ফরিদপুরের ব্যাক্তিত্ব

জমিদার রাজেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরী

রাজেন্দ্র বাবু জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ১২৫৮ সনে, তারিখ জানা যায়নি। তার পিতার নাম নীলকন্ঠ রায় চৌধুরী। রাজেন্দ্র বাবুরা দুই ভাই ও দুই বোন ছিলেন। নয়া বাড়ি গ্রাম নিবাসী বাউল চন্দ্র সাহার কন্যার সাথে ১২৭৫ সনে বিবাহে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এই বিবাহিত সুখী হতে পারলেন না বিবাহের তার স্ত্রী উৎকট রোগে আক্রান্ত হইল নানা চিকিৎসা করেও কোন ফল পাওয়া গেল না। এই অসুবিধার মধ্য দিয়ে কিছু বছর কেটে গেলো। পরে ১২৮২ সনে ফরিদপুর নিবাসী জমিদার বৈকুণ্ঠ নাথ চৌধুরী এর কন্য কামিনী সুন্দরী চৌধুরীকে বিবাহ করলেন। নীলকন্ঠ বাবুর মৃত্যুর পরে তাদের বৈদেশিক সম্পত্তি কার্য চলতে থাকলো কিন্তু আয় ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকলো উপযুক্ত পরিদর্শনের অভাবে এমনটা হয়েছে বলে তার মা মনে করেছেন। তাই তিনি এখন থেকে বাইরে সম্পত্তি দেখভাল করার জন্য তার ছেলেকে পাঠাবেন বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। রাজেন্দ্র বাবু ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। তিনি বিদেশে যাবেন বলে কোন চিন্তাভাবনা করলেন না বরং জমিদারি এলাকা পরিদর্শন করবে বলে হৃদয়ে আনন্দ হইলো। রাজেন্দ্র বাবু সেখানে যাবেন বলে সেখানকার কর্মচারীদের প্রস্তুত থাকতে বললেন। একদিন শুভ লগ্নে নৌকায় করে যাত্রা করলেন। তারে দেখার জন্য অসংখ্য লোক ঘাটে অবস্থান করল। সেখানে পৌঁছায় তিনি তার আসন গ্রহণ করলেন। তার লোক সমাজে আলাপ করার দক্ষতা ছিল অত্যন্ত বেশি।তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এবং লাভজনকভাবে সেখানে জমিদারি করেছেন। কিছুদিন থাকার পরে তিনি ১২৮৯ সালে চৈত্র মাসে ৩২ বছর বয়সে রাজেন্দ্র বাবু হঠাৎ চক্ষু আক্রান্ত হয়ে ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেন অনেক বেশি। রাজেন্দ্র বাবুর কোন পুত্র সন্তান ছিল না তার মেয়ে ছিলো। ১৩০০ সনে ২০ চৈত্র তারিখে সন্তান দত্তক গ্রহণ করেন। এই পুত্রের নাম রাখেন রমেশ চন্দ্র রায় চৌধুরী। এভাবে কেটে গেল অনেক দিন।একদিন হঠাৎ জ্বর ও উদারাময় রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলেন। নানা দেশের বড় বড় ডাক্তার কবিরাজগণ এতো চিকিৎসা করল কিন্তু তাতে তেমন কোন উপশম হলো না। তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হতে থাকলো এবং ব্যাধি সবল হতে থাকলো। অনেকদিন পর্যন্ত জ্বরে ভুগতে থাকলো। রোগের অবস্থা খারাপ দেখে চিকিৎসগন বিশেষ নিয়ম নির্ধারণ করলেন কিন্তু রাজেন্দ্র বাবু সঠিক নিয়ম নীতি মানলেন না। (সোমবার, ১১ মার্চ ১৯০১ খ্রীস্টাব্দ) ১৩০৭ সনের ২৫ শে ফাল্গুন তারিখে সংসারের মায়া ত্যাগ করে পরলোক গমন করলেন