Tagged: বাইশরশি

0

জমিদার রাজেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরী বা রাজেন্দ্র বাবু

জমিদার রাজেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরী

যার নামে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ এর নামকরণ। ১১ই মার্চ এই জমিদার রাজেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী। সদরপুর উপজেলার বাইশরশিতে অবস্থিত এই জমিদাদের স্থানীয়রা বাবু বলে ডাকে । আনুমানিক ৪০০ বছরের ইতিহাস রয়েছে এই জমিদার বংশের। ফরিদপুরের শিক্ষা চিকিৎসা ক্ষেত্রে রয়েছে তাদের অবদান। এই জমিদার বংশের জমিদারীর আওতায় স্থানীয় ফরিদপুর জেলা ছাড়াও বরিশাল জেলার বিভিন্ন অংশ মিলিয়ে মোট ২২টি পরগণা ছিল।

রাজেন্দ্র বাবু জন্মগ্রহণ করেন ১৮৫২ ইংরেজী (বাংলা ১২৫৮ সনে মাস এবং তারিখ জানা যায়নি)। তার পিতার নাম নীলকন্ঠ রায় চৌধুরী। রাজেন্দ্র বাবুরা দুই ভাই ও দুই বোন ছিলেন। নয়া বাড়ি গ্রাম নিবাসী বাউল চন্দ্র সাহার কন্যার সাথে ১২৭৫ সালে বিবাহে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এই বিবাহিত সুখী হতে পারলেন না বিবাহের তার স্ত্রী উৎকট রোগে আক্রান্ত হইল নানা চিকিৎসা করেও কোন ফল পাওয়া গেল না। এই অসুবিধার মধ্য দিয়ে কিছু বছর কেটে গেল। পরে ১২৮২ সনে ফরিদপুর নিবাসী জমিদার বৈকুণ্ঠ নাথ চৌধুরী এর কন্য কামিনী সুন্দরী চৌধুরীকে বিবাহ করলেন। নীলকন্ঠ বাবুর মৃত্যুর পরে তাদের বৈদেশিক সম্পত্তি কার্য চলতে থাকলো কিন্তু আয় ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকলো উপযুক্ত পরিদর্শনের অভাবে এমনটা হয়েছে বলে তার মা মনে করেছেন। তাই তিনি এখন থেকে বাইরে সম্পত্তি দেখভাল করার জন্য তার ছেলেকে পাঠাবেন বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। রাজেন্দ্র বাবু ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। তিনি বিদেশে যাবেন বলে কোন চিন্তাভাবনা করলেন না বরং জমিদারি এলাকা পরিদর্শন করবে বলে হৃদয়ে আনন্দ হইলো। রাজেন্দ্র বাবু সেখানে যাবেন বলে সেখানকার কর্মচারীদের প্রস্তুত থাকতে বললেন। একদিন শুভ লগ্নে নৌকায় করে যাত্রা করলেন। তারে দেখার জন্য অসংখ্য লোক ঘাটে অবস্থান করল। সেখানে পৌঁছায় তিনি তার আসন গ্রহণ করলেন। তার লোক সমাজে আলাপ করার দক্ষতা ছিল অত্যন্ত বেশি।তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এবং লাভজনকভাবে সেখানে জমিদারি করেছেন। কিছুদিন থাকার পরে তিনি ১২৮৯ সনে চৈত্র মাসে ৩২ বছর বয়সে রাজেন্দ্র বাবু হঠাৎ চক্ষু আক্রান্ত হয়ে ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তিনি মানসিক ভাঙ্গে ভাবে ভেঙে পড়লেন অনেক বেশি। রাজেন্দ্র বাবুর কোন পুত্র সন্তান ছিল না তার মেয়ে ছিলো। ১৩০০ সনে ২০ চৈত্র তারিখে সন্তান দত্তক গ্রহণ করেন। এই পুত্রের নাম রাখেন রমেশ চন্দ্র রায় চৌধুরী। এভাবে কেটে গেল অনেক দিন।একদিন হঠাৎ জ্বর ও উদারাময় রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলেন। নানা দেশের বড় বড় ডাক্তার কবিরাজগণ এতো চিকিৎসা করল কিন্তু তাতে তেমন কোন উপশম হলো না। তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হতে থাকলো এবং ব্যাধি সবল হতে থাকলো। অনেকদিন পর্যন্ত জ্বরে ভুগতে থাকলো। রোগের অবস্থা খারাপ দেখে চিকিৎসগন বিশেষ নিয়ম নির্ধারণ করলেন কিন্তু রাজেন্দ্র বাবু সঠিক নিয়ম নীতি মানলেন না। (সোমবার, ১১ মার্চ ১৯০১ খ্রীস্টাব্দ) ১৩০৭ সনের ২৫ শে ফাল্গুন তারিখে সংসারের মায়া ত্যাগ করে পরলোক গমন করলেন।

0

বাইশরশি জমিদার বাড়ি হতে পারে অন্যতম দর্শনীয় স্থান

জমিদারি প্রথার অন্যতম নিদর্শন আমাদের ফরিদপুরের এই বাইশরশি জমিদার বাড়ি। তবে বাড়িটির বর্তমান অবস্থা একেবারেই বেহাল ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে এখনও রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে বাড়িটি আজ প্রায় ধবংসের দারপ্রান্তে। তবে ফরিদপুরের সকল সেচ্ছাসেবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বাড়িটিকে তার জৌলুস ফিরিয়ে দিতে ।

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা বাইশরশি জমিদার বাড়ি সংস্কার সংরক্ষণ করলে বাড়িটির জৌলুস ফিরে আসবে জরাজীর্ণ অবস্থা তবুও হাজার হাজার দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসেন এখানে ।সংস্কার করা হলে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে বহুগুণ বাড়িটিকে ঘিরে গড়ো তোলা সম্ভব পর্যটন কেন্দ্র । নিকটেই তৈরী হবে বঙ্গবন্ধু মান মন্দির যা দেখার জন্য সমগ্র দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকেও হাজার হাজার পর্যটকের ভীর হবে এই মান মন্দীরে যখন সকলে জানতে পারবে পাশেই এতো সুন্দর একটি জমিদার বাড়িও আছে তখন এই বাড়িটি দেখার জন্য অনেকেই ছুটে আসবে বাইশরশি জমিদার বাড়িতেও ।ভাবা যায় কি হতে পারে এই অঞ্চলটি?ফরিদপুরবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের একটা বিষয় হবে যখন এমনটা হবে। তবে তার আগে অবশ্যই এই বাড়িটি রক্ষা করা প্রয়োজন বাড়িটি সংস্কার এবং সংরক্ষন এর দাবিতে চলছে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ আপনিও অংশ গ্রহণ করুন।ছবি মডারেটর Rokon uddin