FaridpurCity a social community & nonprofit organization

0

নাঈম শেখ ও আবাহনীর টিম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কিছু কথা!

নাঈম শেখ ও আবাহনীর টিম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কিছু কথা!২০১৮-১৯ মৌসুমে ডিপিএলে ১৬ ম্যাচে ৫৩.৮০ গড়ে করেছিলেন ৮০৭ রান— যা আসরে ২য় সর্বাধিক রান। সর্বোচ্চ রান ছিলো ১৩৬।২০১৯ বিপিএলে ১২ ম্যাচে ৩২.৬৩ গড়ে করেছিলেন ৩৫৯ রান— যা আসরে নবম সর্বাধিক। সর্বোচ্চ ৭৮। ২০২০ বঙ্গবন্ধু কাপে ১০ ম্যাচে ২৬ গড়ে করেছিলেন ২৬০ রান— যা আসরে অষ্টম সর্বাধিক। সর্বোচ্চ ১০৫ রান।

২০১৯-২০ মৌসুমে চলমান ডিপিএলে ১৩ ম্যাচে ৩০.২৭ গড়ে করেছেন ৩৩৩ রান— আসরে এখনপর্যন্ত চতুর্থ সর্বাধিক। সর্বোচ্চ ৭০ রান। তার মানে, গত ৩-৪ বছরে বিসিবি কর্তৃক যতোগুলো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে— সবগুলো টুর্নামেন্টে সেরা দশেই ছিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। আর এসবগুলোই অর্জন এসেছে ওপেনার হিসেবে। স্বীকৃত ক্রিকেটে এখনপর্যন্ত নাঈম শেখ খুব সম্ভবত একবার নিচে ব্যাটিং করেছে। তাও সেটা তিন নাম্বারে।অথচ, চলমান ডিপিএলে ফর্মে থাকা নাঈমকে নামিয়ে আনা হচ্ছে কখনও পাঁচ নাম্বারে, কখনওবা ছয় নাম্বারে— যা একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যানের সাথে বড্ড বেশি বেমানান। আপনি লজিক দেখাতে পারেন যে, আবাহনী দলে ওপেনার বেশি থাকায় নাঈম শেখ কে নিচে নামানো হচ্ছে, তাদের বলবো ভাই, মানলাম মুনিম শাহরিয়ার ফর্মে রয়েছেন— কিন্তু লিটন দাসও কি ফর্মে?লিটন কয়েক সিরিজ ধরে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছে। তাছাড়া, লিটন কে কি তিন নাম্বারে খেলানো যেতোনা? যেহুতু তার নিচে খেলার প্রমানও রয়েছে।

আমরা জানি— নাঈম শেখ ক্রিজে এসে একটু সময় নেন। সময়ের সাথে সাথে খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসেন। যা আমরা বিগত টুর্নামেন্টগুলোতে দেখেছি। তাছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে ওপেনার হিসেবে প্রমাণ করেই আজ তিনি জাতীয় দলে ওপেনিং ব্যাটসম্যান। কেউ তাঁর চেহারা দেখে ওপেনার বানিয়ে দেয়নি। যদি বিশ্ব ক্রিকেটের দিকে তাকান, তাহলে দেখা যায়— লোয়ারঅর্ডার বা মিডলওর্ডার থেকে টপ অর্ডারে ব্যাটিংয়ে এসে ভালো করতে করতে তাঁরা প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান হয়ে গেছে। কিন্তু টপ অর্ডার বা ওপেনারদের কে নিচে নামিয়ে ফল হয়েছে, এমন খুব একটা হয়েছে তা আমার চোখে অন্তত পড়েনি।সর্বোপরি বলবো, নাঈম শেখ কে নিয়ে কোনো এক্সপেরিমেন্ট না করে তাঁকে তাঁর পজিশনে খেলতে দিন— সে দলের চাহিদা পূরণ করবে ইন শা আল্লাহ! তাছাড়া তাঁকে যদি ফিনিশার বানানোর মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয় খালেদ মাহমুদ সুজন বা আবাহনী টিম ম্যানেজমেন্ট, তাহলে দল তাঁর থেকে যে প্রত্যাশা করে তা অপূরনীয় রয়ে যাবে। তাই খুব করে চাই, আগামি ম্যাচ থেকে নাঈম শেখ কে দিয়ে ইনিংস ওপেন করাক ডিপিএলের সর্বোচ্চ শিরোপাধারী দল আবাহনী লিমিটেড! আপনার মতামত কি?

লিখেছেন কন্ট্রিবিউটর মোহাম্মদ জিলানী

0

সালথায় ঐতিহ্যবাহী সিংহ পরিবারের শেষ চিহ্ন সংরক্ষণের দাবিতে মানববন্ধন

সালথায় ঐতিহ্যবাহী সিংহ পরিবারের শেষ চিহ্ন সংরক্ষণের দাবিতে মানববন্ধন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বাউষখালী বাবু বাড়ি সংস্কার এবং সংরক্ষণের দাবিতে আজ সালথা উপজেলা চত্বরের সামনে মানববন্ধন করেছে ফরিদপুরের ১৭টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও এলাকাবাসী।

‘বাউষখালী বাবু বাড়ি, সবাই মিলে রক্ষা করি’- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ রবিবার  সকাল ১০ টায় সালথা উপজেলা পরিষদের সামনে  মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

এ মানববন্ধনের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, জমিদার বাড়ী শুধু সালথা উপজেলাবাসীর নয় সমগ্রদেশের একটি ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য রক্ষা করতে যা যা করনীয় প্রয়োজনে তা করা হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় মাননীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চোধুরীর কাছে আহ্বান জানান আমাদের প্রাণের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ বাবু বাড়ী রক্ষাসহ এ এলাকায় একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হোক।

এ সময় বক্তারা বাউষখালী বাবু বাড়িটিকে সংস্কার ও সংরক্ষণ করে বাড়িটি প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন, ইতিহাস ও গবেষণার কেন্দ্র এবং সরকারি সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান।

মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেছে যারা প্রভাতের হাসি ফাউন্ডেশন বল্লভদী, আমরা করবো জয় ফরিদপুর;,শান্তি’র আহ্বান, সালথা উপজেলা, ঘুরি-ফিরি ফরিদপুর; কানামাছি ভোঁ ভোঁ; সেপটোস ফোর, সদরপুর; ফরিদপুর সাইক্লিস্টস কমিউনিটি,ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ফরিদপুর; কনজুমার এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ , সালথা উপজেলা শাখা; সালথা; মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সালথা উপজেলা শাখা; ফরিদপুর; ফরিদপুর সিটি পেজ/ ফরিদপুর লাইভ গ্রুপ, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সালথা উপজেলা শাখা; ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা আন্দোলন, বাউষখালী সালথা; উই কেয়ার ফরিদপুর; রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সালথা,

এ সময় সংগঠনগুলো মানববন্ধন থেকে গণস্বাক্ষর নিয়ে জমিদার বাড়িটি রক্ষার দাবিতে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তাদের দাবি তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, প্রায় দুই শতাব্দীর অধিক কাল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা সিংহ পরিবারের বসবাসের ইতিহাস জড়িয়ে আছে এই বাড়িতে। সিংহ পরিবারের আবির্ভাব সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও এই পরিবার শুরু থেকেই অত্র অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কার্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন। সিংহ পরিবারের ঐতিহ্যের শেষ চিহ্ন হিসেবে কালের সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে একটি ভবন  এবং একটি মন্দির এখনো যা পর্যটন প্রেমীদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করে।

0

রিক্সাচালক পান্নু শেখ পেলো নতুন ব্যাটারি

প্রথমেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, তারপর সেই সকল মহৎ ব্যাক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যারা সৃষ্টিকর্তার নির্দেশে রিক্সাচালক পান্নু ভাইয়ের বিপদে এগিয়ে এসেছেন। এই বিশেষ মুহূর্তটা পান্নু ভাইকে দিয়েই সেল্ফি তুলিয়ে রাখলাম,তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, আমরাও আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি

। আপনাদের সবার সহযোগিতা ছাড়া এতো অল্প সময়ে তার হাতে এই ব্যাটারি তুলে দেয়া সম্ভব ছিলো না। এখন থেকে তিনি আবারও পরিশ্রম করে হালাল উপার্জন করতে পারবেন আর এই সুযোগ যারা করে দিলেন সবাইকে আমাদের টিম #faridpurcity এর পক্ষ থেকে হাজার সালাম।গত ৬ই জুন রিক্সা চালক পান্নু ভাইয়ের রিক্সার ব্যাটারি চুরি হয়েছিলো পেজে পোস্ট দেয়ার খুবই অল্প সময়ের মধ্যে পান্নু ভাইয়ের রিক্সার জন্য ব্যাটারির ব্যবস্থা হয়েছে। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা করবো জয় আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী খোদাবক্স রোডের বাসীন্দা রাইয়ান এবং ইয়াবুর শেখ, এবং জনাব মোঃ ইয়াছিন রেজা সুজন ভাই এর প্রতি।এছাড়াও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি মোঃ জিলানী,ফরিদপুর পৌরসভার সহযোগী প্রকৌশলী জনাব শিমুল দাস, গ্রুপের সকল কন্ট্রিবিউটার এবং নাম না জানা আপনাদের সবাইকে যারা দূর দুরান্ত থেকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য পাঠিয়েছেন। এই কৃতিত্ব সম্পূর্ণ আপনাদের আমরা শুধু দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। আরও বিস্তারিত নিয়ে আগামীকাল একটি লাইভে আসার চেষ্টা করবো আমরা সাথে থাকবে পান্নু ভাই।

0

শুরু হয়েছে বছরের ১ম সূর্যগ্রহণ

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১২ মিনিটে বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসবে চাঁদ ফলে গ্রহণে ঢাকা পড়বে সূর্য অন্ধকারে ঢাকা পড়বে সূর্যের প্রায় ৯৪.৩ শতাংশ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ১২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে আর গ্রহণ শেষ হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিট ১২ সেকেন্ডে। পৃথিবী এবং সুর্যের মাঝখানে যখন চাঁদ চলে আসবে তখন দেখা যাবে একটি বলয় যাকে রিং অব ফায়ার বলা হয় রাশিয়া, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও উত্তর মেরু থেকে দেখা যাবে এই সূর্যগ্রহণ,তবে  গ্রহণের চূড়ান্ত অবস্থা প্রত্যক্ষ করা যাবে গ্রিনল্যান্ড থেকে। ইউরোপ ও এশিয়ার উত্তরাংশ থেকেও সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। তবে এবারের সূর্যগ্রহনটি বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান হবেনা। আগামী ৪ ডিসেম্বর দেখা যাবে চলতি বছরের দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণ অর্থাৎ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।

0

শেকড়ের টানে

এখন আমার বয়স ৮৫, ছোট বোনের উৎসাহে নিজের পুরোনো স্মৃতি লিখলাম। নতুন প্রজন্মের কাছে আমার দেখা এই দেশটি অজানা। এই লেখাটি দিয়ে হয়ত আপনাদের কাছে পৌঁছে যেতে পারব।

ফরিদপুর অধুনা বাংলা দেশের একটি district

টাউন। আমার ছোট বেলার কিছু টা সময় ওখানে কেটেছে। দাদু- দিদি-মা,তার মা ও মামাদের সাথে আমি ও আমার দাদা ওখানে ছিলাম। মা – বাবা থাকতেন কলকাতায়। মামা বাড়ি ছিল খাবাসপুর অঞ্চলে। ফরিদপুরে জজ কোর্ট ও বিশাল জেলা কারাগার ছিল। দাদু যেহেতু উকিল ছিলেন এবং দুটো এস্টেটের আইনি মামলা দেখতেন, কোর্টে ওনার রোজই যাতায়াত ছিল।

খাবাসপুরের একদিকে পদ্মা ও অন্যদিকে ছিল ব্রক্ষ্মপুত্র নদী। বাড়ি র কাছেই ছিল একটি খাল। বর্ষাকালে বেশ জল থাকতো কিন্তু অন্য সময় হাঁটু জল। সেখানে প্রায় ই শুশুক দেখা যেত। রাস্তা ছিল খোয়া দিয়ে ঢাকা। যানবাহন বলতে দুটো ঘোড়ায় টানা টঙ্গা আর সাইকেল রিক্সা।

কলকাতা শহর থেকে ফরিদপুর ট্রেনে পৌঁছতে হতো। তারপর টঙ্গায় রাজবাড়ী হয়ে খাবাসপুরে যেতে হোতো। ওখানে সব বাড়িতেই corrugated টিনের চাল থাকত। বাঙলাদেশে ভীষনই বৃষ্টি হয়। তাই এই ব্যবস্থা । আবার টিনের চালের নীচে কাঠের পাটাতন থাকতো। সেখানেই আমার দিদিমার সংসারের দরকারি জিনিসপত্র রাখা থাকত। মই দিয়ে ওঠা- নামার ব্যবস্থা। বাড়িতে electricity ছিল। সেটা কম বাড়িতেই ছিল।

মনে পড়ে খালপাড়ে জগৎবন্ধুর আঙ্গিনা ছিল।এটি ছিল বৈষ্ণবদের একটি আখড়া। প্রতি রবিবার শিষ্যরা ভিক্ষা সংগ্রহ করতে আসতেন। গৃহস্থরা নিজেদের সাধ্যমত চাল,ডাল, সবজি ইত্যাদি দিতেন।

মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ও ছেলেরা সকলেই স্কুলে পড়াশোনা করত। গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল ( ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত) ও জেলা স্কুল দশ ক্লাস পর্যন্ত ছিল। আমি গার্লস স্কুলে পড়তাম ও দাদা ট্যাপাখোলায় বয়েজ স্কুলে পড়ত। বিশাল জায়গা নিয়ে এই স্কুল বাড়ি গুলো ছিল। তিন মামাও জেলা স্কুলে ই পড়েছেন।

স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়।’ বৃটিশ খেদাও’ এর ঢেউ চারিদিকে। সশস্ত্র আন্দোলনের কর্মসূচি ফরিদপুরের যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। আমাদের বড়মামা মাঝে মাঝেই রাত্রে খাওয়াদাওয়ার পরে বন্ধুদের সাথে কোথাও যেতেন। জিগ্যেস করলে বলতেন মৃতদেহ দাহ করতে শ্মশান ঘাটে যেতে হয়। এইরকমই চলছিল।এই পূণ্যকাজে কেউ বাধা দিত না।

মেজমামার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন পুলিশ কমিশনারের ছেলে। কী করে তিনি জানতে পেরেছিলেন জানি না।একদিন সুলতান মামু বাড়িতে এসে খবর দেন আগামী কাল বাড়িতে পুলিশ সার্চ হবে। কেন? তখন জানা গেল রোজ রাতে মামা স্বদেশী দলের সঙ্গে বোমা বানাতে যান। দাদু দিদিমার মাথায় হাত। সঙ্গে সঙ্গে মামার কলকাতা যাবার ব্যবস্থা করা হল। রাতের অন্ধকারে সেই খাল সাঁতরে স্টেশনে পৌঁছে কলকাতা। সে যাত্রায় প্রাণের তোয়াক্কা না করে প্রাণ রক্ষা হয়।

আমার এবং দাদার মুসলিম বন্ধুদের সাথে যথেষ্ট হৃদ্যতা ছিল। জাহানারা ও রোশেনারা আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল। ঈদের দিন আমায় ওদের বাড়িতে নিয়ে মিষ্টি খাবার খাওয়াত। আমাদের বাড়ি তে ওরা যখন আসত, দিদিমাও খুব যত্ন করে ওদের খেতে দিতেন। হিন্দু মুসলমান ভেদাভেদ আমরা জানতাম না।

ফরিদপুরে ইলিশ মাছ খুব পাওয়া যেত। শ্রাবন- ভাদ্র মাসে প্রায়ই দাদু একসাথে ৪/৫টা মাছ নিয়ে আসতেন। সেদিন মাছ ভাজা থেকে শুরু করে মাছের ডিমের অম্বল কিছুই বাদ যেতো না। পুঁটি মাছ খায়নি এরকম লোক ফরিদপুরে পাওয়া যাবেনা। দাদা খালের থেকে ছিপ দিয়ে ছোট মাছ ধরার কায়দা জানত।

পিতৃগৃহ থেকে দিদিমা অনেক সম্পত্তি পেয়েছিলেন কিন্তু সব খুড়তুতো ভাইদের দান করে দিয়েছিলেন।হয়ত সেই পূণ্যতেই মামারা জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। যাদের কথা লিখছি তারা কেউ আজ জীবিত নেই। ফরিদপুর নামে ই তারা আবেগ প্রবন হয়ে যেতেন।

দাদার দুষ্টুমি র জন্য পাড়ার লোকেরা খুব ব্যতিব্যস্ত থাকতো। দাদু কে প্রায় নালিশ শুনতে হতো। পাড়ায় তিন উকিলের তিন মেয়ের ঘরের নাতি ছিল সেরা দুষ্টু। লোকেরা বলতেন “বাবুল,বাবলু দুলাল, শয়তান তিন পোলাপান।” দিদিমার মা ছিলেন বড় স্নেহময়ী।পাড়ায় আমার সমবয়সী কোন মেয়ের ছেঁড়া জামা দেখলে, আমার জামা দিয়ে দিতেন।কোন মহিলাকে ছেঁড়া শাড়ী পড়া দেখলে মায়ের বা মামীদের শাড়ি দিয়ে দিতেন।

তিন মামার সুনাম ছিল খেলা ধুলায়। বড়মামা কলকাতায় আশুতোষ কলেজের ফুটবল টিমের Captain ছিলেন। ঘুড়ি ওড়ানো ও গুলি খেলায় পারদর্শী ছিলেন। ছোট মামা দৌড়ে কোনদিন দ্বিতীয় হয়নি। কিন্তু মেজ মামা ক্রিকেট খেলায় উৎসাহী ছিলেন । জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ওনার বন্ধু প্রীতি অটুট ছিল। আত্মীয় ও বন্ধু দের অকাতরে সাহায্য করেছেন। হাস্য রসের যাদুকর ছিলেন।

কবি জসীম উদ্দিন এই ফরিদপুরে ই ছিলেন।

বিখ্যাত পরিচালক মৃনাল সেন,গায়ক সুধীর লাল চক্রবর্তী মেজ মামার বন্ধু ছিলেন। আমাদের ঢাকুড়িয়ার বাড়িতে সুধীরলাল এসে গান গেয়েছেন। Anderson Club এর Vice President থাকাকালীন মামা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে club পরিচালনা করেছেন।

আর ছোটমামা ছিলেন দাদার থেকে একটু বড়। কিন্তু মামা দুষ্টুমি তে দাদা র সাথে পেরে উঠতেন না। মামা একটা খাতায় পেছনে তারিখ দিয়ে দাদা কবে কী দুষ্টুমি করেছে লিখে রাখতেন। উদ্দেশ্য একটাই, মা যখন ফরিদপুরে আসবেন তখন এগুলো দেখিয়ে দাদা কে উত্তম মধ্যম খাওয়াবে। দাদা এটা জানতো কিন্তু কিছু বুঝতে দিতনা ।একদিন দাদা শুনলো মা পরের দিন ফরিদপুরে আসছেন। রাতের বেলা ছোটমামা ঘুমোলে,ব্যাগ থেকে খাতাটা নিয়ে সব পাতা ছিঁড়ে স্কুলের পথে ফেলে নিশ্চিন্ত। এবার খাতার পাতা ছেঁড়া দেখে মামা আমার কাছে খুব কেঁদেছিল।

ফরিদপুরে র গল্প একবার শুরু হলে আর শেষ হোত না।

মেজ মামা র একবন্ধু ছিলেন মনতোষ নাম। ক্লাসে মাষ্টার মশাই জিগ্যেস করেছিলেন , “মনতোষ,মিছরির ছুড়ি দিয়া বাক্য রচনা কর”। মনতোষের সাথে সাথেই উত্তর। ” বালকটি মিছরির ছুড়ি দিয়া ডাবখানি ফালা ফালা কৈরা কাটিয়া ফেলিল।” আর যায় কোথায়? “! পিঠে পড়ল কয়েক ঘা।

পাগলা রেনু ছিল আর এক বন্ধু।অনেকটাই সুকুমার রায়ের ‘পাগলা দাশুর’মতন। মনতোষ কে ক্ষেপাতেন ” ফুলদল দিয়া কাটিলা কী বিধাতা শাল্মলী তরুবরে?”এক একটা খুব খাঁটি কথা বলে সবাইকে খুব হাসাতেন। একবার বলেছিলেন ” দেখো বন্ধু রা, মুসলমানদের সাথে আমাগো যত ই ফারাক থাকুক,জুতায় কিন্তু সবাই সোজা।” মানে জুতো পড়ার সময় ডান এবং বাম পা এক ই রকম।

দিদিমার তিনটি গরু ছিল। রবি, রানি আর ধবলী। রবি সারা পাড়া ঘুরে বেড়াত এবং সন্ধ্যা হবার আগেই ফিরে আসত। অনেকেই রবি কে রুটি, সবজি,গুড় খেতে দিতেন। ও নাকি খুব পয়া ছিল।গোয়ালের দেখভালের দায়িত্বে ছিল গোকলা। তখন তো fridge ছিল না তাই সারাদিন বাইরে উনুনে জ্বাল দিয়ে দুধের কড়া পাকের মিষ্টি খাবার দিদি মা বানিয়ে রাখতেন। কেউ জল চাইলে বাড়িতে তৈরী মিষ্টি অবশ্যই দেওয়া হতো। কলকাতায় কেউ গেলেই আত্মীয় স্বজন দের জন্য চন্দ্রপুলী বা প্যাড়া পাঠিয়ে দিতেন।

দুই মামা কলকাতায় চাকরি করতেন। দিদিমা পাড়ার দুই সুন্দরী মেয়েকে আমাদের দুই মামী করে নিয়ে এলেন। এদের স্বামীরা কলকাতায় কর্মসূত্রে থাকতেন কিন্তু দেওর, ভাগ্নে ভাগ্নী,শ্বশুড়, শ্বাশুড়ি নিয়ে কী আনন্দে সুন্দর সংসার করেছেন। এ যুগে ভাবা যায় না।

বাড়িতে আম, সুপুরি, নারকেল, জামরুল, পেয়ারাআর অত্যন্ত মিষ্টি টোপাকুলের গাছ ছিল। অনেক দিন সকালে খেজুরের রস খেয়েছি। বাকি টা একজনকে গাছে হাড়ি টাঙিয়ে রেখে বিকেলে নিয়ে যেতে দেখতাম। আমসত্ত্ব তো সারা বছর চুষতাম। ওগুলো ছিল আমাদের candy.

ছোট মামা যেহেতু দাদা র সাথে দুষ্টুমি তে পেরে উঠতে না তাই আমার সাথে খেলা করতে ভালো বাসতো।

স্কুলে function হবে । মামা নাচে নাম দিয়ে এল। দাদা বলল মেয়েরা নাচে। মামা কিন্তু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।সুরু হলো উঠোনে rehearsal. ” প্রলয় নাচন নাচলে যখন” ” Dance directors আমার দাদা আর আমার মাসীর ছেলে। আমি দর্শক। সেই দৃশ্যটা মনে করতেই আমার লেখা বন্ধ হয়ে গেল।একা একা অনেকটা হাসলাম।

দাদা পড়তে চাইত না। সাহেব দের মতো ফর্সা গায়ের রং ছিল। ঘরে থাকত কম, রাস্তা য় টোটো। রাস্তা ঘাটে দেখা হলেই মাষ্টার মশাইরা দাদু র কাছে নালিশ করতেন,”এত মেধা ছেলেটার,একটু পড়লেই ভালো ফল করতে পারে।” কে কার কথা শোনে? দাদু র কাছে কানমলা খেয়ে কানটা সবসময় লাল টকটকে।

স্কুলে inspector আসবেন। মাষ্টারমশাই রা speech লিখে দাদাকে পড়তে বলেন। দাদা ছোটমামা কে বলল,”তুই তো এত লেখা পড়া করিস, ভালো ছেলে, তোকে কী ডাকলো? আমাকেই তো ডাকলো।” একদিনে সমস্ত টা মুখস্ত করে ফেললো। অনেক অভিভাবকরা বাড়িতে এসে বলেছিলেন দাদা নাকি ইংরিজিতে খুব ভালো বলেছিল। পরীক্ষা র প্রস্তুতির জন্য একজন গৃহ শিক্ষক রাখা হলো। কিন্তু দাদাকে মারে সাধ্য কার? দিদিমার মা (বুড়ি মা) পেছনে বসে থাকতেন। একবার পাশে র বাড়ির লোক ডেকে এনেছিলেন এই বলে “ছেলে টারে খুন কইরা ফ্যালাইবো, তোমরা বাঁচাও” ।

তখন চারিদিকে ভারতবর্ষ ও পাকিস্তান বিভাজন নিয়ে কথা বার্তা চলছে। শুধু ‘গরম হাওয়া’। ছোটমামা মেদিনীপুরে মাসীর কাছে চলে গেল। দাদু আমাকে ও দাদাকে কলকাতা য় পাঠিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন।এক অবশ্যম্ভাবী ডামাডোলের আশঙ্কা সবার মনে। নিজেদের এত দিনের ঘর সংসার পেছনে ফেলে চলে যেতে হবে।

দিদিমা শক্ত মনের হলেও মাঝে মাঝে ই শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছতেন। যৎসামান্য দামে বাড়ি বিক্রি করে, নিজের হাতে বড় করা গাছ গাছালির মায়া ত্যাগ করে কলকাতা চলে এলেন।

আমি বৃত্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সব বন্ধ করে চলে এলাম। কলকাতা শহরে মন টিঁকছিল না।। কলকাতায় ঢাকুরিয়ায় বাবা বড় বাড়ি বানিয়ে ছিলেন। ঢাকুরিয়ায় বিনোদিনী স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণী তে ভর্তি হলাম।

হঠাৎ একদিন আমার নামে বাড়িতে একটা পার্সেল। মা খুলে দেখলেন ফরিদপুরের স্কুলের সেলাই দিদিমণি জ্যোতি দি পাঠিয়েছেন। উনি খৃষ্টান ছিলেন।। আমি যে সেলাই গুলো শেষ করে ছিলাম সেগুলো ও তার সাথে যেটা অসম্পূর্ণ ছিল সেটা কী করে শেষ করতে হবে হাতে লিখে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। অনেকদিন পরে একবার স্কুল থেকে একটা sports meet এ সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে গিয়েছিলাম। ওমা! সেখানেই আমার সাথে দেখা হোলো সুধা দত্ত ও প্রতিভা ব্যানার্জী নামে দুই ফরিদপুরের দিদিমনির সাথে। আমাকে জড়িয়ে ধরে কত প্রশ্ন। সুধা দত্ত ছিলেন আমার মায়ের সময়ের Headmistress. আমিও খুব আনন্দ পেয়েছিলাম ওনাদের দেখে।

শুরু হলো আমার শহর জীবন। এতগুলো বছর এই কলকাতা শহরের সাথে জড়িয়ে আছি। ইউরোপ, আমেরিকা, ইঙলন্ড,স্কটল্যান্ড ঘুরে পৃথিবীর বিচিত্র শোভা দেখে এসেছি। আজ ফরিদপুরের কথা বলতে পেরে খুব হাল্কা লাগছে। বাংলাদেশ গিয়েছিলাম কিন্তু ফরিদপুরে যাওয়া হয়নি। দাদা এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যাবার আগে ফরিদপুর ঘুরে এসেছিলেন।ওর কাছে এখনকার ফরিদপুরের গল্প শুনেছি।পারিনি মেলাতে ফেলে আসা আমার ছোটবেলার সেই ফরিদপুরকে।

————————————————————————- অনুভা গাঙ্গুলি

সাদার্ণ এভিনিউ

কলকাতা।

0

মহিলা ছিনতাইকারি আটক ফরিদপুর নিউ মার্কেটে

আজ বেলা ১২টা ২০ এ ফরিদপুর নিউ মার্কেটে একজন মহিলা ছিনতাইকারিকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

ঘটনা স্থলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান এক মহিলা ছিনতাইকারি একজন নারী ক্রেতার মোবাইল চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন সেই নারী। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে এবং গনধোলাই দেয়া হয়। আটককৃত মহিলার কাছে বেশ কয়েকটি মোবাইলফোন পাওয়া যায় এবং নগদ অর্থ পাওয়া যায়। ধস্তাধস্তির কারনে ছিনতাইকারি মহিলার কাছ থেকে বেশকিছু টাকা এবং টাকার ব্যাগ মার্কেটের ফ্লোরে পরে যায় সেই অর্থ উদ্ধার করে এক ব্যাক্তি পৌছে দিতে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকেও ছিনতাইকারীর সদস্য মনে করে গনধোলাই দেয়। পরে জানা যায় সেই পুরুষ ব্যাক্তি ছিনতাইকারি না, তিনি টাকা পরে থাকতে দেখে সেসব অর্থ এবং ব্যাগ বুঝিয়ে দিতে এসেছিলেন।

পরবর্তীতে আটককৃত মহিলা ছিনতাইকারিকে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের কাছে হস্তান্তর করা হয় এসময় বেশ কিছু মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ এবং ব্যাগ ছিলো ছিনতাইকারি মহিলার কাছে। যদি কারও মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়ে থাকে অনুগ্রহ করে ফরিদপুর কোতওয়ালি থানায় যোগাযোগ করে দেখতে পারেন ছিনতাইকৃত ফোনের মধ্যে আপনার ফোনও আছে কি না।

0

বেশকিছুদিন পানি পাচ্ছেন না যেসব ফরিদপুর পৌর এলাকার বাসীন্দারা

অনেকেই ফরিদপুর সিটি পেজ এবং ফরিদপুর লাইভ গ্রুপে পৌর কৃর্তপক্ষেরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে পানি সরবরাহের সমস্যার জন্য পোস্ট করে আসছেন । তাই ফরিদপুর সিটি পেজ একটি পোস্ট দিয়ে জানতে চায় কোন কোন এলাকায় পানি সরবরাহ হচ্ছে না উক্ত পোস্ট দেখে ফরিদপুর পৌরবাসীরা কমেন্ট করে নিজ নিজ এলাকার সমস্যার কথা জানান সেসকল কমেন্ট থেকে এলাকার নাম এবং কতদিন পানি সরবরাহ হচ্ছে না বিস্তারিত তথ্য হুবহু তুলে ধরা হলো পৌর কর্তৃপক্ষের সুবিদার্থে । আশাকরি পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ে সমস্যার সমাধান করে পৌরবাসীকে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করবেন। আমাদের এই প্রতিবেদনটি পৌর কর্তৃপক্ষ জানতে পারবেন কোন কোন এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ আছে এবং সেই সাথে কিছু অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে যাতে করে পৌরকর্তৃপক্ষ সে সকল অভিযোগ আমলে গ্রহন করে সমাধান প্রদান করেন। ইতিমধ্যে ফরিদপুর পৌরসভার প্রকৌশলী জনাব শিমুল দাস জানিয়েছেন যে ঝিলটুলিস্থ পানি সরবরাহ কেন্দ্রের দুটি মটর নষ্ট হওয়া এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তবে দ্রুত সমাধান পাবে পৌরবাসী।

যে সকল এলাকায় পানি সরবরাহ হচ্ছে না: পুব খাবাসপুর চরকমলাপুর,কমলাপুর লালের মোর থেকে বায়তুল আমান সড়কের দুই পাশ , বিশ্বাস পাড়া, লালের মোর থেকে পুরা হরিসভা , কালিখোলা মোর,হাড়োকান্দী (নূরু মিয়া সড়ক),নিলটুলী, খন্দকার সেলিম সড়ক,নিলটুলী, দক্ষিণ ঝিলটুলি, গুহ লক্ষীপুর তকি মোল্লা সড়ক, পুর্ব খাবাসপুর, হবেলী গোপালপুর পুলিশ লাইনের সামনের এলাকা, কমলাপুর মৃধা পাড়া সড়ক ১০ দিন যাবত পানি আসছে না, চরকমলাপুর, রামকৃষ্ণ মিশন এর সামনে, তেঁতুলতলা, কমলাপুর, মোল্লাবাড়ি সড়ক নতুন বাজার ,ভাটিলক্ষীপুর বাশার মিয়ার বাসা এলাকায় গত চার/পাচ দিন পৌর সভার সরবরাহ লাইনে কোনো পানি সরবরাহ নাই, ঝিলটুলি,মসজিদ বাড়ী সড়ক,, মাঝে মাঝে পানি থাকেনা ৪-৫দিন, গুহ লক্ষীপুর ,কুঠিবাড়ি কমলাপুর,টেপাখোলা এরিয়ায়, খোদাবক্স রোড, কমলাপুর মাটিয়া গোরস্থান, D.i.B বটতলা পাল পাড়া, মধ্য আলিপুর,বনিকবাড়ি সড়কেও পানি নাই, গোয়ালচামট ১ নং সড়ক, 25/26ওয়ার্ড বায়তুলআমান,

গোয়ালচামট ২ নং সড়কে নিয়মিত পানি সরবরাহ হচ্ছেনা। South Tapakhola, TB Hospital Ar Mour, রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে কোমরপুর পাম্প, চরকমলাপুর,রামকৃষ্ণ মিশনের অপর পাসে সহিদ সালাউদ্দিন রোডে আজ ১৫ দিন পানীয়জল নেই বললেই চলে।

কিছু অভিযোগ:

পূর্ব খাবাসপুর তালতলা পূর্বকনারে গত ১ বছর যাবত একদম পানি সরবরাহ হচ্ছেনা।

গত ২/৩ বছর যাবত পানি পাই না কিন্তু পানির বিল দেয়া মাফ নাই

অনেকবার পৌরসভাতে গিয়েও কোন কাজ হয় নাই

গোয়ালচামট ১ নং সড়ক। বাবুল ক্যাপ্টেনের বাসার এই রাস্তায় যতগুলান বাসা আছে। একটা বাসায় ও নিয়মিত পানি আসেনা প্রায় দেড় মাস ধরে। পৌরসভায় বার বার বলার পরেও কোন কাজ হয়নি।

গুহলক্ষিপুর প্রায় ৬/৭ বছর যাবত পানি আসেনা

দক্ষিন টেপাখালো টিবি হসপিটাল মোড়। পানি পাচ্ছি না প্রায় ২ বছরের বেশি৷ কেউই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না অবহেলিত অবস্থায় আছে

পূর্ব কমলাপুর (লালের মোড়) পলিটেকনিক্যাল রোড পৌরবাসীগন বিগত ১০ বছর যাবত পৌর পানির সমস্যায় ভুগচ্ছে। এই সমস্যা নিয়ে আমি নিজে অনেকবার মেয়রের কাছে গিয়েছি,ডিসির কাছে গিয়েছি।তাদের কাছে পৌরপানির জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু তার কোনো সমাধান এখনও মিলে নাই। মাস গেলে সঠিক সমায় পানির বিল পরিশোধ করে যাচ্ছি ১০ বছর ধরে। অতি দুঃখে বলতে হচ্ছে আমারা অযোগ্য পৌরসভার অধীনস্ত হয়ে বসবাস করছি।

দক্ষিণ কমলাপুর ফরিদপুর সরকারি কলেজের পাশে গত বছর থেকে বন্ধ।

এক বছর পানি ব্যাবহার না করে বিল পরিশোধ করে আসছিলাম। তার পরেও লাইন ঠিক হয় নাই অবশেষে এই মাসে লাইন কাটার আবেদন করি লোকেশন ইদগাহ রোড,কমলাপুর।

আমি ১৭নং ওয়াডের বাসীন্দা ২০১১সাল থেকে আজ পুযন্ত লাইনে পানি পাইনী অথচ পৌরসভা আমাদের কাছ থেকে পানীর বিল আদায় করে নিচ্ছে।

পানির সমস্যা ৮/৯ বছর যেটুকু আসতো ১৫ দিন ধরে তাও আসে না, ডি আই বি বটতলা, কমলাপুর,

ফেসবুক কমেন্ট থেকে সংগৃহীত সমস্যা এবং অভিযোগগুলো তুলে ধরা হলো সত্যতা অনুসন্ধান করে আশাকরি পৌর কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

0

ফরিদপুর জেলা মহিলা কাবাডি দল ৩য় স্থান অধিকার করেছে

ফরিদপুর জেলা মহিলা কাবাডি দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।”বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস ২০২০ – প্রতিযোগীতায় ৩য় স্থান অধিকার করেছে।

আজ তারা ৩য় স্থান অধিকার করেছে আশা রাখি তারাই একদিন ১ম স্থান অধিকার করে আনবে ফরিদপুরের জন্য।শুধু দেশে নয় তারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফরিদপুর তো বটেই বাংলাদেশকে গর্বিত করবে।মহিলা কাবাডি দলের খেলোয়ার রুমি আক্তার জানান ফরিদপুরে একটা একাডেমী থাকলে ইনশাআল্লাহ আরো ভালো কিছু করবো । আমরাও তার সাথে ফরিদপুরের মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব অতুল সরকার স্যারের প্রতি এবং ক্রিড়া একাডেমির সাথে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যেনো ফরিদপুরের মহিলা কাবাডি দলের জন্য একটি একাডেমির ব্যবস্থা করা হয় তাদেরকে উৎসাহিত করলে তারাই কিন্তু দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।অভিনন্দন ফরিদপুর জেলা মহিলা কাবাডি দলের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে।

0

ফরিদপুরে দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান আজ থেকে শুরু

সারাদেশের মতো ফরিদপুরেও আজ থেকে শুরু হয়েছে কোভিড ১৯ এর ২য় ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি।

আজ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে টিকাদান কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক জনাব অতুল সরকার,ফরিদপুর পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আলিমুজ্জামান বি পি এম সেবা,ফরিদপুর সিভিল সার্জন ডা. মোঃ ছিদ্দুকুর রহমান, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম, প্রথম আলোর প্রতিনিধি জনাব পান্না বালা এছাড়াও ফরিদপুর জেলা প্রশসনের অন্যান্য কর্মকর্তা।

ভ্যাকসিন কার্যক্রমটি বরাবরের মতো রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেচ্ছাসেবীরা সহযোগীতা করছেন, সারা দেশে ১ হাজার ১৫টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দুকুর রহমান জানান আমরা ৪২ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছি আজ থেকে ফরিদপুরের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একযোগে এই ভ্যাকসিন প্রদান শুরু হয়েছে । তিনি আরও জানান ফরিদপুরে ১ম ডোজে ৫৯ হাজার ৫২২জনকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছিলো ।

ভ্যাকসিন গ্রহণ বিষয়ে কিছু সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জনসাধারণের উদ্দেশে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, 

  1. ৮ই এপ্রিল থেকে এসএমএস পাওয়া সাপেক্ষে দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে,
  2. যারা প্রাপ্য হবেন তাদের মোবাইল ফোনে এসএমএস চলে যাবে,
  3. যাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার পর দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু এসএমএস পাননি তারা অবশ্যই টিকা কার্ড, এবং টিকা কার্ডের ফটোকপি নিয়ে টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন,
  4. দ্বিতীয় ডোজের জন্য আগত সবাইকে টিকা কার্ড এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসতে হবে,
  5. কারও টিকা কার্ড হারিয়ে গেলে কিংবা কোনও কারণে নষ্ট হয়ে গেলে অনলাইন থেকে পুনরায় কার্ড ওঠানো যাবে,
  6. ২ মাস পূরণের আগে ২য় ডোজের ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে না, তবে পরে নেওয়া যাবে (১২ সপ্তাহ পর্যন্ত),
  7. রেজিস্ট্রেশনকৃত হজ যাত্রীদের বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেই রেজিস্ট্রেশন করে ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। (এমন হজযাত্রীর সংখ্যা প্রায় ( ৬০ হাজার)। তাদের দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করে ভ্যাকসিন নিতে বলা হয়েছে। সৌদি আরবের হজ কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ভ্যাকসিন গ্রহণের প্রমাণপত্র ছাড়া এবছর হজে অংশ নিতে দেওয়া হবে না),
  8. ১ম ডোজের টিকা দেওয়ার কর্মসূচি আগের মতোই এমনকি রমজান মাসেও অব্যাহত থাকবে তাই প্রথম ডোজের টিকা নেওয়ার জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে নির্ধারিত দিনে নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে,
  9. পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন আছে, শেষ হওয়ার ভয়ে কেউ ভীত হবেন না, গুজবে বিশ্বাস করবেন না,
  10. রোজা রেখে ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে,
  11. কেন্দ্র পরিবর্তন করে  দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে না।
  12. টিকা কেন্দ্রে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরে আসতে হবে এবং প্রত্যেক টিকা গ্রহণকারীকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
0

কোভিড ১৯ এ দুজন মৃত্যুবরন করেছেন ফরিদপুরে গত ২৪ ঘন্টায়

কোভিড ১৯ এ দুজন মৃত্যুবরন করেছেন ফরিদপুরে গত ২৪ ঘন্টায় এ নিয়ে ফরিদপুর জেলায় মোট মৃতুর সংখ্যা দাড়ালো ১৩১ জন , গত ২৪ ঘন্টায় ফরিদপুর জেলায় নতুন শনাক্ত ৩৬ জন, ফরিদপুর সদর-২৬,ভাঙ্গা -৩,বোয়ালমারী – ২,নগরকান্দা-৪,সদরপুর – ১, মোট শনাক্ত-৯১২৩ জন। গত ২৪ ঘন্টায় ফরিদপুরে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৪৫টি তার মধ্যে পজিটিভ ৩৬টি। গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভতির্ হয়েছে ১৬ জন, হাসপতালে ভতির্ আছেন ৭০ জন, হোম আইসোলেশনে আছে ৩৯৭ জন।