রেডিও
একটা সময় ছিল, যখন ঘরের এক কোণে রাখা এই রেডিওটাই ছিল জানালার মতো—বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে একমাত্র যোগাযোগ।
সকালে হলেই রেডিওর নব (বাটন) ঘোরানো হতো। একটু শোঁ শোঁ শব্দ, তারপর ভেসে আসত পরিচিত কণ্ঠ—খবর, কিংবা কোনো অচেনা গানের সুর।

এই রেডিও শুধু যন্ত্র ছিল না, সন্ধ্যার পর সবাই কাজ শেষ করে জড়ো হতো এর চারপাশে। কারও অনুরোধে গান, আবার কখনো খেলার ধারাভাষ্য—সবই আসত এই একটিমাত্র বাক্স থেকে। বিদ্যুৎ না থাকলেও চিন্তা ছিল না; ব্যাটারিতে চলা রেডিও তখন ভরসার নাম।
রেডির গায়ে জমে থাকা ধুলো আসলে বয়সের ছাপ নয়, বরং সময়ের সাক্ষ্য। প্রতিবার চালু হলে মনে হয়—সবকিছু বদলালেও কিছু জিনিস থেকে যায়, ঠিক এই রেডিওগুলোর মতো।

অতীতকে হাত দিয়ে ছোঁয়া না গেলেও, এই রেডিওর শব্দে আজও পুরনো স্মৃতি অনুভব করা যায়। ফরিদপুর সদর উপজেলার স্টেশন রোড ফুটপাত দিয়ে যাবার সময় আপনার কানে ভেসে আসবে বাংলাদেশ বেতার অথবা বিবিসি বাংলা।
এসব রেডিওর কোনোটি ১৯৮৫ সালে,কোনোটি কেনা ১৯৯০ সালের দিকে যা আজও সচল আছে।
সময় বদলেছে।
আধুনিক যুগে রেডিও,, ক্যাসেটের জায়গা নিয়েছে মোবাইল। তবু আশ্চর্যজনকভাবে, এই পুরোনো রেডিওটি আজও সচল। নব ঘোরালেই এখনো সেই পরিচিত শব্দ, সেই চেনা অনুভূতি। বিনোদনের একমাত্র মাধ্যমটিকে তারা আজও পরম যত্নে আগলে রেখেছেন। কাজের ফাকে এই যন্ত্রটিই তাদের একমাত্র সঙ্গী হয়ে আছে। নিয়মিত শোনা হয়—হয়তো আগের মতো সবাই মিলে নয়, কিন্তু মন দিয়ে।
ধন্যবাদ জানাই আপনাদের অতীতের এই বিনোদন যন্ত্রটিকে ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছেন।

তথ্যচিত্রে ফরিদপুর সিটি অর্গানাইজেশন
সহযোগিতায় আহসান হাবীব বাপ্পি (মডারেটর)
ফরিদপুরকে দেখুন ফরিদপুরকে জানুন।




Recent Comments