুলনা শহর। লাইভ অডিশন শেষ। ক্লেয়ার ভয়েন্সের সাথে পারফর্ম করে ফরিদপুরের আরেক সলো আর্টিস্ট শেখ আব্দুল হাদি।

পারফর্ম শেষে এককোনে বসে আছে লিমন ও সহযোদ্ধারা। ঠিক তখন একটি জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক তাদের দিকে এগিয়ে আসে। ব্যান্ডের সাথে চলে দীর্ঘ কথা। কে কি বাজায়, কি ধরণের গান শোনা হয়, ভবিষ্যত পরিকল্পনা ইত্যাদি ইত্যাদি।

সাংবাদিক চলে যায়। ক্লেয়ারভয়েন্স ফিরে আসে।

ষ্টার সার্চ-২০০২, খুলনা অডিশনে ক্লেয়ারভয়েন্স।

পর্ব-৬

তবে কি ফরিদপুরে আর কোন ব্যান্ড ছিলনা?

৯০ দশকে ফরিদপুরে বেশ কিছু ব্যান্ড ও সাংষ্কৃতিক সংগঠন ছিল। 

ইনডেক্স, রজনীগন্ধা, ব্লু স্কাই, হলিডে, অনির্বাণ শিল্পগোষ্ঠী, বহুরূপী সহ আরো কিছু ব্যান্ড। তথ্য মতে খায়রুল ও মনি ভাইয়ের “ইনডেক্স” ফরিদপুরের প্রথম ব্যান্ড। ব্লু স্কাই ব্যান্ডটি ভেঙ্গে “ক্লেয়ারভয়েন্স” ব্যান্ড গঠিত হয়েছিল।   

ক্লেয়ারভয়েন্স ছাড়া বাকি ব্যান্ডগুলো রক বা হার্ডরক ঘরনার মিউজিক করতো না। অনির্বাণ ও বহুরুপী নাটক, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ সহ আধুনিক ধারার গান পরিবেশনা করতো। তাই এই দুটি সংগঠনকে ব্যান্ড বলা যেতে পারে না। এছাড়া বাকি ব্যান্ডগুলোও পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যান্ড ধারায় যুক্ত ছিল না। সফট রক, ফোক, আধুনিক সহ একক শিল্পীদের গান কাভার করতেন তারা। মূলতঃ ক্লেয়ারভয়েন্স একমাত্র ব্যান্ড যারা রক, হার্ডরক ধারার ব্যান্ড মিউজিক করতো এবং তাদের নিজস্ব গান ছিল।  

পর্ব-৭

সবকিছু ভেঙে পড়ে

ষ্টার সার্চ থেকে ফিরে আসার কয়েকমাস পর আলামিন ব্যান্ড ছেড়ে ঢাকা চলে আসে। ড্রামার হিসেবে যোগ দেয় “জুবায়ের”। এর কিছুদিন পর এলিন ও সৈকত ব্যান্ড ছাড়ে নিজস্ব কারণে। চাকরি ও গান নিয়ে এগুনোর তাগিদে কিবোর্ডিষ্ট সাগর পাড়ি জমায় ঢাকাতে। কিছুদিন কাজ করার পর পড়াশোনার জন্যে জুবায়েরও ব্যান্ড থেকে বিরতি নেয়। ক্লেয়ারভয়েন্সে তখন লিমন আর পলাশ। মাঝে আরো কয়েকজন যুক্ত হলেও বেশীদিন কাজ করেনি।

একজনের সাথে আরেজন মানুষের একটা সংযোগ সেতু থাকে। এই সেতু সম্পর্কের, পরিচয়ের, ভালোবাসার। সুক্ষ সুঁতোর মতো এইসব সেতু ছিঁড়ে যায় পলকা বাতাসে। আবার সম্পর্কের সততা সেতুকে করে তোলে দারুণ মজবুত। ছিঁড়ে যাওয়া সেতু গিট বেঁধে জোড়া লাগে কখনও কখনও। সেইসব সম্পর্কের সেতু বা ব্রীজ ভেঙে যায়, ভেঙে যাওয়াই নিয়তি।

ক্লেয়ারভয়েন্সের প্রথমদিকের লাইন-আপ: বাঁ থেকে পলাশ, জুবায়ের, এলিন, সাগড়, লিমন ও সৈকত।

 

পর্ব-৮

জেগে ওঠার গান

২০০৩ সালে গিটারিষ্ট হিসেবে ক্লেয়ারভয়েন্সে যোগ দেই আমি। “হেজ স্প্যারো” স্কুলে লিমন ভাইয়ের ছাত্র। ড্রামসে সম্রাট, কিবোর্ডে বাবু।

নতুন লাইন-আপ নিয়ে ক্লেয়ারভয়েন্স তথা লিমন ভাই এগিয়ে চলে দূর্বার গতিতে। লিমন ভাইয়ের সাথে সার্বক্ষণিক ছায়ার মতন লেগে থাকি আমি। কবি জসীমউদ্দিন হলের অডিটরিয়ামে ক্লেয়ারভয়েন্স স্পন্সর নিয়ে নতুন লাইন-আপের প্রথম একক “উইন্টার কন্সার্ট” আয়োজন করে। ফরিদপুর শহরে স্পন্সর নিয়ে রক কনসার্ট ক্লেয়ারভয়েন্সই প্রথম করেছিল। উইন্টার কনসার্টে হলের সব টিকিট মূহুর্তেই শেষ হয়ে যায়। হাউজফুল বললে ভুল হবে, বরং হল ছেড়ে বাইরে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল। কনসার্টের মাঝামাঝি সময়ে হলের গেট খুলে দিয়ে সবাইকে গান শোনার জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। ফরিদপুরের ইন্ডোর কনসার্ট ইতিহাসে এটাই ছিল প্রথম কনসার্ট যার সব টিকেট বিক্রি হয়েছে, ২ ঘন্টার কনসার্ট ৩ ঘন্টায় গড়িয়েছে। 

ক্লেয়ারভয়েন্সের উইন্টার কনসার্টের নতুন লাইন-আপ: বাঁ থেকে লিমন, পলাশ, তানিন, বাবু ও সম্রাট।

“উইন্টার কনসার্ট” এর পর ড্রামার পরিবর্তন হয়। জুবায়ের ভাই ড্রামার হিসেবে আবার যোগ দেন। শহর থেকে গ্রাম ক্লেয়ারভয়েন্স কনসার্ট করে বেড়ায়।

উইন্টার কনসার্টের দর্শকদের একাংশ।

পর্ব-৯

ইকারুসের ডানা

২০০৪ সাল, আবার ফিরে আসে বেনসন এন্ড হেজেস ষ্টার সার্চ। খুলনা জোনে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এবার আমরা “রাতের আঁধার” আর আমার লেখা লিমন ভাইয়ের সুরে “বাংলাদেশ” গান সিলেক্ট করে রেকর্ডের জন্যে ঢাকা আসি। লিমন ভাই “সাউন্ড গার্ডেন” ষ্টুডিওতে দুই শিফট বুকিং দেন। আমরা ঢাকায় এসে উঠি খসরু আংকেলের ছেলে রক্তিম ভাইয়ের বাসায়। আমরা পাঁচ জন রক্তিম ভাইয়ের বাসায় টানা তিন দিন থাকি। ঢাকার “ষ্ট্রাইকিং” ব্যান্ডের ভোকাল মনির ও গিটারিষ্ট জামান ভাই ছিলেন রক্তিম ভাইয়ের বন্ধু। সারা রাত আড্ডা চলে, সকালে উঠে রেকর্ডিং। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার মহান “দূরে” ভাই। জামান ভাইয়ের সুবাদে আমরা রেকর্ডিং এর আগে একটা প্র্যাকটিস প্যাডে যাই যা ঢাকার প্রথম প্রফেশনাল প্র্যাকটিস প্যাডের অভিজ্ঞতা। জামান ভাই এর জন্য আমাদের রেকর্ডিং শিফটের সময়ও কিছুটা বাড়ে। দূরে ভাই এর সহযোগীতার কথা বলে বোঝানো যাবে না। মফস্বল থেকে ঢাকায় রেকর্ডিং এ এসেছি কারণ বেনসন এন্ড হেজেস ষ্টার সার্চে পার্টিসিপেট করবো। আমাদের সাহস, একাগ্রতা দূরে ভাইকে মুগ্ধ করে। লিমন ভাইয়ের গিটার বাজানোর প্রশংসা করেন স্বয়ং দূরে ভাই। রেকর্ডিং শেষে ডেমো নিয়ে বের হবার সময় দূরে ভাই বলেছিলেন “তোমাদের গান অবশ্যই সিলেক্ট হবে। পারফর্মেন্স দিয়া খুলনা উড়ায় দিবা”। আর সেই রেকর্ডিং সেশনেই মারজুক রাসেল ভাইয়ের সাথে দেখা, আড্ডা। আমরা পেয়ে যাই ইকারুসের ডানা।

সাউন্ড গার্ডেন স্টুডিওতে রেকর্ডিং সেশন ও আড্ডা। ছবিতে ক্লেয়ারভয়েন্সের সদস্য, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার দূরে, মোস্তাফিজ বিপ্লব, রক্তিম, সবুজ ও বন্ধুরা

পর্ব-১০

বেনসন এন্ড হেজেস ষ্টার সার্চ-২০০৪

বেনসন এন্ড হেজেসের ঠিকানায় ডেমো গান জমা দেয়ার মাস খানেক পড়ে লিমন ভাইয়ের নম্বরে ফোন আসে যে আমরা সিলেক্টেড। এর মধ্যে পলাশ ভাই চাকরীর সন্ধানে ঢাকা পাড়ি জমায়। আমাদের সাথে যুক্ত হয় বেস গিটারিষ্ট বিপ্লব ভাই। খুলনা রেস্ট হাউজে লাইভ অডিশনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দেই। দিন রাত এক করে প্র্যাকটিস।

অবশেষে খুলনা। রেস্ট হাউজের প্রাঙ্গন মিউজিশিয়ানে ভরে আছে। নাবালক আমি ভীরু চোখে দেখি এইসব। লিমন ভাই ভরসা দেয়। অডিশনের ওপেনিং পারফরমেন্স আমাদের। সাউন্ড চেক দেই। সাউন্ড চেক দেয়ার সময়েই বিচারকের আসনে শ্রদ্ধেয় পার্থ বড়ুয়া আর শাকিলা জাফরকে দেখতে পাই। তারপর মূল অডিশন দিয়ে যখন আমরা হল থেকে বেড় হই তখনও বুঝতে পারিনাই কি হয়েছে। চারদিক থেকে খুলনার মিউজিশিয়ানরা ঘিরে ধরে। আমাদের পারফর্মেন্সে তারা অবাক। গর্বের সাথে বলছি তারা অবাক। সেখানকার মিউজিশিয়ানরা লিমন ভাইয়ের অটোগ্রাফ নেয়ার জন্যে পিছনে ছুটেছে, খুলনার প্র্যাকটিস প্যাডে আমাদেরকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছে।

ষ্টার সার্চ-২০০৪, খুলনা অডিশন

খুলনা থেকে ফিরে আসার মাস দুই পরে বেনসন হেজেসের ফোন আসে। আমরা সিলেক্টেড। সমগ্র বাংলাদেশ থেকে ৮টি ব্যান্ড এবং ৮ জন একক শিল্পী মিলে সে বছর বেষ্ট-১৬ অনুষ্ঠিত হয় শেরাটন হোটেলের উইন্টার গার্ডেন হলে। আমরা বলতেই পারি বাংলাদেশের ৮টি ব্যান্ডের মধ্যে আমরা ছিলাম। জয়ী হতে পারিনাই, জয়ী হবার জন্যে আমরা অংশগ্রহণও করি নাই। অংশ নিয়েছিলাম আমাদের যাচাই করার জন্যে।

ষ্টার সার্চ-২০০৪, ফাইনাল। হোটেল শেরাটনের উইন্টার গার্ডেন হল।

তখন ফেসবুক নাই, ইউটিউব নাই, বাংলাদেশে ইন্টারনেট সহজলভ্য না। ছিলনা টেলিভিশনের ক্লোজআপ ওয়ান, ডি-রকষ্টার বা এ জাতীয় কোন অনুষ্ঠান। পত্রিকা কাভারেজ আমরা পেলেও তা যথেষ্ট ছিল না। আজকের মতন এইরকম পরিবেশ থাকলে আমরাও হয়তো “হিট” খেতাব প্রাপ্ত কেউ হতাম অথবা না। অন্তত ইউটিউবে আমাদেরকে খুঁজে পাওয়া যেত।

পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু খবর।

পর্ব-১১

হ্যালো ঢাকা!

২০০৪ এর শেষে লিমন ভাই ঢাকায় চলে আসেন। আমি আর কিবোর্ডিষ্ট বাবুও পড়াশোনার সুবাদে ঢাকায়। লিমন ভাই তখন একটা ফার্মে চাকরি করেন। থাকেন মিরপুরের রূপনগড় এলাকায়। আর আমি শ্যাওড়াপাড়া। প্রায় প্রতিদিন বিকেলে আমাদের আড্ডা হয়। লিমন ভাই অফিস থেকে মিউজিকের নানাবিধ বিষয় প্রিন্ট করে আনে আর আমি সেগুলো ফটোকপি করে নিয়ে যাই। ধানমন্ডি এলাকার একটা ব্যান্ডের গানে লিমন ভাই গিটার বাজিয়ে দেয়। তার গিটারের জাদুতে সেই ব্যান্ড তাদের সাথে বাজানোর নিমন্ত্রণ জানান। কিন্তু লিমন ভাইয়ের মন ক্লেয়ারভয়েন্সের কাছে পড়ে আছে।

লিমন ভাই আর আমি দুজন মিলে ঢাকায় ক্লেয়ারভয়েন্সের যাত্রা শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। বেস গিটারে মহিউদ্দিন বাবু, ড্রামসে পাভেল। শুরু হয় ঢাকা যাত্রা। মগবাজার, ফার্মগেট, হাতিরপুল, মিরপুর এলাকার প্র্যাকটিস প্যাডে আমরা নিয়মিত। “ব্যান্ড মেলা” নামে একটি মিক্সড এ্যালবামে “রাতের আঁধার” গানটাও রিলিজ হয়েছে। পরিচিত অপরিচিত মানুষের বাহবা পাচ্ছি।   

লিমন ভাই মিরপুর-১০ নম্বরে বাসা নেয়। তার বাসা, চায়ের দোকান, শাহ আলী প্লাজার পাশের রেষ্টুরেন্ট আমাদের আড্ডাস্থল। নিজেদের গান নিয়ে গবেষণা।

মিক্সড ব্যান্ড এ্যালবাম “ব্যান্ড মেলা” এ প্রকাশিত ক্লেয়ারভয়েন্সের গান “রাতের আঁধার”।

পর্ব-১২

বারবার ফিরে আসি কুমার নদের তীরে

ঢাকা লিমন ভাইকে বেঁধে রাখতে পারেনি। ফরিদপুরে তিনি ফিরে আসেন। একা, একেলা। আমি পড়াশোনার জন্যে ঢাকা ছাড়তে পারিনাই। লিমন ভাইয়ের সাথে ছায়ার মত লেগে থাকা আমি গোলকধাঁধায় পড়ে থাকি।

ফরিদপুর ফিরে এসে লিমন ভাই দমে জাননি। মুদাব্বির, মুবদিউ-কে নিয়ে শুরু করেন তার স্বপ্নের ক্লেয়ারভয়েন্স। কোর্ট চত্বরে মুদাব্বিরের দোকানে দিন শেষে প্র্যাকটিস চলে। পরবর্তীতে ঈশান স্কুলের একটি রুমে প্র্যাকটিস প্যাড করা হয়।

মুদাব্বির ও মুবদিউ ব্যান্ড ছেড়ে নতুন ব্যান্ড গঠন করে। ক্লেয়ারভয়েন্সের লাইন-আপে পরিবর্তন আসে। গীতিকার ও গিটারিষ্ট মোস্তাফিজ বিপ্লব ভাই যোগ দেন, উজ্জ্বল এবং আরো অনেকে। ব্যান্ডের নাম পরিবর্তন হয়ে “ব্যালেন্স” হয় এবং কিছুকাল পরে আবার ক্লেয়ারভয়েন্স নামে ফিরে আসে। সময়ের প্রয়োজনে ব্যান্ডের সদস্যরা চলে যায়। থাকে শুধু লিমন ভাই আর ক্লেয়ারভয়েন্স।

পর্ব-১৩

একজন সহযাত্রী

লিমন ভাই এবং ক্লেয়ারভয়েন্স অসম্পূর্ণ তিনি ছাড়া। হাসি ভাবি। লিমন ভাইয়ের সহধর্মিনী।

ভালোবেসে বিয়ে করে লিমন ভাই ও ভাবী লক্ষীপুরে ভাড়া বাসায় থাকেন (যেখানে “ক্লেয়ারভয়েন্স” এর জন্ম)। লিমন ভাইয়ের গিটার স্কুল “হেজ স্প্যারো” এর সবাই সেই দুই কামড়ার বাসায় যখন তখন যাই। হাসি ভাবী আমাদের আদর করে বসায়। চা খাওয়ায়। দুপুরের খাবার, সন্ধ্যার নাস্তা সব। মনযোগ দিয়ে আমাদের বাজনা শোনেন। উৎসাহ দেন। পড়াশোনার খোঁজ নেন। ভাবী আমাদের বড় বোনের মতন যত্ন করে রাখেন। 

কবি জসিমউদ্দীন হলের অডিটরিয়ামে “উইন্টার কনসার্ট”, “কনসার্ট ফর রানা”, “বন্যার্তদের সহযোগীতা”, “রক উইথ ক্লেয়ারভয়েন্স” সহ প্রায় ১০টি কনসার্ট আমরা করেছি। সবগুলো টিকিট শো এবং হাউজ ফুল। হাসি ভাবী প্রতিটি কনসার্টে চা, গরম পানি, স্ন্যাকস নিয়ে যেতেন। বলে রাখা ভালো যে, আমরা কোনদিন তাকে এইসব নিয়ে যেতে বলি নাই। তিনি নিজ দায়িত্বে এসব করতেন। এমনকি এসবের জন্য যে খরচ হতো তাও তিনি তার জমানো টাকা থেকে করতেন। কোনদিনিই টাকা চান নি। শো’র মধ্য বিরতিতে তিনি হয়ে উঠতেন আমাদের ভরসা। গ্রীণ রুমে এসে আমাদের ঘাম মুছিয়ে দিয়ে জোড় করে খাইয়ে দিতেন। শুধু ফরিদপুর না, লিমন ভাই এবং ক্লেয়ারভয়েন্সের ঢাকা শহরের জীবনেও তিনি ছিলেন অভিন্ন।  

লিমন ভাইয়ের গিটার বাজানো, গান লেখা, সুর ও কম্পোজিশনে হাসি ভাবীর প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। মনে প্রাণে তিনি চাইতেন লিমন ভাই যেন মিউজিক নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাক।

২০১৬/১৭ সালের দিকে ঢাকা থেকে ফরিদপুরে গিয়ে দেখা ক্লেয়ারভয়েন্সের কনসার্টেও সেই এক এবং অভিন্ন হাসি ভাবীকে দেখেছি।

হাসি ভাবী। একজন সহযাত্রী।  

 

পর্ব-১৪

লিমন ভাই, আমি ও আমরা

লিমন ভাইয়ের কাছে গিটার শেখার আগে আমি পলাশ ভাইয়ের কাছে যাই। ব্যাপ্টিস্ট চার্চ মিশন স্কুলের ভিতরে পলাশ ভাইয়ের বাসায় একদিন এবং একমাত্র ক্লাসে আমি “এ মাইনর” কর্ড শিখি। আর শুনি তার গলায় অঞ্জন দত্তের গান “তুমি না থাকলে”। পলাশ ভাই আমাকে লিমন ভাইয়ের কাছে নিয়ে আসে। ফরিদপুর ষ্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আমার প্রথম গিটার ক্লাস। বিশাল গ্যালারি সম্পূর্ণ ফাঁকা। লিমন ভাই গিটার বাজাচ্ছে। প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসছে সুর। প্রথম ক্লাসের সেই মোহময় পরিবেশ এখনও আমাকে ভাবায়।

আমি গান লিখতাম, সুর করার চেষ্টা করতাম। লিমন ভাই আমাকে উৎসাহ দিত এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছেন। লিমন ভাই শুধু আমার প্রথম গিটার শিক্ষক নন। তিনি আমার ভাই, তিনি বটবৃক্ষ যার ছায়ায় আমি এবং আমার মত অনেকের মিউজিকের স্বপ্ন বেড়ে উঠেছে একটু একটু করে। তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

আমার লেখা আর লিমন ভাইয়ের সুর করা প্রায় ৪/৫টি গান, লিমন ভাই ও আমার যৌথভাবে লেখা এবং লিমন ভাইয়ের সুরে দুইটি গান, আমার লেখা সুরে একটি গান সহ আগের ২/১টি গান তখন প্র্যাকটিসে বা কনসার্টে নিয়মিত গাওয়া হচ্ছে। রথখোলায় অবস্থিত “অনির্বাণ শিল্প গোষ্টী” এর কার্যালয়ে প্রতি শুক্রবার বা যখন প্রয়োজন আমরা প্র্যাকটিস করি। অনির্বাণের ইন্ডিয়ান বাপ্পী ড্রামস (প্রায় মৃত), বয়সের ভারে নুয্য যশোর থেকে বানিয়ে আনা ৫টি ইনপুটের এ্যাম্প, নিজেদের ভাঙাচোড়া গিটার, খেলনা কিবোর্ড আর চায়না মাইক্রোফোন এই সম্বল। পুরোন ভাঙা বাড়িটাতে কোন বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিলনা। বাড়িটার একটি ঘরে রিক্সাচলক দম্পতি বাস করতেন। তারা কিভাবে যেন আমাদের বিদ্যুতের লাইন ম্যানেজ করে দিতেন। অনির্বাণের তৎকালীণ কর্ণধার কল্লোল ভাই এবং ভাবী আমাদের প্রচন্ড আদর করতেন, ভালোবাসতেন। মাগরিব নামাজের বিরতির পর আবার প্র্যাকটিস শুরু হতো, এলাকার শিশু থেকে বয়স্করা আড়ালে দাঁড়িয়ে গান শুনতো। এইসব সহযোগীতা ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ছাড়া আর কিই বা আছে।   

পর্ব-১৫

ভেবে দেখেছ কি?

অতীত এবং বর্তমানের ফারাক বিস্তর। ১৯৯৪/৯৫ সালে ফেসবুক, ইউটিউব, সিডি, ডিভিডি, ইন্সট্রাকশন ভিডিও, গিটার বুক ছিলনা। ঢাকা শহরে গিয়ে গিটার শিখতে যাওয়াটা ছিল রীতিমত অসম্ভব। একমাত্র সম্বল ছিল ফিতা ক্যাসেট, ভুলে ভরা কিছু বাংলা বই। সেই অসম্ভব সময়ে লিমন ভাই ও তার সহযোদ্ধারা ফরিদপুরের মতন মফস্বল শহরে রক বা হার্ডরক মিউজিকের রেভ্যুলেশন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালে ফরিদপুরকে নিয়ে গিয়েছিলেন সমগ্র বাংলাদেশের সেরা ৮টি ব্যান্ডের ব্যাটেলের আসরে। তৎকালীন সময়ে অনেকে লিমন ভাইকে দেখে গিটার বাজাতে উৎসাহী হয়েছিলেন। ব্যান্ড গঠন করার সাহস করেছিলেন।

আজকে ইন্টারনেটে, ইউটিউবে “How to play…..” সার্চ দিলেই আপনারা সব কিছু হাতের মুঠোয় পেয়ে যান। প্রায় সব গানের টেবুলেচার, মোবাইলে কতশত এ্যাপ্স। অথচ আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে সময়টা এরকম ছিল কি?। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে ফিতা ক্যাসেট থেকে গান তোলা, গিটারের সলো তোলা, বেস গিটার, কিবোর্ড, ড্রামস কি বেজেছে তা জানার জন্যে দিনরাত এক করেছেন লিমন ভাই। ১৫/২০ বছর আগে এই শহরে ভালো সাউন্ড কোম্পানি ছিলনা। যশোর বা খুলনা থেকে সাউন্ড ভাড়া আনতে হতো যা ঢাকার তুলনায় নগন্য। সেই নগন্য সাউন্ড দিয়ে ফরিদপুরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কনসার্ট করেছেন তিনি ও তার ব্যান্ড। এখন তো ফেসবুকে বাংলাদেশের প্রায় সকল জনপ্রিয় ও উঁচু মাপের সংগীত শিল্পীদের সহজেই পাওয়া যায়। চাইলেই ইনবক্সে ম্যাসেজ পাঠানো যায়, দেখা করাও যায়। কিন্তু আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে কখনোই তা সম্ভব ছিলনা। আর এই অসম্ভাব্য সময়ের গিটার বাদক চৌধুরী আবুল কালাম লিমন।  

 

চৌধুরী আবুল কালাম লিমন। ফরিদপুরের রক/হার্ডরক মিউজিকের পথিকৃত, গিটারিষ্ট ও ভোকাল।

 

 

পর্ব-১৬

কত কি করার আছে বাকি

ফরিদপুরে রক বা হার্ডরক ধারার ব্যান্ডের অপূর্ণতা সবসময়ই ছিল এখনও আছে। কিন্তু এই না থাকাটা পূরণ করা অত্যন্ত জরুরী।

ক্লেয়ারভয়েন্স এর পরপরই কিছু ব্যান্ড গঠন হয়েছিল। তবে সবাই সক্রিয় থাকতে পারেনি। কয়েকমাস/বছর পর ব্যান্ড ভেঙ্গে যায়। তবে দীর্ঘদিন সক্রিয় ব্যান্ডের মধ্যে ভোকাল ও গিটারিষ্ট বাবু, ড্রামার সম্রাট, বেজিষ্ট বাদল (প্রয়াত) এর হাতে গড়া “রেইন ড্রপ” অন্যতম। তারাও ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট করেছিল। তথ্য মতে রেইন ড্রপে পরবর্তীতে গিটারিষ্ট হিসেবে যোগ দেয় জীবন এবং তারও পরে রকি। অনেক পরে এসে রকি, জুনেট, শহীদ, অপু আর হাসান মিলে গঠন করেছিলেন “আর্সা” নামে একটি ব্যান্ড। দীর্ঘদিন কাজ করে বর্তমানে তারা নিস্ক্রিয় রয়েছে।

ফরিদপুরে বর্তমানে একমাত্র সক্রিয় ব্যান্ড “অংশ”। ফরিদপুর ও আশেপাশে কসার্ট করছে তারা। মুবদিউ, মুদাব্বির, সুদিপ্ত, তন্ময় আর বাঁধন অংশের অংশ। নিজেদের গান নিয়েও কাজ করছে “অংশ”।

এছাড়াও ল্যাম্পপোষ্ট সহ আরো কিছু ব্যান্ড ছিল যারা এখন আর সক্রিয়ভাবে কাজ করছে না। তবে আশার কথা ২০২০ সালের শুরুতে কয়েকটি ব্যান্ড গঠন হয়েছে যার মধ্যে “ব্রোকেন”, “পার্পেল ব্লুজ” অন্যতম।

হয়তো আরো অনেক ব্যান্ড রয়েছে যা আমার অজানা অথবা তথ্য সংগ্রহে ঘাটতি রয়েছে। যারা সক্রিয় অথচ নাম উল্লেখ করতে পারি নাই তারা নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।

পর্ব-১৭

শেষ বলে কিছু নেই

লিমন ভাইয়ের হাত ধরে ফরিদপুরের রক/হার্ডরক ব্যান্ড সংগীত মুভমেন্ট ও তার সাথে জড়িত সকল সিনিয়র মিউজিশিয়ান স্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে পারেন না।

দীর্ঘ লেখাটা হয়তো লিমন ভাই এবং ফরিদপুরের ব্যান্ড মিউজিকের ইতিহাস হিসেবে প্রথম। তবে আরো অনেকে আসবে, লিখবে, গবেষণা করবে, সমৃদ্ধ হবে ফরিদপুরের সংষ্কৃতি। 

২৫ বছর আগের ফরিদপুর এখন আর নেই। দেশের অন্যতম আধুনিক শহর এটি। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। অতীতকে সম্মান দিয়ে নতুনরা এগিয়ে যাবে বহুদূর।

তথ্য প্রদান করে সহযোগীতার জন্য সশ্রদ্ধ নিবেদন:

লিমন ভাই, তার সংগীত, ফরিদপুরের ব্যান্ড মিউজিক সম্পর্কে অতীতের তথ্যাদি দিয়ে সহযোগীতার জন্য পলাশ ভাই, মোস্তাফিজ বিপ্লব ভাই এবং ফরিদপুরের বর্তমান ব্যান্ড মিউজিকের অবস্থা ও সক্রিয় ব্যান্ডের তথ্য সরবরাহের জন্য মুদাব্বির, মুবদিউ, সুদীপ্ত ও তন্ময়-কে ধন্যবাদ। এই লেখাটির জন্য অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ দেয়ার জন্য ফরিদপুরের অন্যতম ফটোগ্রাফার, নাট্য নির্মাতা, সংগঠক এবং আমার অত্যন্ত কাছের ছোট ভাই এমাদুল হাসান-কে জানাই ভালোবাসা।

ফরিদপুরের রক মিউজক এগিয়ে যাক বহুদূর…  

জয় রক \\m//

খোলা চিঠি

প্রিয় লিমন ভাই,

প্রযত্নে, তানিন

মনে পড়ে? সেই লক্ষীপুরের ভাড়া বাসা, ঘুমঘুম দুপুরে কয়েকজন কিশোর গিটার বাদক, ক্যাসেট প্লেয়ার, আনকোরা নতুন গানে সুর মেখে রাঙিয়ে তোলা সেইসব দিন? গিটার, গান, ক্লেয়ারভয়েন্স আপনার সমস্ত সত্তা জুড়ে। মাঝে মাঝে এসব ভেবে নষ্টালজিক হয়ে যাই, কান্না পায় খুব, কেমন যেন হাহাকার জেগে ওঠে, এই জীবন অর্থহীন মনে হয়, মনে হয় সব ছেড়ে ছুঁড়ে ফিরে যাই। কিন্তু নিদারুণ বাস্তব বেহায়ার মতন পথ রোধ করে, বাঁধা দেয়। 

আচ্ছা, আপনার কালো গিটারটার খবর কি? উন্টার কনসার্ট, বেনসন এন্ড হেজেস ষ্টার সার্চ-২০০৪, ঢাকার ব্যান্ড জীবনে গিটারটা কি দারুণ সঙ্গ দিয়েছে তাই না! লাল রঙের কর্গের গিটার প্রসেসর যেটা থেকে মেটাল টোন বের করার জন্যে আমরা দিনের পর দিন চেষ্টা করতাম। কেমন আছে তারা?

জানেন? ফরিদপুর বা ঢাকায় আপনি আমাকে ছাড়া অন্যকোন মিউজিশিয়ানের সাথে একা আড্ডা দিলে খুব খারাপ লাগতো, আমার সহ্য হতো না। যেদিন আপনি ঢাকা থেকে স্থায়ীভাবে ফরিদপুরে চলে গেলেন সেদিন আমার দম বন্ধ লাগছিল। এই শহর এতো ফাঁকা আর কখনোই লাগেনি। 

কিছুদিন আগে অফিসের কাজে গিয়েছিলাম ঢাকার কেরাণীগঞ্জে। অনেক পুরোন একটা বাড়ির সামনে এসে থমকে দাঁড়াই। রথখোলার সেই ভাঙা বাড়িটা, দেয়াল বেয়ে উঠে গেছে বট গাছ, সামনে দাঁড়িয়ে আছে ক্লেয়ারভয়েন্সের অতীত মানুষগুলো। আমার পা চলে না। আমি কি ডে-জা-ভ্যু এর চক্করে পরে গেছি!  

যে কথাগুলো আপনাকে কখনই বলা হয় নাই আজ খুব বলতে ইচ্ছে করছে। অথচ কথা খুঁজে পাচ্ছি না। এমন হয় কেন? কথাগুলা খেই হারিয়ে ফেলে, ভাবনারা কোথায় যেন হারিয়ে যায়, চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে, কেন? 

আপনি যা করেছেন তার প্রতিদান কেউ দিতে পারবে না কোনদিন। ফরিদপুরের ব্যান্ড মিউজিক তথা সামগ্রিক সংগীতে আপনার ত্যাগ, শ্রম ও অবদানের জন্য সকলের পক্ষ থেকে জানাই অভিবাদন, সালাম।

লিমন ভাই। আপনাকে ভালোবাসি। 

ইতি,

তানিন

প্রতিবেদনটি লিখেছেন তানিন 

0

আজ ফরিদপুর সিটি টিমের মডারেটর জাকারিয়া হিরা রক্ত প্রদান করলেন অসহায় বৃদ্ধকে

ফরিদপুর সিটি পেইজ এবং ফরিদপুর লাইভ গ্রুপের  মডারেটর জাকারিয়া হিরা আজ ৮ম বার রক্ত প্রদান করেছেন তার জন্য দোয়া এবং ভালোবাসা সেই সাথে দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক বয়স্ক বৃদ্ধলোক আজ প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ হাসপাতালে ভর্তী ছিলেন তার পরিবারের কেউ নেই বৃদ্ধ বয়সে তিনি একা। আজ আমাদের গ্রুপ Faridpur Live এ গ্রুপের বন্ধু S K RIAD একজন অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রক্তের প্রয়োজনে একটি পোস্ট দেন আমাদের মডারেটর পোস্ট দেখেই রক্ত দিতে আগ্রহী হন এবং নিজে গিয়ে রক্ত প্রদান করেন সেই সাথে তার জন্য ফরিদপুর সিটি পেইজের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কিছু ঔষধ কিনে দেয়া হয়।

তার সাথে কথা বলে জানা যায় তার বাড়ি মাদারিপুর জেলার শিবচরে তিনি ঢাকায় ছোট একটা ব্যবসা করতেন,করোনার কারণে তিনি মাদারিপুর চলে আসেন। তিনি অসুস্থ হবার পরে এতোদিন তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ তলা থেকে একাই নিচে নেমেছেন এবং নিজের জন্য ঔষধ ক্রয় করেছেন তিনি খুবই অসুস্থ ছিলেন আজ রক্ত দিলে আল্লাহর রহমতে দ্রুত আরোগ্যলাভ করবেন বলে আশাকরি।

0

রাজেন্দ্র কলেজের প্রাক্তন শীক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান ঝান্ডার গবেষণা ও স্মৃতিচারণ

 দক্ষিণ বঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঐতিহ্যবাহী কলেজ ফরিদপুর সরকারী রাজেন্দ্র কলেজে ১৯৭৬-৭৭ শিক্ষা বর্ষে এইচএসসি একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্র ছিলাম। সবেমাত্র স্কুল পেরিয়ে কলেজে পা দিয়েছি, সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশ। রাজেন্দ্র কলেজে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হলো। ঐ সময় সহপাঠি বন্ধুদের মধ্যে যথেষ্ট আন্তরিকতা ছিল। সাইন্স, আর্টস, কমার্স-এর শিক্ষার্থী সকলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব ছিল। আমার একটি রাশিয়ান বাইসাইকেল ছিল, ওটা নিয়ে কলেজে যেতাম। রোজ পোশাক পরিবর্তন করতাম। আমরা ৪ ভাই, ৩ বোন ওআমার কন্যা মেহরুবা এশা রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী ছিলাম। পুত্র তাশফিকুর রহমান মেহরাব রাজেন্দ্র কলেজে অধ্যয়নরত।মেঝ ভাই আতিকুর রহমান ছিলেন-তৎকালীন ষাট এর দশকে ছাত্র সংসদের নাট্য সম্পাদক, সহপাঠি ছিলেন মাজেদুর রহমান ভিপি, শরীফ মোঃ আফজাল হোসেন ভিপি, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, গবেষক, অধ্যাপক আনম আব্দুস সোবহান, বদিউজ্জামান চৌধুরী ভাদু-প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, ফরিদপুর প্রেসক্লাব, তাবিবুর রশিদ চৌধুরী তাবু (শিল্পপতি)।

আরেক ভাইসিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক- তার সহপাঠি ছিলেন- জহুরুলইসলাম জহুর, আকতার হোসেন খান সাবেক সচিব, সরোয়ার উদ্দীন সাবেক অতিরিক্ত সচিব, বাটা সু কোম্পানি কান্ট্রি ম্যানেজার কে এম শহিদুল আলম খোকন, মোহাম্মদ আলী আখন্দ সাবেক ডিসি, অধ্যাপক এম এ সামাদ তৎকালিন সংসদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক ছিলেন- বর্তমান সম্পাদক ফরিদপুর মুসলিম মিশন, লোকমান হোসেন মৃধা- চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ ফরিদপুর। সিদ্দিকুর রহমান পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহসিন হল শাখার ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। আরেক ভাই এস্রাজুর রহমান ঠান্ডু- এর সহপাঠিদের মধ্যে ছিলেন তৎকালিন ছাত্র সংসদের ভিপি শাহ্ মোঃ আবু জাফর, কবিরুল ইসলাম মাও, নাসির উদ্দীন আহমেদ মুসা ও মোহাম্মদ আলী বুলবুল। ঠান্ডু পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয় জোহা হল শাখার ছাত্রলীগের জিএস ছিলেন। মেঝ বোন শাহ্তাজ বেগম মায়া- এর সহপাঠি ছিলেন, এ্যামিলি দি, ছবি আপা, বড় খায়ের দিয়ার ওলি ভাইয়ের বোন শাহিদা আপা, মুস্তারিআপা, মরিয়ম আপা।মাহ্বুবা বেগম মুক্তা- এর সহপাঠি ছিলেন- গোপালগঞ্জের রেঞ্জু আপা, মঞ্জু আপা, জাহিদ। মুক্তা পরবর্তীতে ঢাকা ইডেন কলেজে অধ্যয়ন করেন।

আরেক বোন হাবিবা বেগম পান্না- তার সহপাঠি ছিল তৎকালিন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ এজহারুল হক এর মেয়ে ডলি আপা, বোনের বান্ধবী সে সুবাদে তাদের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। ওর আরেক সহপাঠি বান্ধবিকমলাপুরের ঐতিহাসিক বাড়িময়েজ মঞ্জিলের নাভিদ আপা তিনি ভাল টেবিল টেনিস খেলতেন। মিলি আপা ঝিলটুলী- বিটিভি’র সংবাদ পাঠক সালেহ্ আকরাম এর বোন, মিনি আপা ঝিলটুলি (DACO-এর মেয়ে), সুফিয়া আপা লক্ষীপুর-মুক্তিযোদ্ধা হামিদুলের বোন, ফুলু আপা আলীপুর, লিলি আপা (ফয়েজ দারোগার মেয়ে), পান্না পরবর্তীতে ঢাকায় মাস্টার্স এবং এম.এড ডিগ্রি অর্জন করেন।আমার সহপাঠি বন্ধুদের মধ্যে ছিল-রংপুরের লেলিন চৌধুরী, মোঃ শামসুল হকলক্ষ্মীপুর-ডিজিএম সোনালী ব্যাংক, জিন্নাতুর রহমান ভিন্টু লক্ষ্মীপুর, রায়হান টুটুল লক্ষীপুর ব্যাংকার,শরফুদ্দিন লাবু ওয়ারলেস পাড়া- পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর বড় পদে কর্মরত ছিলেন, দিপক দাস গুপ্ত ঝিলটুলী ব্যাংকার, লিয়াকত আলী আখন্দ বাকা ঝিলটুলি,হাজী মোসলেম মুসা ধুলদী, ডিসি অফিস মাগুরা, হাজী মোঃ আইয়ুব খান ব্যবসায়ী ঝিলটুলী,কাজী মামুন ঝিলটুলী ব্যবসায়ী সমাজসেবক, এ্যাড: বশির আহ্মেদ চৌধুরী গোয়ালচামট, এ্যাড: লুৎফর রহমান পিলু পশ্চিম খাবাসপুর, জোনায়েদ বাবু চরকমলাপুর, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুলবারী জনু ঝিলটুলী, ইঞ্জিনিয়ারমারজান টেপাখোলা, ইঞ্জিনিয়ার কাওসারচরকমলাপুর, ডা: এস.এম. খবীরুল ইসলাম টেপাখোলা- অধ্যক্ষ ফমেক,ডা: আমান বাবলা পূর্ব খাবাসপুর- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইউরোলজি বিভাগ প্রধান, মতিয়ার রহমান অধ্যক্ষ বঙ্গবন্ধু কলেজ গোপালগঞ্জ, আলহাজ্ব এম.এ. আউয়াল বাবুল পূর্বখাবাসপুর-ম্যানেজিং ডিরেক্টর ন্যাশনাল টি কোম্পানি ঢাকা, মোঃ আঃ মান্নান এডিশনাল সেক্রেটারী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ পুলিশ বিভাগের এসি চকবাজার জোন ঢাকা, মুকুল টেকেরহাট (আমেরিকা), মোহাম্মদ আলী ঝিলটুলী (আমেরিকা) প্রমুখ।আমাদের শ্রেণিতে কোন মেয়ে শিক্ষার্থী ছিলনা। সাইন্সের ৪ জন ছাত্রী বাংলা ও ইংরেজী ক্লাস করত আমাদের সঙ্গে একত্রে।

সে সময়ের ছাত্র নেতৃবৃন্দের মাঝে বক্তব্য রাখতেন কলেজের ঐতিহাসিক আমতলায় তৎকালীন ছাত্রছাত্রী সংসদের এমএম শাহ্রিয়ার রুমি ভিপি, মোঃ হায়দার আলী জিএস, সামসুদ্দিন মোল্লা ভিপি, মো: ইকবাল হোসেন খান ভিপি, মনিরুল হাসান মিঠু ভিপি, মিজানুল ইসলাম মিজু জিএস, মো: ফারুক হোসেন, কাজী গোলাম মোক্তাদির রিপন, লিয়াকত হোসেন, সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, এ্যাড: আকন্দ মো: নজরুল, মোক্তার রহমান শরীফ, কাজী নজরুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মনির, আলতাফ হোসেন, মজিবর রহমান, আযাদ আবুল কালাম, সাইদুর রহিম বিটুল, নুরুল হাসান আবিদ।অন্যান্যদের মধ্যে আব্দুর রহমান, শহিদুল ইসলাম নিরু, একে আজাদ কর্ণধার হামিম গ্রুপ, আবু দায়েন মোঃ কাজল প্রমুখ। সিনিয়রদের মধ্যে- ছাত্র ও যুব নেতা জাহিদুর রহমান জাহিদ, সাঈদ খাঁন, সমীর বোস, বিপুল ঘোষ, কমরেড আতিয়ার প্রমুখ।তখন রাজনীতি ছিল কলেজ কেন্দ্রিক ছাত্রদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ছাত্ররা ছিলো ন্যায়-নিষ্ঠাবান, আদর্শের প্রতীক রাজপথের যে কোন আন্দোলনের সৈনিক।
কলেজে “রোভার স্কাউট”-এ যোগ দেই। রোভার নেতা আবু হোসেন স্যারের নেতৃত্বে ঢাকার বাহাদুরপুর রোভার পল্লীতে ২য় জাতীয় রোভার মুট ক্যাম্পে অংশ গ্রহন করি। কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এবং বিভিন্ন সময়ে জাতীয় নেতৃবৃন্দ এ কলেজে বক্তৃতা করেছেন- এদের মধ্যে ঃ কেএম ওবায়দুর রহমান, আসম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, বাহালুল মজনুন চুন্নু, শফিউল আলম প্রধান প্রমুখ। সকল ছাত্র-ছাত্রী এবং নেতৃবৃন্দ জড়ো হতো মুল ভবনের দক্ষিণে আম গাছের নিচে আমতলায়। এর পাশেই ছিল রাখাল চন্দ্র ঘোষ এর- দাদার ক্যান্টিন নামে পরিচিত ক্যান্টিন। এখানে সিঙ্গারা, পুড়ি, সন্দেশ, চা পাওয়া যেত দাম ছিল ৫০ পয়সা। ক্লাসের অবসরে দাদার ক্যান্টিনে চায়ের আড্ডা কাপে ধোঁয়া সহ বিভিন্ন প্রকার আলাপ আলোচনা, রাজনৈতিক কথাবার্তা এবং চুটিয়ে আড্ডা দেয়া। ক্লাসের অফ-পিরিয়ডে কলেজ লাইব্রেরীতে ক্লাসের বই পড়তাম। সংগীতের প্রতি একটু নেশার কারণে মাঝে মধ্যে মনের আনন্দে ক্লাসরুমে/দাদার ক্যান্টিনে বসে লাকী আখন্দ এবং কিশোর কুমার এর গান গাইতাম। সে সময়ে কলেজের পুরাতন মূল ভবনের নিচে শিক্ষার্থীদের ক্লাস হতো। উপরতলায় অফিস, অধ্যক্ষের রুম, মেয়েদের কমন রুম-এর ভেতরে ইনডোর গেমস হতো, বিশেষ আকর্ষণ ছিল টেবিল টেনিস খেলা। এর পাশে বারান্দা সংলগ্ন রুমে ছিল লাইব্রেরী। মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করে বর্তমান শহীদ মিনারের পাশে লম্বা ঘর ছেলেদের কমন রুম ছিল এখানে ইনডোর গেমস খেলা হতো।৯/১১ নং রুম ছিল গ্যালারি বড় রুম এখানে ক্লাস হতো। ছাত্রী হোস্টেল, অধ্যক্ষের বাস ভবন ক্যাম্পাসে ছিল না। ছাত্রাবাস ভাঙ্গা কনডেম বিল্ডিং টিনের চালা এবং জীর্ণশীর্ন একটি পুরাতন ভবন ছিল। ছোট সাধারণ শহীদ মিনার ছিল। টিচার্স ক্লাব ছিল না, ছাত্র-ছাত্রী সংসদের রুকসু ভবন ছিলনা,মসজিদ-মন্দির ছিল না, প্রশাসনিক ভবন ছিলনা, বায়তুল আমান ক্যাম্পাস ছিল না। কলেজ হোস্টেলের মাঠ পেরোলেই দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ছিল- এখনও আছে বিশিষ্ট সমাজ সেবক, সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার নুরুল হোসেন নুরু মিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাড়ি হাসিনা মঞ্জিল। এই বাড়ির মেয়ে ওয়াহিদা ঐ সময়ে সু-মধুর রবীন্দ্র সঙ্গীত চর্চা করতেন। এ বাড়ীর সামনে তরুণ-যুবকরা তার গান শোনার জন্য ভিড় জমাতো। তাদের মধ্যে আমিও একজন।

কলেজের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দঃ- সে সময়ে কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন- গোলাম রসুল স্যার, পরবর্তীতে সিদ্দিকুর রহমান স্যার। বাংলা পড়াতেন- জিএম হালিম স্যার, শেখ সমশের আলী স্যার, আব্দুল মজিদ তালুকদার স্যার, আনিসুর রহমান স্যার, নূর জাহান ম্যাডাম। ইংরেজী পড়াতেন- নুরুল হক স্যার বিভাগীয় প্রধান, সাত্তার স্যার, হরিদাস সাহা স্যার, ফরহাদ স্যার। অর্থনীতি পড়াতেন- অপূর্ব কৃষ্ণ ঘোষ স্যার বিভাগীয় প্রধান, এএসএফ ফেরদৌস স্যার, হাবিবুল্লাহ বাহার স্যার, আফতাবউদ্দীন স্যার। সমাজবিজ্ঞান পড়াতেন- মোঃ নজরুল ইসলাম স্যার এবং আরেক জন ম্যাডাম। সমাজকল্যাণ পড়াতেন- খন্দকার নুরুল ইসলাম স্যার, আলতাফ হোসেন স্যার।যুক্তিবিদ্যা/দর্শণ পড়াতেন- হাশেম স্যার। ভূগোল পড়াতেন- মৈমুর রহমান স্যার, মোঃ আবু হোসেন স্যার, মমতাজ ম্যাডাম, ডেমনেষ্ট্রেটর ছিলেন বিমল চন্দ্র দাস, ম্যাসেঞ্জার শংকর। একাউন্টিং বিভাগের প্রধান ছিলেন মিঞা লুৎফার রহমান স্যার, জিতেন্দ্র দেবনাথ স্যার।

পদার্থ বিজ্ঞানের- এহিয়া ইসলাম স্যার বিভাগীয় প্রধান, খায়রুজ্জামান স্যার, গোলাম সোবহানি রানা স্যার, আমজাদ হোসেন স্যার, ডেমনেষ্ট্রেটর ছিলেন মোঃ ইউনুছ মিয়া।রসায়ন বিভাগে ছিলেন- তালেব আলী স্যার, এএন এম ওয়াহিদুজ্জামান স্যার, আমির উদ্দীন স্যার ও ফখরুজ্জামান স্যার।গণিত বিভাগে ছিলেন- অনিল কৃষ্ণ ঘোষ স্যার, সুভাষ চন্দ্র ঘোষ স্যার, শাহাদাৎ হোসেন স্যার। সফিউজ্জামান স্যার উদ্ভিদবিদ্যা, নূর জাহান ম্যাডাম প্রাণীবিদ্যা (এরা দু’জন স্বামী-স্ত্রী ছিলেন) নূর জাহান আপাকে ছাত্ররা নায়িকা ববিতা ম্যাডাম বলতেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াতেন- হেদায়েত কবির স্যার, মঈনউদ্দীন স্যার, হান্নান স্যার, ইসলামের ইতিহাস বিভাগে ছিলেন- এ.এম. মুজিবুর রহমান, সাধারণ ইতিহাস বিভাগে ছিলেন- আবুল কালাম আজাদ ।সে সময়ে প্রধান সহকারী ছিলেন- মোজাফ্ফর হোসেন, ক্যাশিয়ার ছিলেন- আব্দুর রশিদ সেক,একাউন্টেন্ট ছিলেন- আওসাদ খান আসাদ, অফিস সহকারী- মফিজ উদ্দিন, মীর আব্দুর রব, শহিদুর রহমান, লাইব্রেরীয়ান ছিলেন- মকদুম হোসেন, আবু সাঈদ খান। দবিরুদ্দিন পিওন/ল্যাবরেটরী সহকারী, আব্দুস সালাম ব্যাপারী পিওন, নুরুদ্দীন খান পিওন, নাইট গার্ড আলতাফ হোসেন ও আব্দুল করিম সেক। উল্লেখ থাকে যে, পদার্থ বিজ্ঞানের গোলাম সোবহানী রানা স্যার অনুসন্ধানী ক্লাব করেছিলেন। গণিতের সাহাদাৎ হোসেন স্যার ছিলেন খেলাঘর সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক। এই শিক্ষকদ্বয় ঐ সময় রাজেন্দ্র কলেজে বিজ্ঞান মেলা চালু করেছিলেন।রাষ্ট্র বিজ্ঞানের মঈনদ্দিন স্যার ও হান্নান স্যার দুজনে ঐ সময় আমাদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। হান্নান স্যার পরবর্তীতে ফরিদপুর ঝিলটুলী নিবাসী জনৈক দারোগা সাহেবের মেয়ে মঞ্জু আপাকে বিয়ে করেন, তিনি বিশিষ্ট সংস্কৃতি ও নাট্য ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এর খালাতো ভাই।১৯৭৯-৮০ শিক্ষাবর্ষে আমি বিএ (পাস) শ্রেণির ছাত্র। ছাত্র-ছাত্রী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা, মিছিল মিটিং, দু গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এক পর্যায়ে মারামারি- আমরা কলেজে শক্ত অবস্থান নিলাম অপর পক্ষ দৌড়ে পালালো। যাহোক, সেসময়ে কলেজে পড়ালেখা হতো, শিক্ষার্থীরা মন দিয়ে পড়াশুনা করত, শিক্ষকদের ছাত্ররা যথেষ্ট ভক্তি শ্রদ্ধা করত। সেই দিনগুলি আর কখনও ফিরে আসবে না। সেই শিক্ষক এবং সহপাঠিদের আর কলেজে পাবো না এটাই বাস্তবতা। রাজেন্দ্র কলেজে পড়তে পারায় নিজেকে ধন্য এবং গর্ববোধ করি। অনেকের নাম এবং অনেক স্মৃতি লিখতে না পারায় আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং ক্ষমা প্রার্থী। কোন প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ পূর্তি দেখা উপভোগ করা সৌভাগ্যের ব্যাপার। সৃষ্টি কর্তার অসীম কৃপা না থাকলে তা হয় না। গত ২০ অক্টোবর ২০১৮ ইং রাজেন্দ্র কলেজের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত হতে পেরে বেশ ভালো লেগেছে। পূরোনো দিনের স্মৃতি, কলেজ পাঠদানের সময় শিক্ষক, সহপাঠিদের কথা, দাদার ক্যান্টিন- সে সময়ের অনেক অনেক স্মৃতি, কথা মনে পড়ছিল। পাশাপাশি কিছু ব্যাপারে হতাশ হয়েছি মনের মধ্যে একটু ধাক্কাও লেগেছে এই ভেবে যে এ আয়োজনটা আরেকটু অন্যভাবে হলেওহতে পারতো। আরও একটু ভিন্ন আঙ্গীকে ব্যাপক পরিসরে বিভিন্ন মতাদর্শের সর্বদলীয় সাবেক শিক্ষার্থী বিগত দিনের কলেজ সংসদের সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ এদের সমন্বয়ে শতবর্ষ অনুষ্ঠানটি হতে পারতো- হতে পারতো একটি মনোরম স্মরণীকা প্রকাশ, সাবেক প্রতিভাবান জেষ্ঠ্য শিক্ষার্থীদের স্মৃতি চারণ প্রভৃতি। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক এবং যতœবান হলে ভালো হতো। দেশ বরেণ্য সঙ্গীত শিল্পিদের পরিবেশনায়সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি মজা করে উপভোগ করেছি। পরিশেষে শতবর্ষ পূর্তি উৎসব কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলী, আয়োজক বৃন্দ, দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল স্তরের কর্মী এবং কর্মকর্তা বৃন্দকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

লেখকঃ মোঃ মুশফিকুর রহমান ঝান্ডা (সাংবাদিক)
প্রাক্তন ছাত্র-সরকারী রাজেন্দ্র কলেজ ১৯৭৬-৮০
সম্পাদক, সাপ্তাহিক ফরিদপুর বাণী
সিনিয়র সদস্য, ফরিদপর প্রেসক্লাব
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত
ঝিলটুলি ফরিদপুর।
মুঠোফোন ঃ ০১৭৯৭ ০১১৫৪৪

বিঃ দ্রঃ- আমার পিতা সাংবাদিক মুশফিকুর রহমান ঝান্ডা ফেসবুকে অভ্যস্থ নয়, আমার আইডি থেকে লেখাটি পোস্ট করলাম ধন্যবাদ।

 

0

আরোগ্য সদন প্রাইভেট হাসপাতালের ছাদে গড়ে তুলেছে ছাদ বাগান

আজ ফরিদপুর পৌর এলাকায় অবস্থিত আরোগ্য সদন প্রাইভেট হাসপাতালের ছাদ বাগান পরিদর্শন করে এলো আমাদের টিম।
আরোগ্য সদন হাসপাতালের ব্যাতিক্রমী এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই । পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন আরোগ্য সদন হাসপাতালের পক্ষ থেকে জনাব মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন ইমন, এবং দিদার হোসেন, আমরা সাধারনত বাসা বাড়ির ছাদেই ছাদ কৃষি বা ছাদ বাগান করতে দেখি তবে ফরিদপুর এর এই হাসপাতালে এই প্রথম একটি ছাদ বাগান দেখে খুবই ভালো লাগলো।
আমাদের মডারেটর রাসেল মৃধা কিছুদিন আগে ছাদ বাগানটির ছবি এবং ভিডিও আমাদের গ্রুপ ফরিদপুর লাইভে প্রকাশ করেছিলো অনেকেই সেই ছাদ বাগান দেখে প্রসংশা করেছিলো ব্যাতিক্রম উদ্যোগকে, পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের টিমকে তাদের ছাদ বাগান দেখার আমন্ত্রন জানালে আজ আমাদের টিম ছাদ বাগানটি পরিদর্শনে যায়।ছাদ বাগানে শতাধিক ফলজ গাছের সমাহার দেখে ভীষন ভালো লাগলো প্রায় গাছেই ঝুলে আছে ফল, আরোগ্য সদন হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ান জনাব আব্দুল কাদের মুলত তিনিই ছাদ বাগান দেখাশোনা ও পরিচর্যা করে থাকেন। তিনি জানালেন কয়েক প্রজাতির আম গাছ রয়েছে এছাড়াও আমড়া ,চায়না লেবু,চায়না কমলা ,কাগজি লেবু ,হাড়ি ভাঙ্গা আম গাছ ,জামবুরা বা সেলম গাছ ,ছফেদা ,দেশি পেয়ারা,আম্রপালী আম গাছ,কদবেল,চায়না মালটা,কলাগাছও রোপন করেছে এবং বেশ বড়োও হয়েছে, আপেল কুল,ডালিম,সবজীর মধ্যে আছে বেগুন,ডাটা,ধনে পাতা, আব্দুল কাদের জানান গাছের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিলে ভাজনডাঙ্গা হর্টিকালচার সেন্টার থেকেও সহায়তা পেয়ে থাকেন, এছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমেও অনেক সমস্যার সমাধান দেখে দেখে গাছের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পেয়ে থাকেন।
 
জনাব দিদার হোসেন জানান পরিচালক পর্ষদ এর সকলেই প্রকৃতি ভালোবাসেন সেই ভালোবাসা থেকেই মুলত ছাদ বাগানটি করা,পরিচালক পর্ষদ এর ডাক্তার মুস্তাফিজুর রহমান শামীম এবং ডাক্তার জাহাঙ্গীর চৌধুরী টিটু সহ মেনেজিং ডিরেক্টর এর সমন্বিত উদ্যোগেই গড়ে উঠেছে এই ছাদ বাগানটি।
ছাদ বাগান পরিদর্শন শেষে আমরাও মনে করি তাদের মতো অন্যান্য বাসার ছাদ বা হাসপাতালের ছাদ,অফিসের ছাদ, বিশেষ করে শহরের মধ্যে যেসব অট্টালিকা রয়েছে সকলে যদি এভাবে একটি ছাদ বাগান গড়ে তুলতে পারি তাহলে নিজেদের পরিবারের তাজা সজবী এবং বিষমুক্ত ফল এর চাহিদাও পুরন করা সম্ভব।
ছাদ বাগান পরিদর্শনে ফরিদপুর সিটি টিম এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলো ফরিদপুর সদর উপজেলার মডারেটর ফয়সাল তন্ময়,আবির হাসান হৃদয়,মোঃ রোকন উদ্দীন, মোঃ মেহেদী হাসান হৃদয়,তানভীর আহমেদ,সদরপুর উপজেলার মডারেটর মোঃ রাসেল মৃধা,বোয়ালমারী উপজেলার মডারেটর মোঃ রাকিবুল ইসলাম, মোঃ সারফিন নাওয়াজ শুভ, নগরকান্দা উপজেলার মডারেটর বিপ্লব মন্ডল
0

লাল শাপলার বিলে ফরিদপুর সিটি টিম

আগে মনে করতাম লাল শাপলার বিল দেখতে হলে বরিশালের সাতলায় যেতে হবে কিন্তু থাকবো কোথায় এতো সকালে গিয়ে ফুটন্ত শাপলার লাল আভার ছোয়া কিভাবে নিবো তাই আগ্রহও নেই বললেই চলে হয়তো এমন ভাবনা অনেকেরই আছে ।
তবে হ্যা এখন আপনার বরিশাল বা অন্য কোনও জেলাতে না গেলেও হবে কারন আমাদের ফরিদপুর জেলার মধুখালি উপজেলার গাবুরদিয়া গ্রামে অবস্থিত ধোপাডাঙ্গা শাপলা বিল।

যেখানে লাল শাপলার রক্তিম শোভা আপনাকে মুগ্ধ করবেই তবে যেতে হবে খুব সকালে তা নাহলে ফুটন্ত শাপলা দেখা যাবে না এবং রোদে পুরতে না চাইলে ছাতা নিয়ে যাবেন সাথে,খাবার পানি নিয়ে গেলে ভালো।
অসম্ভব সুন্দর এই স্থান থেকে টিম ফরিদপুর সিটি ভ্রমন করে এলো সাথে ছিলো সদরপুর উপজেলার মডারেটর মোঃ রাসেল মৃধা,বোয়ালমারি উপজেলার মডারেটর রাকিবুল ইসলাম,ফরিদপুর সদর উপজেলার মডারেটর রনি ঘোষ,আবির হাসান হৃদয়,তানভির আহমেদ,রোকন উদ্দিন,মধুখালি উপজেলার মডারেটর মুঞ্জুরুল ইসলাম জনি ও তার বন্ধু,আরও অংশ নিয়েছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলার মডারেটর মোঃ মেহেদী হাসান হৃদয়,শাপলা বিলে  নৌকার ব্যবস্থা না থাকলে আমাদের শুখাকাঙ্ক্ষী আছে সেখানে তারা ব্যবস্থা করে দিতে পারবে তবে শর্ত হচ্ছে প্রকৃতির ক্ষতি করা যাবে না।
 যেভাবে যাবেন  ফরিদপুর থেকে সরাসরি মধুখালি বাজার চলে যাবেন বাজারের ভেতর দিয়ে সোজা চলে যাবেন মধুখালি থানার সামনে রাস্তাটা থানা পর্যন্ত খারাপ আছে থানার ঠিক উল্টো দিকেই (পশ্চিমদিকে) পাকা রাস্তা চলে গেছে গাবুর দিয়া গ্রামের দিকে থানা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভেতরে বিলের অবস্থান। সোজা গিয়ে রামদিয়া বটতলার বাম দিকে রাস্তা দিয়ে চলে যাবেন সোজা তারপর আসতে হবে শ্রীরামপুর বটতলা সেখান থেকে ডান দিকে সোজা ইটের রাস্তা দিয়ে মোল্লাডাঙ্গা গাবুরদিয়া চলে যাবেন যেতে যেতে জিজ্ঞাসা করবেন গাবুরদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তার দিকে বিদ্যালয়ের সাথেই বিল বললেই হবে গাবুর দিয়ে বিলে যাবো কোন পথে দেখিয়ে দিবে তবে বেশ ভেতরে ধৈর্য্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে ।

মধুখালি বাজারে ইজিবাইক,ভ্যান ভাড়া পাওয়া যায় রিজার্ভ করতে পারেন আমরা মোটর বাইক নিয়ে গিয়েছিলাম তাই ভাড়া আমাদের ভিডিও চিত্রে জানাতে পারবো জেনে। আর এই শাপলা বিলকে সকলের সাথে পরিচিত করিয়ে দিয়েছে আমাদের শুভাকাঙক্ষী Goutom Biswas ,তিনিই প্রথম আমাদের গ্রুপ Faridpur Live এ পোস্ট করে এতো সুন্দর বিল দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন সেই সাথে তিনি নিজে আজ আমাদেরকে এই বিল ঘুরে দেখিয়েছেন তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিস্তারিত জানতে পারেন স্থানীয় প্রতিনিধির সাথে 01846066392 Goutom Biswas তাকে বললেই হবে ফরিদপুর সিটি পেইজ থেকে নাম্বারটি পেয়েছেন বিলে যেতে সহযোগীতা প্রয়োজন।তিনি আন্তরিকতার সাথে সহযোগীতা করবেন আশাকরি।

0

দিঘলীয়া পদ্মবিল ভ্রমণ টিম ফরিদপুর সিটির

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে অবস্থিত সৌন্দর্য্যের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান দিঘলীয়া পদ্মবিলে আজ টিম ফরিদপুর সিটি ভ্রমন করেছে আর এই ভ্রমনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ফরিদপুরের সৌন্দর্য্যপুর্ণ স্থানকে তুলে ধরা।

গতবছর এই স্থানটি আমাদের গ্রুপ এবং পেইজের মাধ্যমে ব্যাপক সারা ফেলেছিলো প্রকৃতি প্রেমীদের মাঝে তবে এবছর পানি কম থাকায় সেই সাথে কচুরিপানার কারনে পদ্মবিলে পদ্ম ফুল কম ফুটেছে ।

সকাল ৭টায় আমাদের টিম দিঘলীয়া বিলে উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে এই ভ্রমণে অংশ নিয়েছিলো ফরিদপুর সদর উপজেলার মডারেটর আবির হাসান হৃদয় ,তানভীর আহামেদ,রোকন উদ্দীন,আপন হিরা,সদরপুর উপজেলার মডারেটর রাসেল মৃধা,বোয়ালমারী উপজেলার মডারেটর রাকিবুল ইসলাম,নগরকান্দা উপজেলার মডারেটর বিপ্লব মন্ডল। উক্ত ভ্রমনে সার্বিক সহযোগীতা করেছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার মডারেটর রনি ঘোষ এবং তার গ্রামের সন্তান সুজন,উজ্জলসহ অন্যান্যরা।

রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে কানাইপুর হয়ে মল্লিকপুর বাজারের ভেতর দিয়ে সোজা চলে যাওয়া যায় দিঘলীয়া পদ্মবিলে। বিলে ঘুরার জন্য নৌকা পাওয়া দুস্কর তাই এবার ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য খুশির খবর নেই বললেই চলে।

0

সেচ্ছায় রক্ত দানে আগ্রহী হচ্ছেন তরুন তরুনীরা

সোস্যাল মিডিয়ার কারনে আজ খুবই অল্প সময়েই কাংখিত রক্তের ডোনার পেয়ে যাচ্ছেন অনেকেই আর এই সুযোগটা পাচ্ছেন ফেসুবক ভিত্তিক কিছু গ্রুপের কারন। তেমনই একটা গ্রুপ আমাদের ফরিদপুর লাইভ গ্রুপ সেই সাথে ফরিদপুর সিটি পেইজ এবং ব্লাড ব্যাংক ফরিদপুর।

গ্রুপের এডমিন প্যালেনের মডারেটরগনও নিয়মিত রক্ত দান করেন সেই সাথে গ্রুপের অসংখ্য বন্ধুরা আছেন যারা গ্রুপের বিভিন্ন পোস্ট দেখে সেচ্ছায় রক্ত দান করে থাকেন। আর এই সুযোগটা অনেকেই নিচ্ছেন অনেকে মনে করছেন যে গ্রুপে পোস্ট দিলেই তো রক্ত পাওয়া যাচ্ছে তাহলে তো কোনও চিন্তাই নেই তবে এই ধারনা ভুল কারন অনেকে সিজারের রোগী ওটিতে রেখে পোস্ট দিয়ে বলেন ইমারজেন্সি রক্ত লাগবে ওমুক গ্রুপ ওমুক হাসাপতালে খুবই জরুরী।

অনেক সময় মানবিক দিক বিবেচনা করে অনেকেই এগিয়ে আসছেন তবে এমন ভাবনা মারাত্মক ঝুকির কারন। একজন গর্ভবতির নারীর জন্য রক্ত না লাগলেও তবুও রক্তের ডোনারের সন্ধান করে রাখা উচিৎ অন্তত তিন মাস আগে থেকে যা সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ সেই কাজটিই গুরুত্ব দেয় না রোগীর  আপনজন।

অনেক ডোনার নিয়মিত রক্ত দান করে মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত দেখালেও এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীও ওত পেতে থাকে রক্ত বেচাকেনার সেদিকেও সকলের দৃষ্টি দেয়া উচিৎ। আমাদের ফরিদপুর লাইভ গ্রুপে প্রতিনি অসংখ্য রক্তের পোস্ট আসে অনেকে শুধু রক্তের জন্যই গ্রুপকে ব্যবহার করেন তাছাড়া অন্য কোনও পোস্ট দিতে দেখা যায় না। আমরা সবসময় বলে থাকি গ্রুপ থেকে নেয়ার চাইতে দেয়ার মানসীকতা রাখুন তাহলে আপনি এবং গ্রুপের অন্যান্য বন্ধুরাও উপকৃত হবেন।

গতকাল রাতেও আমাদের মডারেটর ফয়সাল তন্ময় একজন মুমূর্ষ রোগীর জন্য ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে গিয়ে এক ব্যাগ  রক্ত দিয়ে এসেছন আজ গ্রুপের তামান্না ইসলাম রিশা নামের এক বোন , আসিফ আশরাফ নামের এক ভাই, তারা যেভাবে তাদের অবস্থান থেকে এগিয়ে আসছেন সকলের উচিৎ সেভাবে এগিয়ে আসা।